ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লিপুর দলেই আস্থা বাশারের

লিপুর দলেই আস্থা বাশারের
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:০৪

মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর সঙ্গে অনেকবারই দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন হাবিবুল বাশার। তখন তাঁর ভূমিকা ছিল অনেকটা নাটক-সিনেমার পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেতার মতো। নান্নুর সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ফাঁকে কখনও কখনও একটু আধটু কথা বলার সুযোগ পেতেন জাতীয় দল নির্বাচন নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার। তিনি এবার প্রধান নির্বাচক হিসেবে নিউজিল্যান্ড সিরিজের জন্য প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন। তাঁর সঙ্গী ছিলেন নির্বাচক প্যানেলের তিনজন সদস্য। 

বাশারের নির্বাচক প্যানেলের সমন্বিত উত্তর ছিল ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ মাথায় নিয়ে কাজ করবেন তারা– একটি শক্তিশালী ওয়ানডে স্কোয়াড গড়ে তোলা, বিকল্প খেলোয়াড় বৃদ্ধি, বিশ্বকাপের অন্তত ছয় মাস আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করা। তবে এ মুহূর্তে হাবিবুল বাশারদের একমাত্র লক্ষ্য সামনের সিরিজগুলো জিতে সরাসরি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়ানডে দলে পরিবর্তন করা হবে না বলে জানান প্রধান নির্বাচক। তাই বলতেই পারেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর দলেই আস্থা হাবিবুল বাশারের।

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ মোটামুটি ওয়ানডে দলটা গুছিয়ে নিয়েছেন। পেস বোলিং বিভাগে হাত দেওয়ার সুযোগ নেই। এখানে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানার সঙ্গে তানজিম হাসান সাকিব ও হাসান মাহমুদ। এই একটি বিভাগ নিয়ে নির্বাচক প্যানেল ও টিম ম্যানেজমেন্ট স্বস্তিতে থাকে। পেস ইউনিট নিয়ে প্রধান নির্বাচকও খুশি, ‘বাংলাদেশ দল ভাগ্যবান যে আমাদের পেস বোলিং বিভাগ বেশ সমৃদ্ধ। এখানে রোটেশন করে খেলাব যাতে সবাই ফিট থাকে। আমাদের দুশ্চিন্তা হলো টপ অর্ডার ও মিডল অর্ডার ব্যাটিং। সেখানে থিতু হওয়া খুব দরকার।’

বাশারের ব্যাটিং নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারণ অধারাবাহিকতা। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশ বড় স্কোর করে খুব কম সময়। তিনশ-সাড়ে তিনশ রান করার রেকর্ড আছে হাতেগোনা কিছু ম্যাচে। ব্যক্তিগত ইনিংসগুলোও তেমন একটা বড় হয় না। অথচ বিশ্বকাপ বা বৈশ্বিক ক্রিকেটে ভালো করতে হলে দলগতভাবে বড় ইনিংস গড়া ও তাড়া করা জরুরি। কোচ ফিল সিমন্স বিষয়টি অনুধাবন করে দেশের মাঠেও স্পোর্টিং উইকেটে সিরিজ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ধারাবাহিক না হওয়ার পেছনে কোচিং স্টাফের দায় দেখেন অনেকেই। অভিজ্ঞদের বেঞ্চে বসিয়ে তরুণদের খেলানোর সিদ্ধান্ত প্রধান কোচের বলে জানা গেছে। সাইফ হাসানের ওয়ানডে রেকর্ড কাঙ্ক্ষিত মানের না হলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে খেলেছেন এবং ব্যর্থ হয়েছেন। সেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দারুণ ব্যাটিং করেও বেঞ্চে বসেছিলেন সৌম্য সরকার। এ নিয়ে গতকাল প্রশ্নের মুখে পড়তে হলো বাশারকে। 

তিনি বিষয়টি নিয়ে কৌশলে উত্তর দিয়েছেন, ‘আমি সৌম্যর প্র্যাকটিস দেখলাম। একটা জিনিস আমার মুগ্ধ করেছে যে, সে অফ স্পিনটা যেভাবে হ্যান্ডেল করছে। সে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রচুর খেলা আছে, সবাই সুযোগ পাবে। সৌম্যর মতো খেলোয়াড় বেঞ্চে বসে থাকা মানে আমাদের দলটা অনেক শক্তিশালী। আমরা যখন যাকে সুযোগ দেব, ভালো করে দেব।’ 

২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে সেঞ্চুরি করে জাতীয় দলে জায়গা থিতু হয়েছিলেন সৌম্য। চোটের কারণে মাঝে কিছুদিন বাইরে থাকতে হয়েছে তাঁকে। লাইফলাইন পাওয়া বাঁহাতি এ ব্যাটার গত বছর থেকে ওয়ানডে দলে নিয়মিত। ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ভালো করছেন। এ কারণে সৌম্য সরকার, মাহিদুল ইসলাম অংকন, শরিফুল ইসলাম ও তানভীর ইসলামদের স্কোয়াডে রেখে দেওয়া হয়েছে বল জানান বাশার। 

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ মাথায় রেখে আমরা কোনো পরিবর্তন করব না। আমরা যদি পরিবর্তন করতে চাই, কাউকে দেখতে চাই, আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেখে নেব। আমরা বিশ্বকাপের কাপের আগে নতুন কাউকে দেখতে চাই না, যদি না কেউ চোটে পড়ে। আমাদের নির্বাচক প্যানেলের মধ্যে এই আলাপ হয়েছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য থাকবে ম্যাচ জেতা। ম্যাচ জেতার জন্য যে দলটা দরকার, আমরা সেটাই বানাব।’ 

এক দিনের ক্রিকেট দলে পুরোপুরি ভারসাম্য আনতে হলে একজন পেস বোলিং অলরাউন্ডার প্রয়োজন। চোটের কারণে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বেশির ভাগ সময় দলে থাকেন না। বাশার জানান, এ ব্যাপারে দ্রুতই কিছু একটা করতে পারবেন তারা।

আরও পড়ুন

×