মতামত
বিসিবি জবাব দিয়ে বাধিত করবেন
বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর।
এস এম সাব্বির খান
প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ | ২১:১২
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আসিফ আকবরের মন্তব্য দেশের পেশাদার ফুটবল ও ফুটবলারদের জন্য অপমানজনক। তার মন্তব্যে দেশের লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমিও অপমানিত হয়েছেন। হুট করে গায়ক থেকে ক্রিকেটের ‘নায়ক’ হতে চাওয়া একজনের এমন বক্তব্য কী মেনে নেওয়ার সুযোগ আছে? ক্রীড়াঙ্গনের কারো এমন বক্তব্য কতটাই-বা দায়িত্বশীল? বোধ করি, জানার অধিকার আমাদের আছে। আশা করছি, জিজ্ঞাসার বিপরীতে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পদে বসা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব জবাব দিয়ে বাধিত করবেন।
গত রোববার বিসিবি আয়োজিত ক্রিকেট কনফারেন্সে বোর্ডের নতুন পরিচালক আসিফ আকবর অভিযোগ করেন, ফুটবলাররা উইকেট ভেঙে ফেলছেন। তারা প্রতিটি জেলা স্টেডিয়াম দখল করে রেখেছেন। কোথাও ক্রিকেট খেলা যাচ্ছে না। তিনি (আসিফ) একটু ‘অভদ্র’ কিসিমের। মাঠ দখল করতে তাই মারামারি করতেও পিছপা হবেন না।
আরও অবাক করা বিষয় হচ্ছে, আসিফের হঠকারী মন্তব্যের সময় কনফারেন্সে উপস্থিত বিসিবির অনেক শীর্ষ কর্তারা করতালি দিয়েছেন। উপহাসসুলভ হাসি লেগে ছিল বোর্ড সভাপতির মুখেও। তারা কীভাবে এমন আপত্তিকর বক্তব্যে উৎসাহ জোগালেন; তারাও দায়িত্বশীল ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা আশা করা অযৌক্তিক নয়। যদিও আসিফের বক্তব্যে আনন্দ পাওয়া বিসিবি কর্তারা বাফুফের চিঠির কী জবাব দেবেন, তারও আগাম বার্তা পাওয়া যায়।
যেকোন খেলাধুলার প্রাণ দর্শক-সমর্থক। এদেশে ক্রিকেটের বড় সংখ্যক সমর্থকগোষ্টী রয়েছে। ফুটবলপ্রেমীর সংখ্যাও কম নয়। তার মানে এই নয় যে, ক্রিকেট ও ফুটবলের সমর্থক একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। তারা একই সঙ্গে দেশের ক্রিকেটের আবার ফুটবলেরও সমর্থক। তাদের ক্রিকেটের জন্য পাগলাটে ভালোবাসার জন্য মিরপুর স্টেডিয়ামকে হোম অব ক্রিকেট বলা হয়। আবার হামজা চৌধুরীর আগমণে এরাই স্টেডিয়াম ভরিয়ে তোলেন।
বিশ্বকাপ উন্মাদনায় এরাই বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠতম সমর্থকগোষ্ঠীর সম্মান এনে দেন।
ক্রিকেটকে অভিজাত আখ্যা দিয়ে ভদ্র সমাজের মঞ্চে যখন ফুটবলকে লাঞ্ছিত করার হিড়িক তখন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মাতানো হামজা বা তারো আগে প্রবাসী বিলাস ছেড়ে দেশের জন্য ছুটে আসা জামালদের নিয়ে এদেশের ভক্তরা বুক চিতিয়ে গর্ব করেন। হৃদয় নিঙড়ে ভালোবাসে সেই মোরসালিনদের যারা বার বার হেরে গেলেও, জিতবে এমন আশায় সমর্থন দিয়ে যান দিনের পর দিন। দেশের তরুণ তুর্কী, কিংবা দেশের রক্ত শিরায় খেলা প্রবাসী দেশের ফুটবলের হাজারো সীমাবদ্ধতা ও সংকীর্ণতার কথা জেনেও ছুটে আসে শুধুমাত্র লাল-সবুজের জার্সি গায়ে পরতে।
ক্রীড়াঙ্গনের সক্রিয় সদস্য হয়ে আসিফ আকবরের মতো কেউ অন্য খেলার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করলে তা স্পোর্টসম্যানশিপ তথা ক্রীড়া মানসিকতার দৈন্যতা হিসেবেই বিবেচিত হয়। দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ক্রীড়া খাতকে সাংঘর্ষিক প্রেক্ষাপটে দাঁড় করিয়ে দেওয়া নিঃসন্দেহে নিজেদের অযোগ্যতা দৃশ্যত প্রমাণ। ক্রীড়াঙ্গনের কোন অংশে এমন কারো সম্পৃক্ত থাকার অধিকার আছে কিনা তা নির্ধারণের ভার এদেশের ক্রীড়াবিদ, ক্রীড়ামোদী এবং ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দায়িত্বশীল পদে থাকাদের নিতে হবে। ক্রীড়াঙ্গন জাতীয়তাবোধ এবং দেশপ্রেম চর্চার এক অনন্য ক্ষেত্র; বিষয়টি সুবিচেনায় রেখে দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বিসিবি উত্তর নির্ধারণ করবে, এমনটাই আশা এদেশের খেলা পাগল ভক্তদের।
