ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ব্যয় পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার টাকা
জাতীয় পার্টির লোগো। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ২০:০৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ব্যয় হয়েছে পাঁচ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে জাতীয় পার্টির পক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এই নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া হয়। দলের চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের পক্ষে হিসাব জমা দেন দলের অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভুঁইয়া।
জাতীয় পার্টির হিসাব বলছে, এবারের নির্বাচনে দলটির পক্ষ থেকে ১৯৬ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনী প্রচারণা বাবদ দলটি খরচ করেছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তবে প্রার্থীদের প্রচারণায় আলাদাভাবে কোনো টাকা বরাদ্দ দেয়নি জাতীয় পার্টি।
এতে বলা হয়, নির্বাচনে জনসভা বাবদ জাতীয় পার্টি খরচ করেছে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। আর কর্মী (স্টাফ) খরচ বাবদ দলটি ব্যয় করেছে ৬৫ হাজার টাকা।
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবে দলটি আরও জানিয়েছে, প্রাইম ব্যাংক পিএলসি বনানী শাখার একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দলটি নির্বাচনী ব্যয় করেছে। ওই অ্যাকাউন্টে এখন ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা আছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ১৯৬ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। ফলে দল হিসেবে এবারের সংসদ নির্বাচনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ের সুযোগ ছিল তাদের। কিন্তু দলটি করেছে তার ৬০ ভাগের এক ভাগ। এছাড়া সাধারণত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় প্রার্থীদের অনুদান দিলেও জাতীয় পার্টি এবারের নির্বাচনে এই খাতে কোনো ব্যয় দেখায়নি।
নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ১০১ থেকে ২০০ আসনে প্রার্থী দিলে কোনো দল নির্বাচনে তিন কোটি টাকা ব্যয় করতে পারে। এর বাইরে প্রার্থীরা আসনের ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী আলাদা ব্যয় করতে পারেন।
এর আগে মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছিল। তারা সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়েছে। নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো ফল দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী ত্রয়োদশ সংসদে বিরোধী দলের আসন নিয়েছে।
তবে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের গড়া জাতীয় পার্টি এবারের নির্বাচনে তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম সংসদে দলটির কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কালে অধিকাংশ সময় সংসদে বিরোধী দলের আসনে ছিল জাতীয় পার্টি। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও দলটিকে এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। যদিও জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া দলগুলোর পক্ষ থেকেই দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করাসহ তাদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার দাবি তোলা হয়। এমন প্রবল বিরোধিতার মুখে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় জাতীয় পার্টি। এরপরও নানা ঘটনাপ্রবাহের পর শেষ পর্যন্ত ১৯৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয় দলটি।
- বিষয় :
- জাতীয় পার্টি
- নির্বাচন
- নির্বাচন কমিশন
