ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬

কাজের ব্যস্ততায় কফির কাপে একটু স্বস্তি

কাজের ব্যস্ততায় কফির কাপে একটু স্বস্তি
×

ছবি: চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:০৩

কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক মিটিং কিংবা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা— অফিসজীবনে ক্লান্তি যেন নিত্যসঙ্গী। এমন সময়ে অনেকেরই হাত বাড়ে এক কাপ কফির দিকে। কারও কাছে কফি কাজের ফাঁকে একটু স্বস্তির মুহূর্ত, কারও কাছে আবার ঘুমঘুম ভাব কাটিয়ে কাজে মনোযোগ ফেরানোর সঙ্গী। অফিসকেন্দ্রিক জীবনে তাই কফির উপস্থিতি দিন দিন আরও পরিচিত হয়ে উঠছে।

আগে অফিসে বিরতির সময় চায়ের কাপই ছিল সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্য। এখন অনেক কর্মীর পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কফিও। অফিসের ক্যানটিন, পাশের কফিশপ কিংবা কর্মস্থলের কফি মেশিন— বিভিন্নভাবেই কর্মীদের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কফি।

কাজের ফাঁকে এক কাপ কফি

দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করার পর ছোট একটি বিরতি কর্মীদের জন্য স্বস্তির হয়ে উঠতে পারে। সেই বিরতিতে কেউ চা পান করেন, কেউ কফি। বিশেষ করে কম্পিউটারের সামনে দীর্ঘ সময় কাজ করা কর্মীদের মধ্যে কফি পানকে অনেকে ছোট্ট বিরতির অংশ হিসেবে দেখেন। এক কাপ কফি হাতে নিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য ডেস্ক থেকে উঠে দাঁড়ানো, সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলা কিংবা জানালার পাশে বসে থাকা—ব্যস্ত কর্মদিবসে এই সময়টুকুই অনেকের কাছে মানসিক বিরতি হয়ে ওঠে।

ঘুমঘুম ভাব কাটাতেও কফি

কফির অন্যতম পরিচিত উপাদান ক্যাফেইন। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে এবং সাময়িকভাবে সতেজতা অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। এ কারণেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর কিংবা দুপুরের খাবারের পর অনেকেই কফি পান করেন। বিশেষ করে যাদের দীর্ঘ সময় অফিসে থাকতে হয়, তাদের কাছে দুপুরের পর এক কাপ কফি দিনের বাকি সময়টা কাজ চালিয়ে যাওয়ার একটি পরিচিত অভ্যাস হয়ে উঠেছে। তবে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ করলে উল্টো অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা ঘুমের সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখাও জরুরি।

কফি ঘিরে সহকর্মীদের আড্ডা

অফিসে কফির গুরুত্ব শুধু কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক সময় কফি হয়ে ওঠে সহকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগের একটি উপলক্ষ। কাজের চাপের মাঝেও কয়েক মিনিটের কফি বিরতিতে সহকর্মীরা নিজেদের মধ্যে গল্প করেন, দিনের কাজ নিয়ে আলোচনা করেন কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় ভাগ করে নেন। একই সঙ্গে কফি বিরতি কর্মক্ষেত্রের একঘেয়েমি কাটানোর সুযোগও তৈরি করে। দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে থাকার পর সহকর্মীদের সঙ্গে কয়েক মিনিটের অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা অনেকের কাছে কাজের চাপ থেকে সাময়িক স্বস্তি এনে দেয়।

অফিসের পাশেই কফিশপ

শহরের বিভিন্ন কর্মব্যস্ত এলাকায় অফিসপাড়ার আশপাশে কফিশপের উপস্থিতিও চোখে পড়ছে। অফিস শুরুর আগে দ্রুত এক কাপ কফি, দুপুরের বিরতিতে সহকর্মীদের সঙ্গে কফি কিংবা কাজ শেষে কিছুক্ষণ বসে থাকা— বিভিন্ন প্রয়োজনে এসব জায়গা ব্যবহার করছেন কর্মীরা। কেউ শুধু কফি পান করতেই যান, আবার কেউ কফির সঙ্গে হালকা খাবার নিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটান। ফলে অফিসকেন্দ্রিক মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সঙ্গে কফিশপের সম্পর্কও তৈরি হচ্ছে।

কফি কি কাজের গতি বাড়ায়?

কফি পান করলে সাময়িকভাবে সতেজতা ও সজাগতা বাড়তে পারে। তবে কফি খেলেই কাজের দক্ষতা বা উৎপাদনশীলতা নিশ্চিতভাবে বেড়ে যাবে— এমন ধারণা ঠিক নয়। ব্যক্তিভেদে ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতাও আলাদা। কারও জন্য এক কাপ কফি মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়ক মনে হতে পারে, আবার অন্য কারও ক্ষেত্রে বেশি কফি অস্বস্তি বা অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই কাজের চাপ সামলাতে কফিকে একমাত্র উপায় হিসেবে না দেখে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত বিরতি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

কফির অভ্যাসে সতর্কতাও জরুরি

অফিসের ব্যস্ততার কারণে অনেকে দিনে একাধিকবার কফি পান করেন। কিন্তু দিনের শেষভাগে বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে রাতে ঘুমে সমস্যা হতে পারে। আবার খালি পেটে অতিরিক্ত কফি পান করলেও কারও কারও অস্বস্তি হতে পারে। তাই কফি পান করার ক্ষেত্রে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ কোনো শারীরিক সমস্যা থাকলে বা কফি পান করে অস্বস্তি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কাজের ব্যস্ততায় কফি, তবে বিরতিটাই আসল

অফিসজীবনে কফির জনপ্রিয়তা শুধু ক্যাফেইনের কারণে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কাজের ফাঁকে একটু থামা, সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা এবং ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জন্য কয়েক মিনিট সময় বের করে নেওয়ার অভ্যাস।

এক কাপ কফি হয়তো পুরো কর্মদিবসের ক্লান্তি দূর করতে পারে না। তবে ব্যস্ত ডেস্ক থেকে কয়েক মিনিটের বিরতি নিয়ে কফির কাপে চুমুক দেওয়ার সেই ছোট্ট মুহূর্ত অনেকের কর্মদিবসের পরিচিত অংশ হয়ে উঠেছে। কাজের চাপের মাঝেও তাই কফি এখন শুধু একটি পানীয় নয়, বরং অফিসজীবনের ছোট ছোট বিরতিরও সঙ্গী।
 

আরও পড়ুন

×