স্মার্ট টিভিতে হ্যাকিং
সাব্বিন হাসান
প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ | ১০:৩২
সাইবার ঝুঁকির লক্ষ্য এবার স্মার্ট টিভি। প্রশ্ন আসবে, সেটি আবার কীভাবে? টিভি থেকেও হ্যাকিং হয়? এমন অনেক প্রশ্ন সামনে চলে আসছে, তাই তো? আসাটাই তো স্বাভাবিক। এসব প্রশ্নের সদুত্তর খুঁজতে গিয়ে সামনে এলো চমকে দেওয়ার মতো সব তথ্য। বিশেষজ্ঞরা এ প্রসঙ্গে বলছেন, দূর নিয়ন্ত্রিত ঘরের স্মার্ট টিভিও হ্যাক করতে পারে সাইবার চক্র। ঠিক এরপর শুরু হবে প্রতারণার নানা ফন্দি-ফিকির; করা হবে যথেচ্ছ ব্ল্যাকমেইল। ব্যক্তিজীবনের ছবি ও ভিডিও চলে যেতে পারে সাইবার চক্রের হাতে।
কিছুদিন ধরে স্মার্ট টিভি হ্যাকিং করার কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ঘটনার অভিযোগ মিলেছে বিশ্বের কয়েকটি দেশে। হ্যাকার এবার স্মার্ট টিভির ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনে নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ দিয়েছে। হাতিয়ে নিয়েছে ব্যক্তিগত তথ্য। তাই স্মার্ট টিভি ব্যবহারে এখন থেকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
সমস্যা হলো ঘরোয়া জীবনে ওতপ্রোতভাবে মিশে থাকা এটি এমন ডিভাইস, যা ঘরে ঘরে, এমনকি বাসায় থাকা শিশু-কিশোররা এটি সহজে ব্যবহার করতে পারে। সেখানে কতটুকু সতর্ক থাকা সম্ভব, তা নিয়েও রয়েছে নানাবিধ শঙ্কা। আদতে বিষয়টি জটিল বলেই প্রতীয়মান হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বুঝেশুনে পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
প্রথমে আসা যাক– বুঝবেন কীভাবে যে ঘরের স্মার্ট টিভি হ্যাকিং করার প্রচেষ্টা হয়েছে? বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখেছেন, কিছু সাদামাটা লক্ষণ দেখে এ ঘটনার উপস্থিতি অনুমান করা সম্ভব। জেনে নেওয়া যাকে কী সেসব লক্ষণ।
হঠাৎ ধীরগতি
হয়তো টিভি ঠিকই চলছে, অর্থাৎ তার স্পিড ঠিকই ছিল, কিন্তু হঠাৎ দৃশ্যমান হলো গতি আগের মতো নেই। ঠিক তখনই সতর্ক হতে হবে। টিভি যদি ধীরে কাজ করে বা ক্র্যাশ করে, তাহলে এটি হ্যাকিং হওয়ার অন্যতম লক্ষণ।
অজ্ঞাত অ্যাপ
হঠাৎ করে টিভি সেটে অচেনা অ্যাপস দৃশ্যমান হতে পারে (অর্থাৎ যেসব অ্যাপ ইনস্টল করেননি)। এটি হ্যাকিং প্রচেষ্টার অন্যতম কারণ।
অচেনা পপ-আপ
টিভিতে কারণ ছাড়াই অচেনা পপ-আপ দৃশ্যমান হতে পারে। এটি হ্যাকিং প্রচেষ্টার অন্যতম লক্ষণ বলে ধরে নেওয়া যায়। এটি বেশির ভাগ হ্যাকিং হওয়া টিভির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান।
ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন
টিভির ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন যদি অকারণে ব্যবহৃত হয়, যখন বুঝবেন এটি অস্বাভাবিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা হলেও এটি হ্যাকিং প্রচেষ্টার অন্যতম কারণ বলে বিবেচিত।
ইন্টারনেটের অস্বাভাবিক আচরণ
টিভির ইন্টারনেট ব্যবহার যদি হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক হিসেবে দৃশ্যমান হয়, এতে ইন্টারনেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়, তাহলে এটি হ্যাকিং প্রবণতার লক্ষণ।
সুরক্ষায় যা করবেন
প্রথমে টিভির সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট করতে হবে। বিশেষ প্রয়োজনে টিভি নির্মাতার নিবন্ধিত পরিষেবার সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মতো ঘরের স্মার্ট টিভির কঠিন পাসওয়ার্ড তৈরি করতে হবে। এতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
ধারণা নেই এমন অচেনা অ্যাপ ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। টিভিতে শুধু নির্ভরযোগ্য সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিভিতে সংযুক্ত ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহৃত না হলে তা খেয়াল করে বন্ধ রাখতে হবে। টিভির ইন্টারনেটের সংযোগ নিয়ম করে যাচাই করতে হবে। ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থা কর্তৃক কোনো জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কিনা, তা নিয়মিত দেখভাল করতে হবে। সাধারণভাবে কোনো অস্বাভাবিকতা দৃশ্যমান হলে তাৎক্ষণিক সমস্যাটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
স্মার্ট টিভিতে যুক্ত থাকা ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন দূর থেকে নিয়ন্ত্রিত নিয়ে প্রতারক চক্র যে কারও বাসার অনেক বিষয়ে নজরদারি করতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, টিভি হ্যাকের পরে আবার আক্রান্ত গ্রাহককে নানাভাবে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনা ঘটেছে। সাইবার গবেষকরা বলছেন, স্মার্ট টিভি হ্যাকিং থেকে সুরক্ষা পেতে দর্শকদের অবশ্যই সতর্ক থাকার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত টিভির সুরক্ষায় যা কিছু বিবেচ্য, তা যাচাই-বাছাই করতে অনীহা থাকা চলবে না। অনেকে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমের স্মার্ট টিভি ব্যবহারে তেমন একটা সচেতন নন। তাই পরিচালনা নিয়ে যত্নআত্তি নেই বললেই চলে। কিন্তু টিভির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন জরুরি। অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমে যুক্ত থাকা যে কোনো ধরনের ডিভাইসে হ্যাকিং প্রচেষ্টা হবে– এটিই স্বাভাবিক। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
- বিষয় :
- সাইবার নিরাপত্তা
