ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হোটেল রুম নোংরা ও জারিমানার অভিযোগ, জেমস সেখানে ছিলেনই না

হোটেল রুম নোংরা ও জারিমানার অভিযোগ, জেমস সেখানে ছিলেনই না
×

জেমস। ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:০৩ | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ | ১৫:০৯

ইউরোপ সফরে আছেন রকস্টার মাহফুজ আনাম জেমস। সফরের অংশ হিসেবে ইতালির রাজধানী রোমে কনসার্ট করতে গিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে তৈরি হয়েছে নানা অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। এর মধ্যে হোটেল কক্ষ অগোছালো ও নোংরা করে রেখে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এ কারণে পরিচ্ছন্নতার জন্য হোটেল কর্তৃপক্ষ ২০০ ইউরো জরিমানা দাবি করেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

বিষয়টি নিয়ে রোম থেকে একের পর এক ভিডিও বার্তা দিয়েছেন কনসার্টের আয়োজকরা। এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তৈরি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। এমনকি জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা হোটেল থেকে ‘পালিয়ে’ গেছেন—এমন অভিযোগও করেছেন আয়োজকদের কেউ কেউ।

এমন পরিস্থিতিতে রোমের পর ভেনিসে কনসার্ট করতে গিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মুখ খুলেছেন জেমস। হোটেল কক্ষ নিয়ে ওঠা অভিযোগকে বড় করে দেখার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কোনো অভিযোগের ভিত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেছেন এই রকস্টার।

 জেমস বললেন, এটা কোনো বিষয়ই না

রোমের হোটেলে কক্ষ নোংরা করে যাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জেমস জানান, তাঁদের দলের সঙ্গে অতিথিশিল্পী হিসেবে যুক্ত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এক তরুণ গিটারিস্ট ও কিবোর্ডশিল্পী। অভিযোগের সূত্রপাত যে ৫৪৯ নম্বর কক্ষকে ঘিরে, সেটি ওই অতিথিশিল্পীর জন্য বরাদ্দ ছিল।

জেমস বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে অতিথিশিল্পী হিসেবে একজন ইয়াং মিউজিশিয়ান গিটার ও কীবোর্ড বাজাতে আমেরিকা থেকে এসেছে। হোটেলগুলোর নিয়মই থাকে তাদের একটা নির্দিষ্ট সার্ভিস দেওয়ার। আর ও বয়সে তরুণ, হয়তো রুম পুরোপুরি গুছিয়ে বা ক্লিন করে রাখেনি।’

বিষয়টিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি প্রতিদিন রুম পরিষ্কার করতে না চায় কিংবা নোংরা হয়, ক্লিনিংয়ের তো একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া থাকেই। আর ইয়াং ছেলেমানুষ, অনেক মিউজিশিয়ানই তো রুম এলোমেলো রাখে। এটা এত বড় বিষয় করার কিছু নেই।’

হোটেল কর্তৃপক্ষ ২০০ ইউরো জরিমানা দাবি করেছে—এমন প্রসঙ্গে জেমস বলেন, ‘যদি ওরা ২০০ ইউরোর মতো ফাইন করেও থাকে, তবে সেটাও নতুন কিছু না। অনেকেই রুমে সিগারেট খেলে বা নিয়ম ভাঙলে ১০০, ২০০ বা ৫০০ ডলার ফাইন দিয়ে চলে যায়। একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। এ নিয়ে যেভাবে কথা হচ্ছে, সত্যি বলতে এটা তেমন কোনো বড় ঘটনা বা ইস্যু হওয়ার মতো বিষয়ই না।’

 এসব কথার ভিত্তি নেই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন জেমস। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা যখন ভেনিসে চলে এসেছি, তখন এই কথাগুলো উঠছে। এখন শুধু সোশাল মিডিয়ার যুগ, সবারই স্বাধীনতা আছে সেখানে বিভিন্ন কিছু লেখার। মানুষ যা মন চায় লিখতে পারে। এমনকি বড় বড় রাজনীতিবিদদের নিয়েও তো কত কিছু লেখা হয়! কিন্তু তথ্য-প্রমাণ ছাড়া এসব কথার কোনো ভিত্তি থাকে না।’

জেমসের দাবি, তাঁরা নিয়ম মেনেই হোটেল থেকে চেকআউট করেছেন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে চাবিও বুঝিয়ে দিয়েছেন। হোটেল থেকে নিয়ম না মেনে কিংবা রিসেপশনের সঙ্গে যোগাযোগ না করে চলে যাওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। জেমস বলেন, ‘ইতালিতে এমন ঘটনা ঘটলে হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের আটকানোর ব্যবস্থা নিতে পারত এবং তাদের পাসপোর্টও হোটেলে দেওয়া ছিল।’

পারিশ্রমিক নিয়ে অভিযোগ

হোটেল বিতর্কের পাশাপাশি রোমের কনসার্টের পারিশ্রমিক নিয়েও তৈরি হয়েছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। সংবাদ সম্মেলনে জেমসের মুখপাত্র ও ব্যবস্থাপক রুবাইয়াত ঠাকুর রবিন অভিযোগ করেন, চুক্তি অনুযায়ী জেমসের মঞ্চে ওঠার আগে ৩০ হাজার ইউরো পারিশ্রমিক পরিশোধের কথা থাকলেও আয়োজকরা পুরো অর্থ দেননি।

রবিনের দাবি, মঞ্চে ওঠার আগে তিনি আয়োজকদের কাছে বকেয়া অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়েছিলেন। এ সময় তাঁকে ‘হয়রানির মুখে পড়তে হয়’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কনসার্টের ভেন্যুতে তখন প্রায় দুই থেকে তিন হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। জেমসের মঞ্চে উঠতে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত পুরো অর্থ পরিশোধ ছাড়াই তাঁকে মঞ্চে উঠতে হয় বলে জানান রবিন।

তবে আয়োজকদের বক্তব্য ভিন্ন। কনসার্টের আয়োজক প্রতিষ্ঠান এবিজেনের প্রধান হোসাইন আহমেদ মোয়াজের দাবি, ৩০ হাজার ইউরোর চুক্তির মধ্যে জেমসের দলকে ২৪ হাজার ইউরো পরিশোধ করা হয়েছিল। বাকি ৬ হাজার ইউরো টিকিট বিক্রির ক্যাশ কাউন্টার থেকে দেওয়ার কথা ছিল।

মোয়াজের অভিযোগ, রাত ৯টায় জেমসের মঞ্চে ওঠার কথা থাকলেও এর আগে তাঁর ম্যানেজার ক্যাশ কাউন্টারে গিয়ে বাকি অর্থ দাবি করেন। পরে অর্থ পরিশোধ নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে জেমসের মঞ্চে উঠতে দেরি হয়। দর্শকদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে রাত প্রায় ১০টার দিকে জেমস মঞ্চে ওঠেন বলে দাবি আয়োজকের।

হোটেল নিয়ে আয়োজকের অভিযোগ

রোমে গত ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় জেমসের কনসার্ট। আয়োজকের অভিযোগ, কনসার্ট শেষে জেমস ও তাঁর সফরসঙ্গীরা হোটেল কক্ষ অপরিষ্কার অবস্থায় রেখে যান। এ কারণে হোটেল কর্তৃপক্ষ ২০০ ইউরো জরিমানা দাবি করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে একটি কক্ষে পানির বোতল, আবর্জনা, ব্যবহৃত প্লেট ও খাবারের উচ্ছিষ্ট পড়ে থাকতে দেখা যায়। রান্নাঘরেও ডিম ও নোংরা থালা-বাসন দেখা গেছে বলে দাবি আয়োজকদের। তবে এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অপপ্রচার’ বলে দাবি করেছেন জেমসের ব্যবস্থাপক রবিন।

আমরা হোটেলেই ছিলাম না

রবিন জানান, তাঁদের দলের জন্য হোটেলে মোট চারটি কক্ষ বরাদ্দ ছিল। জেমস ছিলেন ৩৪৫ নম্বর কক্ষে, তিনি নিজে ছিলেন ২৪৬ নম্বর কক্ষে, ব্যান্ডের নিয়মিত সদস্যরা ছিলেন ১৪৪ নম্বর কক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা অতিথিশিল্পী ছিলেন ৫৪৯ নম্বর কক্ষে।

রবিন বলেন, ‘আমরা ১৯ তারিখে সব নিয়ম মেনে পাসপোর্ট-এনআইডি জমা দিয়ে হোটেল থেকে চেকআউট করি। তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা চলে যাওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর আয়োজককে নাকি জানানো হয়েছে ৫৪৯ নম্বর কক্ষটি অপরিষ্কার। অথচ সেই কক্ষে জেমস ভাই বা আমি কেউই ছিলাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্য সফরসঙ্গীদের ব্যক্তিগত কক্ষ বা বাথরুম ব্যবহারের দায়ভার তো জেমস ভাই বা আমার একার পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়।’

সামনে নতুন কনসার্ট

রোমের বিতর্ককে পেছনে রেখে ইউরোপ সফরের পরবর্তী কনসার্টের প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘নগরবাউল’। আগামী ২৩ আগস্ট ভেনিসে কনসার্ট করবে জেমসের দল। সেখানকার বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেমস বলেন, ‘প্রিয় ভেনিসের বাংলা ভাষাভাষী, আপনাদের ২৩ তারিখে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা একটা সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেব এবং সবাই মিলে একটা সুন্দর আনন্দ করব।’

ভেনিসের পর ইতালির আরও কয়েকটি শহরে কনসার্ট করবে ‘নগরবাউল’। এরপর আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সুইডেনে কনসার্ট করার কথা রয়েছে তাদের। ইউরোপ সফর শেষে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা জেমস ও তাঁর দলের।

আরও পড়ুন

×