ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সিলেট নগরী

একদিকে পাতাল বিদ্যুৎ, অন্যদিকে তারের জঞ্জাল

একদিকে পাতাল বিদ্যুৎ, অন্যদিকে তারের জঞ্জাল
×

ঝুলন্ত তার সরাতে সিলেট সিটি করপোরেশন নোটিশ দিলেও কাজে আসছে না। নগরীর প্রায় স্থানেই ঝুলছে ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন সংস্থার তার। ছবিটি জিন্দাবাজার পয়েন্ট থেকে তোলা - ইউসুফ আলী

ফয়সল আহমদ বাবলু, সিলেট

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২০ | ১৩:৩৫

সিলেট নগরীর আম্বরখানা থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত এদিক দিয়ে গেলে যে কারও চোখ জুড়িয়ে যাবে। রাস্তার পাশে নেই বিদ্যুতের কোনো খুঁটি, নেই কোনো তারের জঞ্জাল। ওপরদিকে তাকালেই মনে হবে এটি উন্নত বিশ্বের কোনো এলাকা। কারণ এদিক দিয়ে স্থাপন করা হয়েছে বিদ্যুতের পাতাল লাইন। অথচ মাত্র সিকি কিলোমিটার দূরেই আবার যেই-সেই দৃশ্য। চৌহাট্টা থেকে বন্দরবাজার সবখানেই তারের জঞ্জাল। এসব জঞ্জাল সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের (আইএসপি) তারের জঞ্জাল কোনোভাবেই সরানো যাচ্ছে না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সিলেট নগরীর ঝুলন্ত তার মাটির নিচ দিয়ে নেওয়ার জন্য তারবিহীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। নগরীর আম্বরখানা থেকে বন্দরবাজার, পূর্ব দরগা গেট থেকে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পর্যন্ত চৌহাট্টা থেকে বাগবাড়ি পয়েন্ট পর্যন্ত এবং উপশহরের কয়েকটি ব্লকেও পাতাল দিয়ে বৈদ্যুতিক তার নেওয়া হবে। আর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি টাকা। ওই প্রকল্পে নগরীতে ১১ কেভি ২৫ কিলোমিটার, শূন্য দশমিক ৪ কেভি ১৮ কিলোমিটার ও ৩৩ কেভি ২ সার্কিট কিলোমিটার পাতাল বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণকাজ চলমান।
এ বছরের ৬ জানুয়ারি নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকায় পূর্ণাঙ্গ ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। সেই সঙ্গে এলাকার বিদ্যুতের খুঁটিসহ অন্যান্য সার্ভিস লাইনের তারও অপসারণ করা হয়। তারের জঞ্জাল কমিয়ে নগরীকে একটি স্মার্ট ডিজিটাল সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে নগরীজুড়ে চলছে এই কাজ। অথচ নগরীর চৌহাট্টা থেকে বন্দরবাজার, বন্দরবাজার থেকে টিলাগড় সবখানেই রাস্তার দু'পাশে বিদ্যুতের খুঁটি ও অন্যান্য সার্ভিস লাইনের তার ঝুলছে।
গেল বছরের ১৭ এপ্রিল নগরীর নাইওরপুল পয়েন্টে বিদ্যুতের খুঁটিতে তারের জঞ্জালে আগুন লাগে। রামকৃষ্ণ মিশন সংলগ্ন দুটি খুঁটিতে ডিশ ও ইন্টারনেটের তারের বক্স থেকে আগুনের সূত্রপাত। তাৎক্ষণিক ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও এখনও ঝুঁঁকিতে রয়েছে পুরো নগরী। কেবল অপারেটর (ডিশ), ইন্টারনেট ও টিঅ্যান্ডটি কেবলের কারণে ঝুঁঁকির মধ্যে রয়েছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। স্থানীয়রা জানান, পুরো নগরী এখন তারের জঞ্জালে আবদ্ধ। বৈদ্যুতিক খুঁটিতে গোল করে বাঁধা রয়েছে তারগুলো। বেশ কিছু জায়গায় হাঁটতে গেলে এসব তার মাথাতে আঘাত করে। এ থেকে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার বিষয় উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পর্যটন নগরী সিলেট সৌন্দর্য হারাচ্ছে এসব তারের জঞ্জালে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠায়। এতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নেওয়ার কাজ শেষ পর্যায়ে। কিছুদিনের মধ্যে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের আওতায় আসা এলাকার বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং তাতে থাকা সব তার অপসারণ করা হবে। খুঁটিতে থাকা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তারগুলোও অপসারণ করা হবে। এতে ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কয়েক দফা সভা করেও সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এ ব্যাপারে আইনগতভাবে সিলেট সিটি করপোরেশনের কোনো দায়দায়িত্ব নেই।
এ বিজ্ঞপ্তির পর ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন সিলেট আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন সংবাদ সম্মেলনে জানায়, কেবল লাইন অপসারণ করা হলে নগরীর প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। এ সময় তারা বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ইন্টারনেট কেবল লাইন অপসারণ না করার আহ্বান জানান।
এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, বিদ্যুতের খুঁটিতে তারের জঞ্জাল রয়েছে। খুঁটিগুলো সরিয়ে নিয়ে জঞ্জাল কমবে। এসব সরানোর জন্য সিটি করপোরেশন থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, খুঁটিগুলো বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ইন্টারনেট সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো বহু বছর ধরে এসব খুঁটি ব্যবহার করে আসছে। এখন ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইন হলে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া তাদের দায়িত্ব।
এ ব্যাপারে তারবিহীন বিদ্যুৎ উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক এম নাজিম উদ্দিন জানান, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নিজেদের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ লাইনের কাজ শেষে হলে সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। ইন্টারনেট কেবল অথবা স্থানীয় কেবল অপারেটর সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নিজ দায়িত্বে গ্রাহকদের লাইন সঞ্চালন করবেন।


আরও পড়ুন

×