ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

জনসমর্থন না পেয়ে দিশেহারা বিএনপি আবোল তাবোল বকছে: বাহাউদ্দিন নাছিম

জনসমর্থন না পেয়ে দিশেহারা বিএনপি আবোল তাবোল বকছে: বাহাউদ্দিন নাছিম
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৬:০০ | আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৬:০০

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, যে দল বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে বুটের তলায় পৃষ্ঠ করেছে এখন সারাক্ষণ তাদের মুখে গণতন্ত্রের কথা থাকে। এখন তাদের গণতন্ত্রের কথা বলার কোনো শেষ নেই। তাদের অসত্য ও মিথ্যাচারের কোনো শেষ নেই। তাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আজকে বলেছেন বাংলাদেশ নাকি তাদের আন্দোলনে দিশেহারা হয়েছে, সরকার নাকি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি কয়েকদিন আগে বলেছিলেন দেশ নাকি পাকিস্তান আমলে ভালো ছিল, আমরা এখন পাকিস্তান আমলের থেকে খারাপ আছি। বিএনপি নেতারা জনসমর্থন না পেয়ে দিশেহারা হয়ে নানা ধরনের আবোল তাবোল কথা বলছে। তাদের কথার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তারা দেশের মানুষের কল্যাণ নিয়ে কখনও ভাবে না। তাদের কোনো নীতি আদর্শ নেই।’

শনিবার বিকেলে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্বদ্যিালয় অডিটরিয়ামে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর পুনর্মিলনী ও বার্ষিক সাধারণ সভায় উদ্বোধকের বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘দেশের কোনো জনগণ এখন আর বিএনপির সাথে নেই। মানুষ তাদের কোনো কথাই বিশ্বাস করে না। তাদের শুধু আছেই বিদেশী প্রভুরা। কিছু হলেই তারা প্রভুদের কাছে ধর্না দেয় ও নালিশ করে। তারা সব সময় দেশের বিরুদ্ধে নালিশ করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের যে মর্যাদা রয়েছে সেটিকে ক্ষুণ্ন করতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অগ্রগতির পথে যেভাবে আমরা দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছি, সেই এগিয়ে যাওয়ার পথে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা বারবার দেখতে পায়। যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ও অগ্রযাত্রাকে সহ্য করতে পারে না ও মেনে নিতে পারে না তারাই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ওপর আঘাত আনতে চায়। এই দেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যে নির্মম হত্যাকাণ্ড খুনির দলেরা করেছে সেই খুনি দলের পক্ষের শক্তিরা দেশকে দ্বিখণ্ডিত করতে চায়। এ অপশক্তি আমাদের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে দিতে চায়। এরা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও হানাহানির রাজনীতি করে। এদের বিরুদ্ধে আমাদের সব সময় সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত সব সময় অসত্য ও মিথ্যাচার করে। এরা বাংলাদেশকে দেউলিয়া করেছিল, দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, লুটের রাজত্ব কায়েম করেছিল, দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে লেলিয়ে দিয়ে ও জঙ্গিবাদী শক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করে সিরিজ বোমা হামলার মত ঘটনা ঘটিয়েছে। এরাই ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করে জাতির পিতার সুযোগ্য সন্তান দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে চেয়েছে। এই খুনির দলেরা নতুন করে ষড়যন্ত্র করছে। এরা দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি সৃষ্টি করতে চায়। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা দেখলে এদের মাথা খারাপ হয়ে যায়, এর জন্য দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে এরা সব সময় ষড়যন্ত্র করে থাকে।’

কৃষিবিদদের উদ্দেশ্য করে বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘আমাদের মাঝে কোনো ধরনের অনৈক্য সৃষ্টি করা যাবে না। অনৈক্য দেশ ও জাতির জন্য ক্ষতিকারক। আমরা কোনো ক্ষতির দিকে যেতে চাই না। শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল। এ সব কিছু সম্ভব হয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার জন্য। আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছাত্রদের গবেষণায় আরও মনোযোগী হতে হবে এবং আমাদের কার্যক্রমকে আরও উন্নত করতে হবে। যে স্বপ্ন নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সে স্বপ্নপূরণে আমাদের কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি বলেন, ‘রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। সরকার সব ধরনের কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ মেনে সবাইকে কৃষিতে ভূমিকা রাখতে হবে এবং অনাবাদি জমিতে ফসলের চাষ করে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি কৃষিবিদ প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদের সভাপতিত্বে ও  মহাসচিব কৃষিবিদ মেজবাহ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া। সভায় তিন বছরের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য ফয়েজ আহমেদকে সভাপতি ও অফিসার্স ক্লাব ঢাকার সাধারণ সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত যুব ও ক্রীড়া সচিব মেজবাহ উদ্দিন আহমেদকে মহাসচিব করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এর ৪৩ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন হয়।

আরও পড়ুন

×