সংসদের শোক প্রস্তাবে যুদ্ধাপরাধীদের নাম, বিভিন্ন দল ও সংগঠনের ক্ষোভ
জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ১৯:২৯ | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ১৯:৩৫
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার ঘটনায় ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিভিন্ন দল ও সংগঠন।
শুক্রবার এসব দল ও সংগঠনের নেতারা পৃথক বিবৃতিতে এই ক্ষোভ জানান। শোক প্রস্তাব থেকে যুদ্ধাপরাধীদের নাম এক্সপাঞ্জ এবং জাতীয় সঙ্গীত অবমাননার যথাযথ শাস্তির দাবি জানান তারা।
গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতাদের বিবৃতিতে বলা হয়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধ। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের ঘাতক ও গণহত্যার নায়কদের পুনর্বাসনের জন্য নয়। সেই অভ্যুত্থানে যে তরুণ প্রজন্ম রক্ত দিয়েছে, তারা রাজাকারের পুনর্বাসন দেখতে রাস্তায় নামেনি। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের ঋণ মুছে ফেলার ক্ষমতা কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের নেই।
বিবৃতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজহারুল ইসলামকে সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেলে অন্তর্ভূক্ত করার প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে অবিলম্বে এই প্যানেল থেকে অপসারণের দাবি জানানো হয়।
বিবৃতিতে সই করেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, আব্দুল্লাহ ক্কাফী রতন, শরীফ নুরুল আম্বিয়া, নাজমুল হক প্রধান, ইকবাল কবির জাহিদ, মোশরেফা মিশু, মাসুদ রানা, আব্দুল আলী, রজত হুদা এবং সৈয়দ হারুন অর রশীদ।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ পৃথক বিবৃতিতে বলেন, সংসদে গণহত্যার সহযোগী স্বীকৃত রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের মানুষের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম থেকে উদ্ভূত গণচেতনা পদদলিত করার এক কলঙ্কময় নজির স্থাপিত হলো। জনগণ এ ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধ ও ৩০ লাখ শহীদের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা বলে মনে করে এবং ধিক্কার জানায় ।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী বিবৃতিতে বলেন, দণ্ডিত ঘাতক-যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব গ্রহণের ঘটনা ক্ষমার অযোগ্য। দেশের মানুষ এটা কখনই ভুলবে না।
বাসদের (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা বিবৃতিতে বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি দাবি করে ভোট চেয়েছে। সেই বিএনপির চিফ হুইপ সংসদের শোক প্রস্তাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী যুদ্ধাপরাধীদের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব করেন। এতে বিএনপি নিজেদের ভোটারদের সাথেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করল।
উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর একাংশোর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে আরেক বিবৃতিতে বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের মহিমান্বিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা এবং জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার বিরুদ্ধে প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
- বিষয় :
- জামায়াতে ইসলামী
- ওয়াকআউট
- যুদ্ধাপরাধী
