ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মেসির বাকি ফুটবল গোলাপি জার্সিতে

মেসির বাকি ফুটবল গোলাপি জার্সিতে
×
×

ছবি- এএফপি

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬ | ১০:২৭

বিকেলটা আর পাঁচটা সাধারণ বিকেলের মতোই হতে পারত। পায়ের কাছে সেই চেনা ফুটবল আর চারপাশে একঝাঁক সতীর্থকে নিয়ে চিরন্তন সেই অনুশীলনের চেনা ছবি। কিন্তু রিভারপ্লেটের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের আকাশে তখন এক অদ্ভুত, ভারী বিষণ্নতার মেঘ। কারণ, সেখানে উপস্থিত প্রত্যেকেই জানতেন– এই বিকেলটি সম্পূর্ণ ভিন্ন, এই শেষের শুরুটা বড্ড নির্মম। বেনিনের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে একুশ বছরের পুরোনো এই অভ্যাসগুলোই যেন গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল লিওনেল মেসিকে। 

তিনি জানেন, আর কোনো দিন আর্জেন্টিনার নীল-সাদা ক্যাম্পে এভাবে বল নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করা হবে না তাঁর। হবে না দূর-দূরান্তের ক্লান্তিকর ভ্রমণ, গলা কাঁপিয়ে গাওয়া হবে না জাতীয় সংগীত কিংবা দেশের আকাশটাকে সাক্ষী রেখে নামা হবে না আর কোনো মরণপণ লড়াইয়ে। ‘বিশেষ মুহূর্তগুলো, যা আমি খুব মিস করতে যাচ্ছি...’– আর্জেন্টিনার পতাকার ইমোজি ও সতীর্থদের সঙ্গে শেষ অনুশীলনের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে সোমবার সামাজিক মাধ্যমে এই আটটি শব্দই লেখেন মেসি। তিনি জানেন, এরপর তাঁর বাকি ফুটবল বন্দি শুধুই মায়ামির গোলাপি রঙে।

মহাকালের নিয়ম মেনে এক অধ্যায়ের শেষেই শুরু হচ্ছে মেসির আরেক অধ্যায়। নীল-সাদার মায়া কাটিয়ে তাঁর ফুটবল ভালোবাসাটা বন্দি হতে চলেছে শুধুই মায়ামির ওই গোলাপি বৃত্তে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ ওই বছরের মেজর লিগ সকার মৌসুমের শেষ দিনটি পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব মায়ামির এই গোলাপি জার্সিতেই আটকে থাকছে লিওনেল মেসির বাকি ফুটবল। চুক্তিতে এটাও লেখা আছে যে মাঠের খেলা যেদিন থামিয়ে দেবেন মেসি, মায়ামি তখন তাঁকে উপহার দেবে এক রাজকীয় রাজত্ব। জানা গেছে, চুক্তি ফুরোলেই ইন্টার মায়ামির ডিরেক্টরস টেবিল বা ম্যানেজমেন্টের বোর্ডে বসবেন তিনি। ডেভিড বেকহাম আর মাস ব্রাদার্সদের পাশেই বসার জন্য তোলা থাকবে তাঁর চেয়ার, যেখানে অবসরের পর ক্লাবের মালিকানার একটি বড় অংশ (শেয়ার) আইনিভাবেই তুলে দেওয়া হবে মেসির হাতে।

ভক্তদের মনে কোটি টাকার প্রশ্ন– পায়ের জাদু থামলে কী নিয়ে বাঁচবেন লিওনেল মেসি? উত্তরটা মহাকালের গর্ভে লুকানো। কেউ আগ বাড়িয়ে তার ভবিতব্য লিখতে পারেনি। শরীর আর মন সায় দিলে মায়ামিতে হয়তো আরও দু-এক বছর খেলবেন তিনি। জিনেদিন জিদান বা জাভি হার্নান্দেজের মতো তিনি কি কোচের ব্লেজার গায়ে ডাগআউটে গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে থাকবেন? না, মেসির তেমন ইচ্ছা আছে বলে কেউ কখনও শোনেনি। সম্প্রতি তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় তিনি কোচ হতে চান, নাকি ক্লাবের মালিক– মেসি ‘মালিক’ হওয়াকেই বেছে নেন। 

মেসির পছন্দ অনুযায়ী, একজন কোচের জীবন প্রতি শনিবারের ম্যাচের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে এবং তাঁকে অনেক বেশি বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে হয়। অন্যদিকে, ক্লাবের মালিক একটু আড়ালে থেকেই পুরো ক্লাবের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করতে পারেন। অবশ্য তিনি এমন একজন মালিক হবেন না, যিনি শুধু ম্যানেজার নিয়োগ অনুমোদন করেই দায়িত্ব শেষ করে দেবেন; বরং তিনি ক্লাবের প্রতিটি বিষয়ে নিজেকে যুক্ত রাখতে চাইবেন। গেল বছরের নভেম্বরে মায়ামিতে ‘আমেরিকা বিজনেস ফোরামে’ মেসি বলেছিলেন, ‘ব্যবসা এমন একটি বিষয়, যা আমাকে আগ্রহী করে। আমি আরও শিখতে চাই, কারণ আমি এখনও কিছুই জানি না এবং কেবল শুরু করছি।’

তবে তাঁর এই ব্যবসাও আসলে সেই ফুটবলকেন্দ্রিকই। বার্সেলোনার কাছে পঞ্চম স্তরের ক্লাব ‘ইউই কর্নেয়া’ গত এপ্রিলে কিনে নেন তিনি। এরপর স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ‘সিডি এলদেনসে’ ক্লাবেও লগ্নি করেছেন তিনি। এই ক্লাবটিই হবে মেসির ফুটবল পরিচালনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। এখন তিনি নিয়মিত এলদেনসের প্রতিটি ম্যাচ মনোযোগ দিয়ে দেখেন। এত কিছুর মধ্যেও তাঁর শৈশবের ক্লাব আর্জেন্টিনার নিউ ওয়েলস ওল্ড বয়েজ নিয়েও ভাবছেন। মায়ামিতে তাঁর নামে শুরু হওয়া একাডেমির ফুটবলারদের ‘মেসি কাপ’-এ ওল্ড বয়েজকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মেসি নিজে। যেখানে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ, চেলসি, বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, আর্সেনাল ও ইউই কর্নেয়ার মতো শক্তিশালী সব একাডেমির অনূর্ধ্ব-১৬ বছরের ছেলেরা অংশ নিয়েছিল। নিজের অর্থ ও সময় দুই-ই বিনিয়োগ করেছেন তিনি এখানে। যা ইঙ্গিত করে পরবর্তী অধ্যায়টা কাটবে তাঁর মায়ামির কোনো এক সবুজ একাডেমিতে, আগামীর ‘মেসি’দের হাত ধরে।

আরও পড়ুন

×