‘গমের রাজধানী’ ঠাকুরগাঁওয়েই গম পাচ্ছে না সরকার
চাতালে গম শুকাচ্ছেন চাষিরা
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ২৩:১৪ | আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২২ | ২৩:৩০
গমের রাজধানী খ্যাত ঠাকুরগাঁওয়ে এবার কৃষকের থেকে গম সংগ্রহ করতে পারছে না খাদ্য অধিদপ্তর। কারণ, সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে গমের দাম কেজি প্রতি ২ টাকা বেশি।
কৃষকরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছর একর প্রতি ৪০-৪৫ মন হলেও এবার ফলন হয়েছে একর প্রতি ৫৫-৬০ মন। বাজারে গমের দামও বেশি। গত বছর বাজারে গমের দাম ছিল প্রতি কেজি ২৫-২৬ টাকা। এবার প্রতি কেজি ২৯-৩০ টাকা বাজারেই বিক্রি হচ্ছে কৃষকের উৎপাদিত গম। গত বছর সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের দর ছিল ২৮ টাকা। সে বছর দশ ভাগের এক ভাগ অর্থ্যাৎ মাত্র ২ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করেছিল খাদ্য বিভাগ।
দেশে মোট গম উৎপাদনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ উৎপাদন হয় ঠাকুরগাঁওয়ে। সে কারণে এ জেলাকে গমের রাজধানী বলা হয়। এখান থেকে খাদ্য অধিদপ্তর এবার ১ লাখ মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে সরকার প্রতি কেজি গমের দাম নির্ধারণ করেছে ২৮ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে গম বিক্রি হচ্ছে ত্রিশ টাকা কেজি দরে। এ কারণে খাদ্য বিভাগের গম ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় চলতি বছর গমের আবাদ হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদনও হয়েছে প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন।
এবছর খাদ্য অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি উপজেলায় ২৮ হাজার ২৮২ জন চাষিকে লটারির মাধ্যম নির্ধারণ করেছে। প্রত্যেক চাষির থেকে ১ মেট্রিক টন করে গম ক্রয়ের কথা রয়েছে। তবে বাজারে গমের দাম বেশি থাকার কারণে খাদ্য বিভাগে গম বিক্রির আগ্রহ নেই চাষীদের। লোকশান করে চাষি সরকারের কাছে গম বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন।
এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বৃহৎ বীজ উৎপাদন জোন ঠাকুরগাঁও। তিনটি বীজ উৎপাদন জোনে চাষিদের মাধ্যমে উৎপাদন করে সারাদেশে গম বীজ সরবরাহ করে বিএডিসি। এ বছর ঠাকুরগাঁও থেকে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন গম বীজ কিনছে বিএডিসি। তবে বিএডিসির সংগৃহীত গম বীজের দর এখনও নির্ধান হয়নি।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল গনি বলেন, বিগত কয়েক বছর খাদ্য গুদামে গম বিক্রি করেছি। কিছু লাভ হয়েছিল। এবছর সরকার যে দর দিয়েছে, তাতে প্রতি মেট্রিক টনে তিন হাজার টাকা লোকশান হবে। তাই এবার আমার মতো কোনো চাষি সরকারের কাছে গম বিক্রি করবেন না। এখন দাম বাড়ালেও আর চাষিরা গম দিতে পারবে না সরকারকে। কারণ, চাষিদের কাছে গম মজুদ নেই। সরকার যদি মৌসুমের প্রথমে সঠিক দাম নিধার্রণ করে, তাহলে চাষিরা বেশি লাভবান হয়। গম চাষে আগ্রহ থাকবে।
ওই গ্রামের আরেক কৃষক নুর হোসেন বলেন, এবার গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দামও ভালো। গমের এই রকম দাম পেলে আগামীতে বেশি করে গমের চাষ করব। প্রতি একর গমে সব মিলিয়ে করচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা আর গম বিক্রি করেছি ৬০ হাজার টাকা। সেই গমের জমিতে এখন পাটের চাষ করছি।
ঠাকুরগাঁও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, চাষি পর্যায়ে গম সংগ্রহের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বাজারে গমের দাম বেশি খাকায় তেমন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না কৃষকের থেকে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হোসেন বলেন, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গমের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে গমের দামও ভালো। সে কারণে গম চাষিরা খুশি। গমের জমিতে এখন পাটের আবাদ হচ্ছে। আশা করি কৃষকরা পাটেও ভালো লাভবান হবেন।
- বিষয় :
- গম
- ঠাকুরগাঁও
- গম বিক্রি
- খাদ্য অধিদপ্তর
