অস্ত্র হাতে সংঘর্ষে জড়াল নেতাকর্মীরা
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কুমিল্লা, গলাচিপা, সীতাকুণ্ড ও মুন্সীগঞ্জে সংঘর্ষে আহত ৮০
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পটুয়াখালীর গলাচিপার কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লায় সংঘর্ষে পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছেন।
গলাচিপায় দফায় দফায় সংঘর্ষ
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে ঘিরে পটুয়াখালীর গলাচিপায় দলের দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। কালীবাড়ি, হাইস্কুল রোড, বটতলা ও ফিডার রোডসহ গলাচিপা পৌর শহর এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন।
দলীয় নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে ঘিরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার অনুসারী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বহিষ্কৃত সদস্য হাসান মামুনের অনুসারীরা পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে হাসান মামুনের অনুসারীরা পৌর শহরের সিনেমা হল এলাকায় এবং গোলাম মোস্তফার অনুসারীরা শহরের পৌর মঞ্চ এলাকায় অবস্থান নেয়।
দুপুর ১২টার দিকে দলীয় কার্যালয় থেকে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে সিনেমা হল এলাকার দিকে যায়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করেছিলেন মামুন গ্রুপের নেতাকর্মীরা। মোস্তফা পক্ষের নেতাকর্মীরা র্যালি নিয়ে শহরের চৌরাস্তা হয়ে সদর রোডের দিকে আসে। এ সময় হাসান মামুনের গ্রুপের উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সত্তার হাওলাদারের নেতৃত্বে আরেকটি র্যালি সিনেমা হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে সদর রোডের দিকে যাচ্ছিল। র্যালিটি বটতলা এলাকায় পৌঁছালে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষে ২০ জন আহত
বিএনপির দুপক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও বিএনপি অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বেলা ১টার দিকে সীতাকুণ্ড পৌর সদরের উত্তর বাইপাস এলাকায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ও দলের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথকভাবে কর্মসূচি আয়োজন করায় পুলিশ দুটি পক্ষকে আলাদা সময় বেধে দেয়। কাজী সালাউদ্দিনের পক্ষের লোকজনকে দুপুর ২টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার কথা বলা হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে মুনস্টার কনভেনশন সেন্টার চত্বরে অবস্থান নেয় আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা এবং উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব মোরছালীনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা। এ সময় সালাউদ্দিনের অনুসারীরা মুনস্টার ক্লাব থেকে দূরে হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন।
দুপুর ১টার দিকে আসলাম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। পাশাপাশি ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাদের ধাওয়া দেয়। এ সময় তিনটি মিনিবাস ভাঙচুর করা হয়। সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মহিনুল ইসলাম বলেন, গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি।
মুন্সীগঞ্জে পুলিশসহ আহত ১০
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা সদরের জমজম টাওয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলা ১১টার দিকে জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে আনন্দ মিছিল বের করার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলীর অনুসারীদের। অন্যদিকে বিকেল ৪টার দিকে শ্রীনগর স্টেডিয়ামে কর্মসূচি পালনের কথা ছিল শেখ আবদুল্লাহ ও হাফিজুল ইসলাম খানের অনুসারীদের। সরফতের অনুসারীরা কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকেই জমজম টাওয়ারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি শেখ আবদুল্লাহর অনুসারী হাফিজুল ইসলামের কয়েক নেতাকর্মী ওই পথ দিয়ে যাওয়ার দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। শ্রীনগর থানার ওসি জুয়েল মিয়া পুলিশের কোনো সদস্য আহত হননি বলে দাবি করেছেন।
কুমিল্লায় সংঘর্ষে ১০ জন আহত
কুমিল্লার বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির এক পক্ষের নেতার ব্যক্তিগত কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে। বিকেলে লালমাই উপজেলার বাগমারা রেলগেট ও আশপাশের এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত র্যালিতে দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মিছিল বের হয়ে চাষাঢ়ার সমবায় মার্কেটের সামনে পৌঁছানোর পর এ ঘটনা ঘটে।
(সমকাল প্রতিবেদক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য)
- বিষয় :
- বিএনপি