২০২৫: বাংলাদেশ
আলোচিত ছয় উদ্যোগ
টেকলাইফ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৮:৪১
সারাবিশ্বে আইসিটি শিল্পের অন্যতম ও জরুরি সঞ্চালক সেমিকন্ডাক্টর। কিন্তু অনেকের কাছে এই খাত এখনও আড়ালে রয়ে গেছে।
বিষয়টি যেন ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছেই সীমাবদ্ধ। অচেনা অথচ প্রয়োজনীয় এ খাতে গবেষণা করেছেন উল্কাসেমির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনায়েতুর রহমান। স্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি গবেষণা করছেন। গবেষক এনায়েতুর রহমান বলেন, যখন প্রতিবেশী সব দেশের দিকে তাকাই, শুধু প্রতিযোগিতা দেখলে চলবে না; আমি তাদের কর্মপরিকল্পনা দেখি। বাংলাদেশ কেন এই সাফল্য অর্জন করতে পারবে না। আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা সেই ভবিষ্যৎ গড়ার মূল চাবিকাঠি। তাদের সহযোগী হবেন শিক্ষক ও অভিভাবক।
জানা গেছে, বর্তমান প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম মেধার (এআই) সেমিকন্ডাক্টর চিপের ওপর নির্ভরশীল। ভবিষ্যতের এই নেতৃত্বস্থানীয় প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে স্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমি। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছে সাড়ে পাঁচশ বাংলাদেশি দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার।
আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে মাল্টিবিলিয়ন ডলারের বাজারে রূপান্তর করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলেছে। স্থানীয়ভাবে বছরজুড়ে সর্বাধিক ডাউনলোড হয়েছে এমন পাঁচটি অ্যাপ গবেষণা সুস্পষ্ট করেই বলা যায়, সারাবিশ্বের সব ডিজিটাল নাগরিকই এখন অ্যাপ ব্যবহার করছেন।
তাও আবার একটি-দুটি নয়; একাধিক অ্যাপ। অর্থাৎ পুরো ডিজিটাল জনসংখ্যাই এখন অ্যাপ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত। বিশ্বের বহু দেশে এখনই অ্যাপ ছাড়া কিছুই করা যায় না। সর্বাধিক ডাউনলোড বা জনপ্রিয়তার গবেষণা বলছে, যে তত্ত্ব সামনে আনছে তা সুস্পষ্টভাবেই ভবিষ্যতে অ্যাপ দুনিয়ার নিয়ন্ত্রণ সুস্পষ্ট করেছে; যার নেতৃত্বে রয়েছে মেটা, হোয়াটসঅ্যাপ, ফ্লিপকার্ট ও ইনস্টাগ্রাম। নিজেকে এখনও জনপ্রিয়তায় বর্ষসেরা করেছে মেটার উদ্ভাবন আর হোয়াটসঅ্যাপ।
স্টারলিংক ও কিছু প্রশ্ন
অবশ্যই সিমিউই-৪, সিমিউই-৫ সাবমেরিনের সঙ্গে আরও প্যারালাল সংযোগ প্রয়োজন আমাদের। নদীমাতৃক দেশ; যেখানে ফাইবার যাবে না, সেখানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পৌঁছাবে; সমুদ্র জাহাজে থাকবে, বিশেষ ব্যবসার চাহিদা পূরণে টেকসই ইন্টারনেট লাগবেই। কিন্তু ফাইবার ইন্টারনেট থ্রিজি/ফোরজি মোবাইল ইন্টারনেট সার্ভিস টিকিয়ে রাখার সব ব্যবস্থা করেই স্টারলিংককে সুযোগ দিতে হবে, যা অঞ্চলভিত্তিক ইন্টারনেট কাভারেজ নিশ্চিত করবে। ইলন মাস্ক বা বিশ্বের শক্তিধর দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বা ডগির (ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি, যুক্তরাষ্ট্র) প্রধানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আলাদা বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যথায়, ৩০ বছরে গড়ে ওঠা বেসরকারি খাতে ইন্টারনেট অবকাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। বিশ্বের সঙ্গে সমতালে শিক্ষা, যোগাযোগ ও ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বাড়ার শঙ্কা অমূলক নয়।
ডিজিটাল ঋণ
ডিজিটাল ঋণ পরিষেবা উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে জিএসএমএ গ্লোমো বর্ষসেরা ফিনটেক ইনোভেশনে পুরস্কৃত হয় হুয়াওয়ে ও বিকাশ। বার্সেলোনায় আয়োজিত চলতি বছরের মোবাইল কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) আসরে প্রতিষ্ঠান দুটি বিশেষ সম্মাননা পেয়েছে। গ্লোমো বেস্ট ফিনটেক ইনোভেশন পুরস্কারের মাধ্যমে আর্থিক পরিষেবা খাতের সেসব যুগান্তকারী উদ্যোক্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যারা জনসাধারণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সেবার পরিচালনা ও ব্যবহারের প্রক্রিয়াকে রূপান্তরিত করে। বিকাশ ও হুয়াওয়ে বাংলাদেশে পে লেটার পরিষেবায় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। এমন উদ্যোগ ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে স্বল্পমেয়াদি ক্ষুদ্রঋণ পরিষেবা দিয়ে তাদের প্রতিদিনের খরচের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
ফাইভজি ইন্টারনেট
কৃত্রিম মেধায় তৈরি (এআই) সল্যুশনের মাধ্যমে উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্র্যান্ড এরিকসন বাংলাদেশে কাজ করছে। এতে অংশীজন হয় স্থানীয় অপারেটর গ্রামীণফোন। কারিগরি দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে বিশ্বমানের পরিষেবা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য, যা গ্রাহকের নিত্যনৈমিত্তিক পরিবর্তনশীল চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে উদ্যোক্তারা জানান। আগামী ছয় বছর এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দ্রুতগতির উদ্ভাবনী পরিষেবা চালু, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার মান সমৃদ্ধ করা ও দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে গতিশীল করতে কাজ করবে অপারেটরটি, যা গ্রাহক অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে দেবে পূর্ণতা। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান এবং বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মালয়েশিয়ার হেড অব এরিকসন ডেভিড হেগারব্রো সম্মিলিত উদ্যোগের কথা বলেন।
অ্যাপ ডেভেলপ
বাংলাদেশে অ্যান্ড্রয়েডের ব্যবহার বেড়েছে। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে কাজ করছে এমন আগ্রহী তেমন বাড়েনি। সারাবিশ্বে বছরে ১৪ হাজার কোটি অ্যাপ
ও গেম ডাউনলোড হয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এ বাজারের আর্থিক মূল্য ৬২ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বে অ্যাপ ডেভেলপারের সংখ্যা ৫৯ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপারের সংখ্যা বৈশ্বিক তুলনায় এখনও পিছিয়ে। অ্যান্ড্রয়েড প্রকৌশলী মহি-উস-সুন্নাত বলেন, আমরা চাই বাংলাদেশের নবীন ডেভেলপাররা অ্যান্ড্রয়েড নিয়ে কাজে আগ্রহী হোক। বিশ্বের অন্যসব দেশের তুলনায় আমাদের দেশে উল্লেখযোগ্য অ্যাপ ডেভেলপার নেই, বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপার। নবীন ডেভেলপার ও ভবিষ্যতে যারা অ্যাপ ডেভেলপমেন্টে ক্যারিয়ার গড়বেন, তাদের দক্ষতা বাড়াতে কাজ করব।
- বিষয় :
- সালতামামি ২০২৫
- প্রযুক্তি
