ধার করে চলছে বিএনপি!
কামরুল হাসান
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ০৭:০৫
আর্থিক সংকটে বেকায়দায় আছে বিএনপি। ধার করে নিত্যদিনের খরচ জোগাতে হচ্ছে দলটিকে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্নিষ্ট নেতারা। তাই এবার ব্যয় নির্বাহ করতে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মাসিক চাঁদা পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এজন্য নেতাদের চিঠিও দেওয়া হচ্ছে দলের দপ্তর থেকে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের মাসিক চাঁদা নিয়মিত পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অনেকে যথসময়ে চাঁদার টাকা সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক পরিশোধ করছেন। তবে অনেকের চাঁদা এখনও বকেয়া রয়েছে। এতে দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করায় সমস্যা হচ্ছে। চিঠিতে ১০ জানুয়ারির মধ্যে চাঁদা পরিশোধের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
গত ৭ ডিসেম্বর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। এ ছাড়া দপ্তরের প্রধান চারটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং অ্যাকাউন্ট বিভাগের কম্পিউটার ছাড়াও কার্যালয়ে রক্ষিত চাঁদার কয়েক লাখ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কাগজপত্র খোয়া গেছে। এসব ক্রয় করতে এবং কার্যালয়ের প্রতিদিনের খরচ জোগাতে নেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ধার করতে হয়েছে দলটিকে।
বিএনপির দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, নয়াপল্টন কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাসিক বেতন প্রায় ২ লাখ টাকা, মাসিক অফিস খরচ প্রায় অর্ধলাখ টাকা। গুলশান কার্যালয়েও বেতনসহ অফিস খরচ প্রায় ৩ লাখ টাকা। নেতাদের মাসিক চাঁদা থেকেই বেতন ও অফিস খরচ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু এবার এসব খরচের বাইরে কম্পিউটার, প্রিন্টার কেনা, ৭ ডিসেম্বর কার্যালয়ে ভেঙে ফেলা সব সিসি ক্যামেরা কেনা, প্রতিটি কক্ষের ভেঙে ফেলা দরজা মেরামত করা, আলমারি মেরামত করা ছাড়াও নির্যাতিত নেতাকর্মীর পরিবারকে আর্থিক অনুদান, বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যানার, পোস্টার, হল ভাড়া, লিফলেট ও ২৭ দফা রূপরেখার বই প্রকাশে অনেক টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। দলের তহবিল থেকে এসব ব্যয় মেটানো সম্ভব না হওয়ায় তাদের ধার করতে হয়েছে। তবে কী পরিমাণ টাকা ধার করা হয়েছে, তা জানা যায়নি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স জানান, দলের ফান্ডের জন্য চাঁদা দেওয়া গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। নতুন বছরের শুরুতে তাঁরা এটা সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এরই মধ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বছরের সমুদয় চাঁদা পরিশোধ করেছেন। অন্যরাও যাতে এটা পরিশোধ করেন এজন্য তাঁদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বিএনপির গঠনতন্ত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের জন্য মাসিক ১ হাজার টাকা, ভাইস চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টাদের জন্য মাসিক ৫০০ টাকা, সম্পাদকমণ্ডলীর জন্য ৩০০ টাকা, নির্বাহী সদস্যদের জন্য ১০০ টাকা চাঁদা ধার্য করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ নেতাই তাঁদের চাঁদা পরিশোধ করছেন না। চাঁদা পরিশোধে অপারগতা নিয়ে দলের গঠনতন্ত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা অনুসরণ করা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে আবেদন ছাড়াই বছরের পর বছর এমনকি কোনো কোনো নেতা প্রায় ২০ বছর ধরে দলের চাঁদা পরিশোধ করছেন না। কেন্দ্রীয় নেতাদের মতো তৃণমূল পর্যায়ের জেলা, উপজেলা, মহানগর, পৌর, ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটির নেতারাও চাঁদা পরিশোধ না করায় আর্থিক সংকটে পড়তে হচ্ছে সংশ্নিষ্টদের।
বিএনপি নেতারা জানান, দলের জাতীয় কাউন্সিলের পর অনেক নেতা মৃত্যুবরণ করেছেন। তাঁদের মধ্যেও অনেকের কাছে দলের বকেয়া টাকা রয়েছে। কিন্তু তাঁরা ইন্তেকাল করায় সেসব টাকা বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর বাইরে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, সম্পাদক, নির্বাহী সদস্য পর্যায়ের তিন শতাধিক নেতার কাছে প্রায় ১ কোটি টাকার মতো দলের চাঁদা বকেয়া রয়েছে।
নেতারা বলেন, মনোনয়ন ফরম বিক্রি, সদস্য ফরম বিক্রি ও অনুদান থেকে দলের ফান্ড গঠন করা হয়েছে। আয়ের উৎস কমে যাওয়ায় দলীয় ফান্ডের অবস্থাও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এমন অবস্থায় কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে বকেয়া চাঁদা আদায়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন হাইকমান্ড। বকেয়া আদায়ের জন্য একাধিকবার কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
- বিষয় :
- বিএনপি
- আর্থিক সংকট
- মাসিক চাঁদা
