ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংসদ নির্বাচন: ঢাকা-৭

পুরান ঢাকায় পুরোনো সংকট

পুরান ঢাকায় পুরোনো সংকট
×

 তবিবুর রহমান

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:২৮ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৯:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৭ (লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর ও কোতোয়ালির একাংশ) আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। বিএনপির দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি দলের এক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোট ভাগাভাগি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জোটগত সিদ্ধান্তে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় জামায়াতে ইসলামী তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. হামিদুর রহমান হামিদকে। সাবেক যুবদলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইসহাক সরকার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে মাঠে রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হাফেজ এনায়েত উল্লাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে এনসিপির তারেক আহম্মেদ আদেল এবং মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন নির্বাচন থেকে আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন।

ভোটার চিত্র ও নাগরিক বাস্তবতা
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১, নারী দুই লাখ ৩০ হাজার ৮৮৩ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১২ জন। এই আসনে মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও তরুণ ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। কিশোর গ্যাং, মাদক, নিরাপত্তাহীনতা, চাঁদাবাজি এবং নাগরিকসেবার ঘাটতি নির্বাচনী আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

পুরোনো সংকট, নতুন প্রত্যাশা
গ্যাস ও পানির সংকট, সরু রাস্তা, যানজট এবং রাসায়নিক গুদামের ঝুঁকি পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা। গত মঙ্গলবার কথা হয় চকবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামানের সঙ্গে। তিনি বলেন, রাসায়নিক গুদাম উচ্ছেদ না হওয়ায় সব সময় আতঙ্কে থাকি। বড় কোনো দুর্ঘটনা হলে উদ্ধারকাজ করা কঠিন হয়ে যাবে। লালবাগের ভোটার আকলিমা খাতুন বলেন, দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা সবচেয়ে জরুরি। নির্বাচিত সরকারকে এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। চুড়িহাট্টা ও নিমতলী ট্র্যাজেডির স্মৃতি এখনও পুরান ঢাকার মানুষের মনে দাগ কেটে আছে। এবারের নির্বাচনে আমরা জনগণের সরকারকে বেছে নিতে চাই।

প্রচারে এগিয়ে জামায়াত, বিএনপির ভোট ভাগাভাগির শঙ্কা
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ায় জামায়াত তুলনামূলক আগে থেকেই মাঠে নামে। দলটির নারীকর্মীদের ঘরে ঘরে প্রচারণাও চোখে পড়ছে। বংশাল, চকবাজার ও নাজিরাবাজারের বিভিন্ন এলাকা ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। নাজিরাবাজারের বাসিন্দা মাহমুদ কমল বলেন, বিএনপিতে দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট ভাগ হয়ে যেতে পারে। এতে জামায়াতের একক প্রার্থী সুবিধা পেতে পারেন। বংশালের রাসায়নিক ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার বলেন, যারা মানুষের জন্য কাজ করবে, মানুষ তাদের বেছে নেবে।
নিয়মিত নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ইরানি মাঠে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লাহ। এখানে প্রায়ে সাড়ে ৫০০ মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। তিনি সমকালকে বলেন, প্রচার-প্রচারণা ভালোই চলছে। মানুষের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পাচ্ছি। মানুষ পরিবর্তন চায়। আগে যাদের ক্ষমতায় দেখেছে, তাদের আর দেখতে চায় না। আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করব। 

বিশুদ্ধ পানি, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি
মঙ্গলবার বিকেলে শহীদনগর ১ নম্বর গলি বেড়িবাঁধ খেলার মাঠে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন বিএনপি প্রার্থী হামিদুর রহমান। নিজেকে তুলে ধরছেন পুরান ঢাকার ঘরের সন্তান হিসেবে। প্রায় ৩৯ বছর ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃণমূল থেকেই আমার রাজনীতির পথচলা। আমি নির্বাচিত হলে গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা, পয়ঃনিষ্কাশন, যানজট, অগ্নিকাণ্ড ও মাদক নির্মূলে কাজ করব। 

শক্ত অবস্থানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক
কামরাঙ্গীরচরের মুসলিমবাগে ফুটবল মার্কার গণসংযোগে বিকেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসহাক সরকার অংশ নেন। এ সময় তিনি নিজেকে তুলে ধরছেন রাজপথের ত্যাগী নেতা হিসেবে। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে আমি ঢাকা-৭ আসনকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও উন্নত এলাকায় রূপ দিতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করব।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুর রহমান বলেন, নির্বাচিত হলে ইসলামপুর, চকবাজার, নয়াবাজার, ইসলামবাগ, সদরঘাটসহ ঢাকা-৭ আসনের সব এলাকায় ব্যবসাকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেব। 

জাতীয় পার্টির প্রার্থী হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, জয়ী হলে পুরান ঢাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাজ করব। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি রোধ এবং গ্যাস সংকট নিরসনে কাজ করে যাব। 

 

আরও পড়ুন

×