ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মরা সড়ক, খোঁড়া সেতু

মরা সড়ক, খোঁড়া সেতু
×

তিন বছরেও শেষ হয়নি সুনামগঞ্জের আবুয়া নদীর ওপর সেতুর অ্যাপ্রোচ কাজ -সমকাল

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০

সাম্প্রতিক বন্যায় বিপর্যস্ত সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর ও মধ্যনগরসহ ভাটি অঞ্চলের যোগাযোগ স্থাপনকারী নিয়ামতপুর-তাহিরপুরের অচল সড়কটি সংস্কারের অভাবে যেন মরেই গেছে। চলাচলের প্রায় অনুপোযুক্ত হয়ে পড়া সড়কটিতে চলতে যাওয়া মানে যে কোনো সময় মরণ ফাঁদে পড়া। ভোগান্তি বাড়াতে সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আবুয়া নদী ও ফতেহপুরের সেতু দুটির বেহাল অবস্থা।
কয়েক মাস আগেও এই সড়কটি কাজে লাগাতেন ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দারা। লাখো মানুষের যোগাযোগ রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ সুনামগঞ্জ-জামালগঞ্জ সড়কের নিয়ামতপুর থেকে ফতেহপুর হয়ে ১৭ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ শুরু হয় ৫০ বছরেরও বেশি আগে। সড়কটি চালু থাকলে জেলা সদর থেকে তাহিরপুর, মধ্যনগরসহ ভাটি অঞ্চলে যাতায়াতে আট কিলোমিটার পথ কমে যায়। নইলে ঘুরপথে বিশ্বম্ভরপুর হয়ে তাহিরপুরে যেতে হয়। এ ছাড়া সড়কটি চালু থাকলে ফতেহপুর ইউনিয়নবাসী এবং জামালগঞ্জের সঙ্গে বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুরের যোগাযোগও সহজ হয়।
ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সীতেশ রঞ্জন তালুকদার বললেন, 'এই সড়কে শতকোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে অপরিকল্পিত কাজ এবং অনিয়মের কারণে সরকারি টাকার অপচয় হয়েছে। মানুষের কোনো উপকার হয়নি। রাস্তার অবস্থা বেগতিক হলেও ভোগান্তি রয়ে গেছে বহাল তবিয়তে। এ ছাড়া সড়কের আবুয়া নদীর ওপর কোপাগাংয়ে কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু হয়েছে। বছর না ঘুরতেই ভেসে গেছে অ্যাপ্রোচ সড়ক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হেকিম জানান, সেতুটি ৩০ ফুট উত্তরে সরিয়ে করলে সমস্যা হতো না। এখানে করে অর্থের অপচয় হয়েছে। মানুষের কোনো কাজে আসবে না সেতুটি। এ ছাড়া সড়কের বারুঙ্কা গ্রামের পাশের তিন কিলোমিটার সড়কের অংশে যে কোনো কালে পাকা ছিল- তা-ই বোঝার উপায় নেই।
ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পবিত্র ভূষণ তালুকদারের ভাষ্য, আবুয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণের ছয় মাসের মধ্যে সেটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফতেহপুর সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক হয়নি এখনও। আবার অ্যাপ্রোচ হলে কোপাগাংয়ের পথ বন্ধ থাকবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম প্রামাণিক বলেন, 'কোপাগাংয়ের সেতুটি এই অংশ দিয়েই আরও কিছু দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে করতে হবে। ফতেহপুর সেতুর অ্যাপ্রোচ কাজে আলাদা দরপত্রের মাধ্যমে অবশিষ্ট কাজ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'

আরও পড়ুন

×