ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টেস্ট বেঁচে আছে, উত্তর এই সিরিজ

টেস্ট বেঁচে আছে, উত্তর এই সিরিজ
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৫ | ১২:৪৬

দেড় মাসের লম্বা সিরিজ। লিডসে রানের ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ডের জয়, বার্মিংহামে সর্বোচ্চ রানে ভারতের জয়, পান্তের পায়ের আঙুল ভেঙে যাওয়া, বেন স্টোকসের কাঁধের সংযোগে চিড় ধরা, ওকসের ভাঙা হাত;ঘটনা-দুর্ঘটনায় মিশে ছিল ‘এন্ডারসন-শচীন’ নামের এই সিরিজটি। দুই দলের সমানে সমানে টক্করে শেষ পর্যন্ত ৫ ম্যাচের সিরিজ ২-২ এ ড্র। 

সিরিজ না জিততে পারলেও এমন উত্তেজনাপূর্ণ সিরিজ খেলতে পেরে তৃপ্ত দুই দলের খেলোয়াড়রা। ‘এমন একটি সিরিজ খেলতে পেরে দলের সবার জন্য গর্বিত আমি। নিশ্চিত শুভমানও তাঁর দল নিয়ে গর্বিত। এত এনার্জি নিয়ে এমন একটি সিরিজ খেলা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং ছিল। সিরিজে হয়তো মাঠে অনেক কথা কাটাকাটি হয়েছে, তবে আমি নিশ্চিত এসব নিয়ে আমরা ঘুমাতে যাব না, ভারতীয়রাও নিশ্চিত মনে রাখবে না।’

পুরো টেস্ট সিরিজে সাত হাজার ১৮৭ রান উঠেছে। ২১টি সেঞ্চুরি। দুই দলের মোট ৯ ক্রিকেটার চারশর ওপর রান করেছেন। এর পরেও কি কেউ বলবেন টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নেই? সিরিজ শেষে ওভালে ভারতীয় ওপেনার কে এল রাহুল নিজেই সেই প্রশ্ন রাখলেন। ‘আমি অনেক বছর ধরে ক্রিকেট খেলছি। আমরা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছি, টি২০ বিশ্বকাপ জিতেছি। তারপরেও বলব এই টেস্ট সিরিজটি আমার কাছে বিশেষ কিছু। যেভাবে দুটি দল পাঁচটি টেস্ট খেলেছে তাতে যারা বলে থাকেন টেস্ট ক্রিকেট কি বেঁচে আছে? তারা বোধহয় উত্তর পেয়ে গেছেন।’ 

রাহুলের মতো সিরিজ নিয়ে মুগ্ধতা ছিল ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিলের মুখেও। ‘পুরো সিরিজে দুটি দল যেভাবে একে অন্যকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছে তাতে প্রতিটি ম্যাচই দারুণ উপভোগ্য ছিল। টেস্টের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে এসেও কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি যে এই দলটিই জিতবে। এটি প্রমাণ করে যে দুটি দলই তাদের সেরা খেলাটা খেলেছে এবং টেস্টের আসল স্বাদ উপভোগ করেছে।’ 

রোহিত শর্মার কাছ থেকে অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর শুভমানের জন্য প্রথম এই সিরিজটি ছিল বড় ধরনের পরীক্ষার মতো। সেখানেই কিনা টেস্ট ইতিহাসে অধিনায়কদের মধ্যে কোনো সিরিজে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭৫৪ রান করেছেন। তার আগে কেবল ৮১০ রান করা অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান। ইংল্যান্ডের কোচ ব্র্যান্ডন ম্যাককালামের চোখে তাই শুভমানই সিরিজ সেরা। যেমনটি ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীরের বিচারে ইংল্যান্ডের হ্যারি ব্রুক। 

‘সিরিজের আগে আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। চেয়েছিলাম সিরিজে সেরা ব্যাটসম্যান হতে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি। মানসিকভাবে ভালো অবস্থায় থাকলে পারফর্ম্যান্স ভালো করা যায়, আবার টেকনিক্যালি ভালো না হলে মানসিক অবস্থাও ভালো থাকে না। তাই দুটি ব্যাপার নিখুঁত থাকলে নিজেকে নিয়ে খুশি হওয়া থাকা যায়।’ শুভমানের এই উপলব্ধিই বলে অধিনায়ক হিসেবে অনেক দূর যাবেন তিনি।

আরও পড়ুন

×