গুম নয়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আত্মগোপন করেছিলেন তিনি
মো. সুলতানুজ্জামান হেলাল
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০:২৭ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২:০১
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী পৌর শহরের নলহরা (নল্যা) বাজারের আরএনজি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক মো. সুলতানুজ্জামান হেলালকে (৫০) নিজ অফিস কক্ষে খুনের পর লাশ গুম করার যে অভিযোগ উঠেছিল তা সত্য নয়। ওই শিক্ষক প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গুমের নাটক করে নিজেই আত্মগোপন করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মো. সুলতানুজ্জামান হেলাল উপজেলা বানিয়াজান ইউনিয়নের বাঐজান গ্রামের মৃত হাসান আলী মন্ডলের ছেলে।
ঘটনার তিনদিন পর রোববার সকালে টাঙ্গাইল শহরের পৌর উদ্যানে প্রকাশ্যে আসেন তিনি। এরপর বিটিসিএল টাঙ্গাইলে কর্মরত কাজী রইজ উদ্দিনের মাধ্যমে প্রথমে তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এরপর খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিকেলে তাকে ধনবাড়ী থানা পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে সুলতানুজ্জামান হেলাল ধনবাড়ী বাজার থেকে কাঁচা বাজার করে নল্যা বাজারের বিষ্ণুর সেলুনের সামনে তার মোটরসাইকেলটি রেখে চা খেতে যান। দীর্ঘ সময় চলে যাওয়ায় পরও তিনি ফিরে না এলে তাকে ফোন দেন বিষ্ণু। ফোন বন্ধ পাওয়ায় বিষ্ণু বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে পরিবারের লোকজন তাকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকেন। এর এক পর্যায়ে তার স্কুলের অফিস কক্ষে মেঝের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা রক্ত ও মোবাইল ফোনটি পায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। এরপর তাকে খুন করে লাশ গুম করা হয়েছে বলে ধারণা করেন তারা। পরে র্যাব, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামে। কিন্তু ঘটনার কোনো কুল-কিনারা করতে পারছিল না তারা। রহস্য ঘণীভূত হতে থাকে। অবশেষে রোববার সকালে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে নাটকীয়ভাবে তার খোঁজ মেলে।
বিটিসিএল টাঙ্গাইলে কর্মরত কাজী রইজ উদ্দিন জানান, সকালে হেলাল অসুস্থ্য অবস্থায় তাদের সহযোগিতা চেয়ে জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে ও নাকে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল। সেখানে কোনো এক নারীর সহযোগিতায় তিনি ছাড়া পেয়েছেন। ওই নারী এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে টাঙ্গাইলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।
ধনবাড়ী থানার এসআই মাজাহার বলেন, ডিবি পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হেলালকে আমাদের হেফাজতে দিয়েছে। এ ব্যাপারে ধনবাড়ী থানার ওসি চান মিয়া জানান, প্রতিযোগিতা করে স্কুল করেছিলেন হেলাল। আশানুরূপ ছাত্র না পেয়ে এবং সম্ভবত দেনায় পড়ে দিশেহারা হয়ে যান তিনি। অফিসে পড়ে থাকা রক্ত মুরগির উল্লেখ করে ওসি জানান, প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদের জেরে তাদের শিক্ষা দিতে তিনি গুমের নাটক করেছেন।
স্থানীয় সহর প্রি-ক্যাটেড অ্যান্ড হাইস্কুলের পরিচালক সহর আলীর ছেলে মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমারা বাবাকে ফাঁসাতে হেলাল এ নাটক সাজিয়েছেন।
- বিষয় :
- আত্মগোপন
- গুমের নাটক
- ধনবাড়ী
