সালতামামি
যা কিছু বিস্ময় জাগিয়েছে
সময়ের আবর্তে কৃত্রিম মেধা যেন কিছুতেই ছাড় দেবে না
সাব্বিন হাসান
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৮:২৯ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ২১:৪২
সময়ের আবর্তে কৃত্রিম মেধা যেন কিছুতেই ছাড় দেবে না। নিজেকে যন্ত্রের কাছে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করতে হবে– আমরা মানুষ, এআই নই।
বলতে গেলে অদৃশ্য যুদ্ধে নেমেছে সব এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)। আর কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি এখন মানবসভ্যতা। ব্যক্তি থেকে দপ্তর, উৎপাদন, উন্নয়ন–সবখানে যন্ত্রের কাছে নির্ভরতা দৃশ্যমান। যান্ত্রিক নির্দেশনা মেনে বা সুস্পষ্ট কথায় যন্ত্রের কাছে নিজের মনুষ্যত্বের প্রমাণ দিতে হয় সব সময়। কিছুদিন আগে এমন পরীক্ষার কাজ এআই-এর কাঁধে দায়িত্ব দিয়ে নির্ভার হয়েছে অনেকে।
ভবিষ্যতে এমন দায়িত্বের পরিধি বহুমাত্রিক হতে চলেছে, তা প্রায় নিশ্চিত করেই বলেছেন গবেষকরা। নিয়োগ বা চাকরির পরিসরে হাজারো পদে আবেদনকারীর মধ্যে কোন ব্যক্তি নির্দিষ্ট পদের জন্য বিশেষ যোগ্য, অফিস পরিচালনার জন্য কোন পদ্ধতি মেনে চলা উচিত, কর্মীদের নিজেদের কাজে কেমন প্রশিক্ষণ দিলে তা অফিসের সহায়ক হয়–এমন সবকিছুই যেন নিয়ন্ত্রণ করবে যন্ত্র। সাধারণত এগুলো হিউম্যান রিসোর্স (এইচআর) বিভাগের কাজ।
কৃত্রিম ডাক্তার হুয়া
সৌদি আরবের আল-আহসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডক্টর ক্লিনিক খোলা হয়েছে। দেশটির আল মুসা হেলথ গ্রুপের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এমন ক্লিনিক খুলেছে চীনের স্টার্টআপ প্রকল্প।
চীনা সংস্থার রয়েছে বিশেষ দক্ষতার সিনে এআই। মূলত তার দক্ষতার মাধ্যমেই তৈরি করা হয় ডাক্তার হুয়াকে। মানুষের চিকিৎসায় এখন কাজ করছে ডাক্তার হুয়া। কতটা দক্ষতা আর কীভাবে চিকিৎসা করছে এআই, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সবকিছু যখন চ্যাটবটে
উদ্ভাবনী গুগল জেমিনির নতুন সংস্করণে প্রজেক্ট অ্যাসট্রো, গবেষণা, জেমিনি ফ্ল্যাশ ছাড়াও বেশ কিছু সুবিধা যুক্ত হয়েছে। ধীরে ধীরে মানবিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই সব ধরনের কাজে পারদর্শিতার প্রমাণ দেবে জেমিনি।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্থা এমন কাজে এআই প্রযুক্তির পূর্ণ সহায়তা নিতে শুরু করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যে ক্রমান্বয়ে মানুষের কাজের নিয়ন্ত্রক হবে–এমন ভাবনা থেকে গল্প লিখেছেন অনেকে। এর আগে হলিউডের বেশ কিছু সায়েন্স ফিকশন ছবিতে সেসব কর্মযজ্ঞের দৃশ্যায়ন অনেকে দেখেছেন।
গল্পই যে এত দ্রুত বাস্তবে জায়গা করে নেবে, তা হয়তো ভাবনায় আসেনি।
কৃত্রিম মেধার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) দুনিয়ায় এখন দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গুগল উদ্ভাবিত চ্যাটবট জেমিনি। বলতে গেলে, জেমিনির দ্বিতীয় জেনারেশনের সুবিধা এনেছে গুগল। উন্মোচিত জেমিনি ২.০ সংস্করণ তারই প্রমাণ। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল উদ্ভাবিত এআই চ্যাটবট জেমিনির দ্বিতীয় সংস্করণ উন্নয়ন প্রসঙ্গে জানানো হয়, নতুন সংস্করণ এতটাই শক্তিশালী হবে যে মানুষের সহায়তা ছাড়া বহু কাজ নির্বিঘ্নে করে ফেলতে পারবে, ঠিক যেমনটা চাওয়া হবে। বলতে গেলে, নব্য উদ্ভাবনে এমন কিছু ফিচার সামনে আসছে, যা কল্পনার জগৎকেও রীতিমতো হার মানাবে। নতুন সংস্করণে নিজেদের প্রতিযোগী ওপেনএআই ও মেটা এআই প্রযুক্তির থেকে অনেকটা এগিয়ে গেছে, তা প্রায় নিশ্চিত করে বলা যায়।
অদ্ভুত জেমিনি
দাপুটে বার্তা দিয়ে বছর শুরু করে গুগল। উদ্ভাবিত জেমিনি ২০২৫ সালে সবার কাছে কৃত্রিম মেধার বহুমাত্রিক সুবিধা ব্যবহারযোগ্য আর উপভোগ্য করে। হ্যাঁ, কণ্ঠ শুনে মুহূর্তেই কাজ করে জেমিনি। ভয়েস কমান্ডের ইঙ্গিতে ফাইল সম্পাদনায় (এডিট) জেমিনি এআই পারদর্শী। কৃত্রিম মেধার মানোন্নত সংস্করণ নিয়ে কাজ চলছে। মূলত জেমিনির কৃত্রিম মেধাকে সুকৌশলী করার উদ্যোগ নিয়েছে গুগল। ইতোমধ্যে আইফোনপ্রেমীরা বিনামূল্যে জেমিনি অ্যাপ সুবিধা উপভোগ করছেন, যা অ্যাপ স্টোর থেকে সহজেই ডাউনলোড করে নেওয়া যায়। ১০টির বেশি ভাষায় অ্যাপটি ব্যবহারযোগ্য। ভাষার সংখ্যা বাড়াতে কাজ চলছে।
ডিপসিক উন্মাদনা
ডিপসিক চ্যাটবটে দুনিয়াজুড়ে হইচই পড়ে যায়। কারণ এটি তৈরি করে চীন। ভবিষ্যতের এআই যুদ্ধে চীন-যুক্তরাষ্ট্র এখন মুখোমুখি। ইতোমধ্যে ডিপসিক এআই চ্যাটবটে যে ক্ষমতা ও জ্ঞানের পরিধির পরিচয় বিশ্বের সামনে দৃশ্যমান করেছে, তার নেপথ্যে কাজ করছে ‘আর-ওয়ান এলএলএ’ ঘরানার চ্যাটবট। প্রশ্নোত্তরে চ্যাটবট যেমনই সদুত্তর উপস্থাপন সামনে আনুক না কেন, ডিপসিক আত্মপ্রকাশের খবরে যুক্তরাষ্ট্রের এআই প্রযুক্তির উদ্ভাবক এনভিডিয়া, মাইক্রোসফট, ওপেনএআই, গুগল ও মেটার তাৎক্ষণিক বাজারদর ও বৈশ্বিক মূল্যায়ন দ্রুত রেকর্ড হারে নিচে নেমে যায়। ঠিক তার পরই লিয়াং সৃষ্টি করেন যুগান্তকারী ইতিহাস। ২০২৩ সালে নিয়ে আসেন ডিপসিক। সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা সবচেয়ে জটিল সমীকরণ এআই প্রযুক্তি, অর্থাৎ এজিআই (কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে উদ্ভাবন করেন ডিপসিক।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র বিতর্ক
সর্বাধুনিক চিপ হাতে পেতে বেইজিংয়ের আকাঙ্ক্ষা যেন পূরণ না হয়, সে জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে মার্কিন প্রশাসন। সুপারকম্পিউটার গবেষণা ও কৃত্রিম মেধায় চীনের অগ্রগতি নিয়ন্ত্রণ করতেই এমন বিধিনিষেধ আনা হয়। চীনে চিপ বিক্রি করতে চাইছে এমন মার্কিন প্রতিষ্ঠান বা সেখানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সম্পর্কে সরকারকে অবহিত করতে হবে বা বিশেষ লাইসেন্স পেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবিত চিপ তৃতীয় দেশ হয়ে চীনে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে চিপ নির্মাতাকে মার্কিন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার সাপেক্ষে কয়েক ডজন দেশে পাঠানোর অনুমোদন নিতে হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এমন বিধিনিষেধ স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক যান ও গেমিং সিস্টেমের মতো বাণিজ্যিক সব অ্যাপ্লিকেশনে চিপ ব্যবহারকে প্রভাবিত করবে।
ফোল্ডেবল আইফোন
অ্যাপল এখনও ফোল্ডেবল আইফোন উদ্ভাবন বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। ডিজিটাল গ্যাজেট বিশেষজ্ঞ মার্ক গুরম্যান ফোল্ডেবল আইফোন-সংক্রান্ত বেশকিছু তথ্য উন্মোচন করেন, যা বিশ্বে উন্মাদনা ছড়ায়। অতীতে অ্যাপল নিজের ঘোষণার আগেই আইফোনবিষয়ক ঠিকঠাক খবর দিয়েছেন গুরম্যান। সুতরাং ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে তাঁর দেওয়া তথ্যকে কোনোভাবেই ভিত্তিহীন বলা যায় না।
মার্ক বলছেন, অ্যাপল উদ্ভাবিত ফোল্ডেবল আইফোন দৃশ্যমান হবে ২০২৬ সালে। সাধারণত বছরের যে সময়ে আইফোন উন্মোচিত হয়, ঠিক সে সময়েই তা উন্মোচন হতে পারে। ভাঁজযোগ্য আইফোন দেখতে অনেকটা স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড সিরিজের মতো হতে পারে।
ওয়াইফাই সেভেন
থ্রিজি, ফোরজি বা ফাইভজি বললে সবার আগেই মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগের কথা সামনে আসে। বর্তমানে যেসব ওয়াইফাই সংযোগ রয়েছে, তা মূলত ওয়াইফাই (সিক্স), অর্থাৎ সিক্স জেনারেশন ওয়াইফাই। যার আধুনিক সংস্করণ হলো ওয়াইফাই (সেভেন), অর্থাৎ সেভেন জেনারেশন ওয়াইফাই, যা আইইইই ৮০২.১১বিই বা এক্সট্রিমলি হাই থ্রুপুট (ইএইচটি) নামে বিশেষ পরিচিত। ২০২৫ সালে ওয়াইফাই প্রযুক্তির মান নির্ধারণকারী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ওয়াইফাই অ্যালায়েন্স ওয়াইফাই সার্টিফায়েড সেভেন প্রোগ্রাম চালু করে; যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মান অনুযায়ী কয়েকটি ওয়াইফাই সেভেন ডিভাইসকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ৫৮টি দেশে এমন প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) উন্মুক্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ওয়াইফাই সেভেন বাজারের আয়তন ২৪০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।
- বিষয় :
- সালতামামি ২০২৫
- প্রযুক্তি
- জেমিনি
- এআই
