নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে নবদিগন্তের সূচনা
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে খুদে প্রতিযোগীর কারাতে কৌশলে হাততালি দিয়ে উৎসাহ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি-পিএমও
সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১১:৩৬
সিলেট জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন ভোরের সূচনা হলো। তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণে জাতীয় পর্যায়ের মেগা কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল শনিবার বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজার হাজার শিশু-কিশোর সমবেত হয়েছিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে। বিকেলের দিকে বৃষ্টি একটু থেমে এলে কারাতে, কাবাডি, অ্যাথলেটিকসসহ বিভিন্ন ডিসপ্লে দেখায় শিশু শিক্ষার্থীরা। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা দেখে মঞ্চে থাকা প্রধানমন্ত্রী বারবার হাততালি দিয়ে তাদের উৎসাহ দিচ্ছিলেন। বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কে? তখন পুরো গ্যালারিজুড়ে নীরবতা।
সেই নীরবতা ভেঙে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বলব আজকে প্রধান অতিথি কে?’ তখন তিনি বলেন, ‘আজকের প্রধান অতিথি আর কেউ না, গ্যালারিতে থাকা তোমারাই আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ।’
শিশুদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘তোমরা স্পোর্টসের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরবে। পডালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পড়ালেখায় কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না, তবে একই সঙ্গে খেলতেও হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, তাকে খেলোয়াড় হতে হবে, যে গায়ক হতে চায় তাকে গায়ক হতে হবে। রাষ্ট্র তার সামর্থ্য অনুযায়ী সেই পথ তৈরি করে দেবে।’
উদ্বোধনের আগে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, নির্বাচনী ইশতেহারে ক্রীড়া খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার তা বাস্তবায়নে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ক্রীড়া কার্ড ও ক্রীড়া ভাতার মতো সময়োপযোগী উদ্যোগ চালু হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস হবে অদেখা প্রতিভা খুঁজে বের করার একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। এবারই প্রথম রাজধানীর বাইরে সিলেট থেকে এ ধরনের বড় আয়োজনের সূচনা করা হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আওতায় ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা অংশ নিচ্ছে। ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, দাবা, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট– এই আটটি খেলাকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পুরো প্রতিযোগিতাকে প্রশাসনিকভাবে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে– ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ। একজন প্রতিযোগী সর্বোচ্চ দুটি ইভেন্টে অংশ নিতে পারবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন হবে নকআউট পদ্ধতিতে। দাবা প্রতিযোগিতা হবে সুইস-লিগ পদ্ধতিতে। অন্যদিকে অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্টে প্রাথমিক বাছাইয়ের পর ফাইনাল রাউন্ড অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৩ থেকে ২২ মের মধ্যে আঞ্চলিক পর্যায়ের সব কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে চূড়ান্ত পর্বে জাতীয় পর্যায়ের সেরা খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হবে।
প্রসঙ্গত, নতুন কুঁড়ি ছিল একটি জাতীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি, যা ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। এটি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সম্প্রচারিত হতো এবং এখান থেকেই দেশের বড় বড় শিল্পী তৈরি হয়েছেন।
- বিষয় :
- সিলেট
- নতুন কুঁড়ি
