ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ কাব্যগ্রন্থের পাঠ-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত

‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ কাব্যগ্রন্থের পাঠ-পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত
×

সাহিত্য ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:২১ | আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:২৪

বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে শিল্প, সাহিত্য ও সমাজচিন্তার পত্রিকা ‘সৃজন’-এর উদ্যোগে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে পাঠচক্র। এতে দেশের কবি, লেখক ও সাহিত্যপ্রেমীরা অংশ নেন। দুই পর্বের এ আয়োজনে প্রথম পর্বে কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসারের কাব্যগ্রন্থ ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’-এর পাঠ-পর্যালোচনা এবং দ্বিতীয় পর্বে কবি ও চিন্তক রেজাউল করিম রনির ‘বৈষম্যের ধারণা’ বিষয়ে একক বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় আহমেদ বাসারের সাহিত্যশৈলী ও লেখালেখির নানা দিক উঠে আসে। বক্তারা বলেন, সমকালীন সাহিত্যে তিনি একজন সব্যসাচী লেখক। সাহিত্যের প্রায় সব শাখাতেই তার সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। এ পর্যন্ত তার ১৫টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ‘সৃজন’ থেকে ২০২৬ সালে প্রকাশিত ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের পরই কবিতাপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

লেখক ও গবেষক প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘আহমেদ বাসার আমার অন্যতম প্রিয় কবি। তার কাব্যগ্রন্থটি আমি মুগ্ধতা নিয়ে পড়েছি। বইটির নির্মাণশৈলী, অন্তমিল ও ভাষাভঙ্গি অভিনব।’

কথাসাহিত্যিক সালেহা ফেরদৌস বলেন, ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ কাব্যগ্রন্থের প্রতিটি কবিতাই চমকপ্রদ।

৬২টি কবিতা নিয়ে বইটি তিনটি অংশে বিভক্ত। অংশগুলো হলো ‘বিভ্রম পাহাড়’, ‘আগুননদীর শিরদাঁড়া’ এবং ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’। ‘বিভ্রম পাহাড়’ অংশে কবি তার জীবন, জগৎ ও পরিপার্শ্ব সম্পর্কে নিজের উপলব্ধির কথা তুলে ধরেছেন। ‘আগুননদীর শিরদাঁড়া’ অংশে রয়েছে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের বিষয়। আর ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ অংশে প্রণয়ের তৃষ্ণা ও কামনার বিষয় স্থান পেয়েছে। আলোচকরা বইটির বিন্যাস ও কবিতাগুলোর নানা দিকের প্রশংসা করেন।

সাহিত্যচর্চার পথপরিক্রমা নিয়ে আহমেদ বাসার বলেন, ‘সাহিত্যে আমি ভিন্ন কোনো জীবনের সম্ভাবনা যাচাই করতে চাই। খুঁজতে চাই জীবনের অন্য কোনো মানে, অন্য কোনো তাৎপর্য। নতুনতর অধরা জীবনের ভাষাভঙ্গি নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছি একজীবনে। জানি না কতটুকু পেরেছি।’

কবিতায় যতিচিহ্ন ব্যবহার না করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘যতিচিহ্ন দিয়ে হয়তো ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু জীবনকে নয়। জীবন নিয়ত যতিচিহ্নের ঊর্ধ্বে, নিরন্তর আকস্মিকতায় পরিপূর্ণ।’

আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে লেখক, তাত্ত্বিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রেজাউল করিম রনি ‘বৈষম্যের ধারণা’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বৈষম্য দূর করতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদার অভাব দূর করতে হবে। প্রাকৃতিক বৈষম্য সমাজে থাকবেই। তবে কৃত্রিম বৈষম্য দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। ‘ডিকমোডিফিকেশন’-এর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া সম্ভব হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সমাজে শ্রেণিবৈষম্য দূর করার প্রক্রিয়ায় এ পরিবর্তন সম্ভব। একজন শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ব্যারিস্টার-অব্যারিস্টার কিংবা রিকশাচালক সবার জন্য একই চিকিৎসাব্যবস্থা ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে সমাজে বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন ড. সোলায়মান কবির, খুরশিদ জাহান খুশবু, সম্পূর্ণা বিনতে যোবায়ের, আহনাত আহমেদ, প্রাঙ্গন বসাক, সুস্ময় বড়ুয়া ও উম্মে আসমা।

আয়োজনে প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক, প্রফেসর ড. সেলিম আকন্দ, প্রফেসর ড. রকিবুল হাসান, আকেল হায়দার, ড. শফিকুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, মামুন সারওয়ার, জাহিদ হাসান, এস.এম শুআইব, মো. যোবায়ের কবির, আলিয়া, মুশফিক, হ্যাভেন ইসলাম, বাবু বরকতুল্লাহ, রফিক লিটন, বহ্নি কুসুম, কাওসার সুলতানা, মিতুল খান, তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন, ফরিদুল ইসলাম নির্জন, মো. মেহেদী হাসান, উম্মে আসমা জুহী, খালিদা তালুকদার, শারমিন হক, শাহানা আক্তার, পমা বসাক, সূপর্ণা বিনতে যোবায়ের, খুরশীদ জাহান খুশবু, প্রাঙ্গন বসাক, সুস্ময় বড়ুয়া, তুলিকা বড়ুয়া, ফারহানা তানিয়া, আহনাত আহমেদ, শারমিন, ওয়াসী, প্রান্ত সাহা, শিরিন আখতার, মিজি জিনাত, মো. মিজানুর রহমান খান, মর্তুজা হাসান সৈকত, আহমেদ বাসার ও সালেহা ফেরদৌসসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×