ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডিজিটাল অমরত্ব কতটা বাস্তব

ডিজিটাল অমরত্ব কতটা বাস্তব
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৪০

ডিজিটাল অমরত্ব বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এটাই প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ডিজিটাল বিষয়বস্তুই এ প্রক্রিয়ার সফলতার জন্য সবচেয়ে জরুরি। কারণ, এটিই ডিজিটাল অমরত্ব অর্জনের প্রধান শর্ত, যা অপূর্ণ রেখে এই ভবিষ্যৎ অন্তর্মুখী উদ্দেশ্যে দৃশ্যত মানবিক আবেগকে কোনোভাবেই স্পর্শ করতে পারবে না। লিখেছেন সাব্বিন হাসান

জীবনাবসানের পরও ডিজিটাল কৌশলে মৃত ব্যক্তির সব ধরনের স্মৃতি জীবিত রাখা সম্ভব বলে দাবি করা হয়েছে। কীভাবে সম্পন্ন হবে এই ডিজিটাল আফটার লাইফের প্রক্রিয়া, তা নিয়ে প্রশ্নের সদুত্তরে কিছু তথ্য-উপাত্ত বেরিয়ে এলো।

জীবনাবসানের পরে ডিজিটাল যাপন

ডিজিটাল আফটার লাইফ, অর্থাৎ মৃত্যুর পরও মৃত ব্যক্তির সব ধরনের স্মৃতিসত্তা সক্রিয় থাকা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মৃতের ডিজিটাল সংস্করণ বা ডিজিটাল টুইন এখন সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ধারণা হিসেবে সামনে এসেছে। সারাবিশ্বে এ নিয়ে যেন হইচই পড়ে গেছে।

বিশাল বিনিয়োগ

সারাবিশ্বে ডিজিটাল আফটার লাইফ প্রকল্পে এখন বড় ধরনের বিনিয়োগের খবর পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রের উন্নয়নে মার্কেট ক্যাপিটাল এখন ১০০ বিলিয়ন পাউন্ড। জটিল এ ধারণার মূলমন্ত্র হলো মৃতের সত্তাকে সক্রিয় রেখে তাঁকে স্মৃতিতে জীবন্ত করে তোলা।

ভিত্তির নিয়ামক

কিছু বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয় ডিজিটাল আফটার লাইফ প্ল্যাটফর্ম। কারণ, এসব বিষয়ে অনেক আলোচনার বিষয়বস্তু রয়েছে। যেমন– মৃত ব্যক্তির ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ছবি আর ভিডিওচিত্র ব্যবহার করে নির্মিত হয় হরেক রকম কোলাজ, যা কিনা মৃতের স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে দৃশ্যমান ভূমিকায় কাজ করে।

ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো বৈশ্বিক সামাজিক প্ল্যাটফর্মে মৃত ব্যক্তির প্রোফাইলকে মেমোরিয়াল পেজে রূপান্তর করা যায়। সেই পেজে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন বন্ধু, আত্মীয় ও পরিজনরা। গ্রিফবট বা ডেথবটের মতো বেশ কিছু চ্যাটবট তৈরি হয়েছে, যা এআই পরিচালিত। চ্যাট হিস্ট্রি আর ভয়েস ব্যবহার করে এখন বেশ কিছু চ্যাটবট তৈরি করা হচ্ছে। এটি কারও মৃত্যুর পরে প্রিয়জনের সঙ্গে আগের মতোই স্বয়ংক্রিয় অথচ মৃত ব্যক্তির মতো ভাষায় কথোপকথন করতে পারদর্শী হবে। গবেষকরা বলছেন, স্টোরি ফাইল বা হেয়ারআফটার এআইর মতো প্ল্যাটফর্ম মৃত ব্যক্তির জীবনের সব গল্প যত্নসহকারে সংরক্ষণ করে। যেন ভবিষ্যতে পরবর্তী প্রজন্ম সেই মৃত ব্যক্তিকে ইচ্ছামতো প্রশ্ন করতে পারে; পেতে পারে অজানা অনেক প্রশ্নের সদুত্তর। জীবিত সময়ে হয়তো যেসব প্রশ্ন মনে এলে কখনও করা হয়নি।

ডিজিটাল উত্তরসূরি

অভূতপূর্ব এই ব্যবস্থায় ডিজিটাল উত্তরসূরি যুক্ত করার সুবিধা থাকবে। এই সুবিধা পেতে অনলাইন অ্যাকাউন্টের আগাম তালিকা তৈরি করে রাখার সুযোগ রয়েছে। কারও মৃত্যুর পরে সেসব তথ্য কী করা হবে; একেবারে মুছে ফেলা হবে, নাকি পুনরায় সংরক্ষণ করা হবে– সেসব বিষয়ে আগাম নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে। ডিজিটাল আফটার লাইফ প্রোফাইল তৈরি করতে এটা সহায়ক কনটেন্ট হিসেবে কাজ করবে।

ডিজিটাল অমরত্ব

ডিজিটাল অমরত্ব, অর্থাৎ ভার্চুয়াল পরকালে অনন্ত জীবন ও পরম সুখের এমন ধারণা যেন মানবিক বিস্ময়ে মুগ্ধতার আরেক নামান্তর।

ডিজিটাল অমরত্ব সম্পর্কিত প্রতিবন্ধকতা ও সম্ভাব্য সব বিকল্প চিহ্নিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত বিশদ গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল সামনে এসেছে। সব মিলিয়ে ৩৯টি প্রাসঙ্গিক গবেষণা বিশ্লেষণ করে এই গবেষণায় দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে– ডিজিটাল অমরত্ব অর্জনের প্রতিবন্ধকতা ও ডিজিটাল স্মৃতি সংরক্ষণের জন্য তৈরি যন্ত্রাংশের ভাষা। 

গবেষণা থেকে জানা গেছে, ডিজিটাল অমরত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা আইনগত, নৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের সঙ্গে আন্তঃসম্পর্কিত।

ভবিষ্যৎমুখী বাস্তব

ডিজিটাল অমরত্ব গবেষণার প্রধান লক্ষ্য হলো মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ডিজিটাল তথ্য, বিষয়বস্তু, সংগ্রহ পদ্ধতি ও গবেষণায় এর অখণ্ডতা সম্পর্কিত প্রতিবন্ধকতা অনুসন্ধান করা।

কারণ, এই উদ্দেশ্য অর্জনের প্রধান ভিত্তিই হলো বিষয়বস্তু। বিশ্লেষকরা বলছেন, গবেষণাটি আরও মানোন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করে। কারণ, এ বিষয়ে গবেষণার সংখ্যা সীমিত ও বর্তমান অগ্রগতি মূলত ভবিষ্যতের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষণ করে  গবেষকরা এটাই প্রমাণ করেছেন যে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া ডিজিটাল বিষয়বস্তুই এ প্রক্রিয়ার সফলতার জন্য সবচেয়ে জরুরি। কারণ, এটিই ডিজিটাল অমরত্ব অর্জনের প্রধান শর্ত, যা অপূর্ণ রেখে এই অন্তর্মুখী উদ্দেশ্যে দৃশ্যত মানবিক আবেগকে একেবারেই স্পর্শ করতে পারবে না।
 

আরও পড়ুন

×