ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান
রাজবাড়ী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২২ | ০১:৩৮ | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২২ | ০১:৩৮
মাদরাসার মূল ভবনটির ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। শিক্ষকরা চেয়ার-টেবিল অন্যত্র সরিয়ে নিজেদের বসার ব্যবস্থা করছেন। ভবনের সামনে একটি আমগাছের নিচে চলছে ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠদান। রোদ ঠেকাতে একটি সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে একপাশে।
ঘটনা রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের পাটকিয়াবাড়ি দাখিল মাদরাসায়।
মাদরাসাটির সুপার মো. খায়রুল ইসলাম জানান, ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২৭৪ জন। শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন। মাদরাসা একটি পাকা ভবন আর দুটি টিন শেড ভবন রয়েছে। ১৯৯৫-৯৬ অর্থ বছরে পাকা ভবনটি নির্মাণ করা হয়। তারপর আর সংস্কার বা মেরামত করা হয়নি।
পাকা ভবনের তিনটি কক্ষের একটিতে শিক্ষকরা বসতেন। অন্য দুটিতে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির ক্লাস নেওয়া হতো। টিনশেড ভবনে নেওয়া হয় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির ক্লাস।
গত মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে পাকা ভবনটির শিক্ষক লাইব্রেরির কক্ষের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়তে শুরু করে। তবে ওই সময় কোনো শিক্ষক ভবনটিতে ছিলেন না।
মাদরাসার সহকারী শিক্ষক উত্তম গোস্বামী বলেন, এখন ভবনটির যে অবস্থা তাতে ক্লাস নেওয়ার কোনো উপায়ই নেই। ভবনে ক্লাস নেওয়ার মত অবস্থা না থাকায় একটি ক্লাস আমতলায় খোলা আকাশের নিচে অন্যটি পাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নেওয়া হচ্ছে। সামনে প্রচণ্ড গরমের দিন আর ঝড় বৃষ্টির সময় আসছে। নতুন একটি ভবন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে ।
মাদরাসার সুপার মো. খায়রুল ইসলাম জানান, বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান, শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রকৌশল কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। এখন যে অবস্থা তাতে এই ভবন আর ব্যবহারের উপযোগী নেই। নতুন একটি ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
পাটকিয়াবাড়ি দাখিল মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ভবনটি আরও তিন বছর আগে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। তখনই এটা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা উচিত ছিল। কিন্তু ক্লাস নেওয়ার বিকল্প কোনো জায়গা না থাকায় ওই ভবনটিকেই ব্যবহার করা হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এজাজ কায়সার জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ভবন নির্মাণের বিষয়টি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের হাতে। তার কাছে এ সংক্রান্ত আবেদন এলে তিনি ফরোয়ার্ড করে দেবেন।
রাজবাড়ী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ সহকারী প্রকৌশলী (বালিয়াকান্দি উপজেলার দায়িত্বে) মো. নাঈমুর রহমান জানান, ভবনটি আরও তিন বছর আগে থেকেই খারাপ। এর আগে ভবনটি ব্যবহার না করতে মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছিল এবং নিজস্ব অর্থায়নে মেরামতের জন্য বলা হয়েছিল। ভবনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলবেন।
