এমবাপে-হাকিমি, সেমিতে দুই বন্ধুর দ্বৈরথ
মাঠের বাইরে দুজনই ভালো বন্ধু, কিন্তু বিশ্বকাপে তারা দুজন এখন একে অন্যের শত্রু
দোহা থেকে সঞ্জয় সাহা পিয়াল
প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২২ | ০২:২৪
হৃদয়ে হৃদয়ে তাঁদের প্রতিদিনের যাতায়াত। আত্মীয়তা তাঁদের মাঠের বাইরেও! টিম বাস বা ফ্লাইটে পাশের সিটে বসা, ডাইনিংয়ের চেয়ার টেনে পাশে বসা, খেলা না থাকলে দু'জনেই ছুটিতে উধাও হয়ে যাওয়া। বছর তেইশ আর চব্বিশের উচ্ছলতায় যা কিছু হয়ে থাকে, তার সবেতেই আছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আশরাফ হাকিমি। তাঁদের এই বন্ধুত্বের কথা এতদিন পিএসজির ভেতরের লোকরা জানলেও তা এখন রটে গেছে ফুটবলবিশ্বেও। সেদিন স্পেনকে হারিয়ে যে পেঙ্গুইনের হাঁটার ঢঙে সেলিবেশন করেছিলেন মরক্কোর রাইট ব্যাক হাকিমি, সেটা এমবাপ্পেরই শিখিয়ে দেওয়া। পিএসজিতে হাকিমির বাড়ানো বলেই বহু গোল করেছেন এমবাপ্পে। কিন্তু আজ দুই বন্ধুকেই দিতে হচ্ছে কঠিন এক পরীক্ষা। ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার আড়ালে ছদ্মবেশী বন্ধুত্ব থাকবে দু'জনের। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়েই অন্তত এমনটা মনে করছেন ফরাসি অধিনায়ক হুগো লরিস। 'সত্যি কথা বলতে কি, যখন ক্লাবের সতীর্থ দেশের হয়ে প্রতিপক্ষ হয়ে যায়, তখন সেটা সামলানো কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে। কেন না, তারা একজন আরেকজন সম্পর্কে খুব ভালোভাবে জানে। আমাকে যেমন কদিন আগেই মুখোমুখি হতে হয়েছিল ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের। তবে আমি মনে করি, এটা এমবাপ্পে বনাম হাকিমির ম্যাচ নয়। এটা ফ্রান্স বনাম মরক্কোর ম্যাচ। যেখানে দুটি শক্তিশালী দল চাইবে অন্যকে হারিয়ে ফাইনালে উঠতে।'
আসলে মাঠে নামার পর বন্ধুত্বে যে আড়ি পড়ে যায়, সেটিই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন লরিস। তবে মিডিয়া সেন্টারের মরক্কান সাংবাদিক মহল খুব করে চাচ্ছিলেন এই ম্যাচটির আগে এমবাপ্পে আর হাকিমির কোনো মন্তব্য নিতে। কিন্তু এমবাপ্পে এমনিতেই মিডিয়া এড়িয়ে চলেন। আর হাকিমি নাকি এসব নিয়ে একেবারেই কথা বলতে চাচ্ছেন না। তবে টুইটারে দু'জনের ছদ্মবেশী বন্ধুত্বের উপস্থিতি জারি রয়েছে। সেদিন স্পেনকে হারানোর পর এমবাপ্পে টুইট করে পেঙ্গুইন আর কিংয়ের ইমোজি দিয়ে হাকিমিকে শুভেচ্ছা জানান। তার উত্তরে হাকিমিও লেখেন- দেখা হবে বন্ধু।
আজই সেই দেখা হওয়ার পালা। অদ্ভুদভাবে আজকের এই ম্যাচটির কথাই কল্পনা করেছিলেন এমবাপ্পে সেই জানুয়ারিতে। তখন পোস্ট করা এমবাপ্পের একটি ভিডিও কাতারভিত্তিক স্পোর্টস চ্যানেল বিনে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে এমবাপ্পেকে বলতে শোনা যায়, আমরা এডুকেশন সিটির এই স্টেডিয়ামে ৪০ হাজার দর্শকের সামনে খেলতে নেমেছি। আশা করছি, মরক্কোর সঙ্গে আমরা জিতব। আমি আমার বন্ধুকে হারিয়ে দেব। এমবাপ্পের পাশে দাঁড়িয়ে হাকিমিকে বলতে শোন যায়, আমি তাকে বের করে দেব। এর পর এমবাপ্পে বলেন, সেটা আমার হৃদয় ভেঙে দেবে। আমি তোমাকে মেরেই ফেলব। তাদের এই ভিডিওটি কাল মিডিয়া সেন্টারে রূপকথার মতো রসদ দিচ্ছে বিভিন্ন মিডিয়াকে।
পিএসজির হয়ে এমবাপ্পে সামনে থেকেই খেলে থাকেন। সেখানে রাইট ব্যাক থাকেন হাকিমি। দু'জনের দুর্দান্ত গতিই ক্লাবের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে। আজ একই ভূমিকায় তাঁরা ফ্রান্স আর মরক্কোর হয়েই নামবেন। এই মুহূর্তে ৫ গোল করা এমবাপ্পেকে নিয়েই যত শঙ্কা মরক্কোর। যদিও সেটা মানতে চাচ্ছেন না তাদের কোচ। তিনি এটাও মনে করছেন না, এমবাপ্পে কিংবা হাকিমি তাদের কেউই বন্ধুকে উপহার তুলে দেবেন মাঠে। 'দুজনেই চ্যাম্পিয়ন ফুটবলার। তাদের বন্ধুত্বটাও বেশ গভীরে। কিন্তু আমি মনে করছি না দু'জনের কেউ কাউকে আজ উপহার তুলে দেবে। তাছাড়া আমরা শুধু অ্যান্টি এমবাপ্পে কৌশলে যাচ্ছি না। এমবাপ্পে অবশ্যই বিশ্বসেরা ফুটবলার। তার গতি অবিশ্বাস্য। কিন্তু এমবাপ্পে একা নয়, ফ্রান্সের অনেকেই তারকা ফুটবলার। গ্রিজম্যান, দেম্বেলে তাদেরও সামলাতে হবে আমাদের। তবে আমরা তৈরি।' মরক্কান কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই যেন মনে করিয়ে দিলেন বন্ধুত্ব বাড়িয়ে দিয়েই লড়াইয়ে নামতে হয়।
