ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

উৎপাদনে ফিরতে চায় আশুগঞ্জ সার কারখানা

উৎপাদনে ফিরতে চায় আশুগঞ্জ সার কারখানা
×
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৩৯ | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৯:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে অবস্থিত বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সার কারখানা প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ পেলে পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। বছরে পাঁচ লাখ ২৮ হাজার টন ইউরিয়া সার উৎপাদনের সক্ষমতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানটি গ্যাস সংকটে বন্ধ থাকায় দেশের সার উৎপাদনে এর সম্ভাবনাকে  কাজে লাগানো যাচ্ছে না। উৎপাদনে গেলে কৃষকের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে এই সার কারখানা।   

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পরিমাণে ও নির্ধারিত চাপে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশে ইউরিয়া সারের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। উৎপাদন বাড়লে সার আমদানি কমবে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। কেননা, সার আমদানিতে বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ ব্যয় হয়। 
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিআইসি পরিচালিত আশুগঞ্জ কারখানার  নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮০ সালে। ১৯৮১ সালের ১৫ ডিসেম্বর এখানে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয় এবং ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে শুরু হয় বাণিজ্যিক উৎপাদন। 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানটি এক সময় ‘জিয়া সার কারখানা’ নামে পরিচিত ছিল। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে জিয়া সার কারখানার নাম পরিবর্তন করে আশুগঞ্জ সার কারখানা করার পাশাপাশি কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়। স্থানীয়দের দাবি, কারখানাটির ঐতিহাসিক নাম ‘জিয়া ফার্টিলাইজার কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড’ পুনর্বহাল করে দ্রুত উৎপাদন চালু করা হোক।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ইউরিয়া সার খাদ্য উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বার্ষিক চাহিদা ২৭ লাখ টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিপুল চাহিদা পূরণে দেশীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে আমদানির ওপর চাপ কমবে। আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন পুনরায় চালু হলে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরিয়া সার দেশেই উৎপাদনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষকদের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে, কারখানাটি চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কারিগরি চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন প্রায় ৫৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ৪০ বার চাপে নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। কারখানাটি চালু করতে গ্যাস বরাদ্দের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে। প্রয়োজনে প্লাস্টিক ও খেলনা উৎপাদনসহ যেসব শিল্পে গ্যাসের ব্যবহার সাময়িকভাবে সমন্বয় করা সম্ভব, সেসব খাতের গ্যাস সরবরাহ পর্যালোচনা করে সার কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাস দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 
খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, আশুগঞ্জ সার কারখানা চালু হলে দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি আমদানিনির্ভরতা কমানো  ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তাই বিসিআইসি, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে কারখানাটি পুনরায় চালুর কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা মনে করেন, খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের স্বার্থ ও জাতীয় অর্থনীতির কথা বিবেচনায় আশুগঞ্জ সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন চালুর জন্য সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দরকার। একই সঙ্গে স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহাসিক নাম ‘জিয়া ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কমপ্লেক্স লিমিটেড’ পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ নিতে হবে।  

আরও পড়ুন

×