ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

করোনা নিয়ে নবজাতকের কথা বলার গুজবে তুলকালাম

করোনা নিয়ে নবজাতকের কথা বলার গুজবে তুলকালাম
×

প্রতীকী ছবি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২০ | ০৫:০৪ | আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২০ | ০৬:২৬

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচার নামে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রোহিঙ্গা শিবিরসহ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় গভীর রাতে হঠাৎ বিভিন্ন মসজিদের মাইক থেকে আজান শুরু হয়। এমনকি ঘরে ঘরে আজান এবং বিভিন্ন জায়গায় মিছিলও বের হতে দেখা যায়।

খবর নিয়ে জানা গেছে, টেকনাফের সাবরাং, হ্নীলা, বাহারছড়া, শামলাপুর , সেন্টমার্টিন-দ্বীপ, পৌরসভা ও রোহিঙ্গা শিবিরসহ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের মাইক থেকে হঠাৎ করে থেমে থেমে আজান শুরু হয়। কিছু জায়গায় মিছিলও বের হয়। 

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে সংবাদকর্মী মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির থেকে গুজব শুরু হয়েছে। সেখানে গুজব ছড়ানো হয়েছে যে, এক শিশু জন্মের ৫ মিনিট পরই জানিয়েছে কী খেলে করোনাভাইরাস হবে না। তা বলার পরই শিশুটি মারা যায়। এলাকায় এমন গুজবে তুলকালাম পড়ে গেছে।

তবে স্থানীয়দের কেউ শিশুটি কোথায় জন্ম নিয়েছে তা নিশ্চিত করে জানেন না। কেউ বলছেন, উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে; আবার কেউ বলছেন কক্সবাজারে; কেউবা বলেছেন, ঢাকা, নীলফামারী-লালমনিরহাটের কথা।

পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ শাহীন বলেন, 'রাত ১২টার দিকে এক নিকটাত্মীয় ফোন করে বললেন, দ্রুত একটু আদা, কালোজিরা ও গোলমরিচ খেয়ে নাও। কেন খাব? জানতে চাইলে তিনি বললেন, উখিয়া রোহিঙ্গা শিবিরে এক শিশু জন্মের পর বলেছে, আদা, গোলমরিচ আর কালোজিরা খেলে করোনাভাইরাস হবে না। এই তিনটা কথা বলে শিশুটা মারা গেছে। আমরাও খাচ্ছি। তুমিও খেয়ে নাও। তাহলে করোনা থেকে মুক্তি পাবে। কিন্তু আমি বললাম, এটা গুজব। মিথ্যাচার। এগুলো ঠিক নয়। সতর্ক থাকুন, গুজবে কান দেবেন না।'

অনেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন ঘটনার কথা তুলে ধরে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবদুল্লাহ মনির বলেন, একটি মহল এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে থাকে। এর আগেও নানা বিষয়ে গুজব ছড়ানো হয়েছে। এসবের বৈজ্ঞানিক বা ধর্মীয় কোনো ভিত্তি নেই। তাই গুজবে কান না দিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সবাইকে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ‘সরকারীভাবে গভীর রাতে মসজিদে একযোগে আজান দেওয়ার কোনো নির্দেশনা ছিল না। মানুষ গুজবে আতঙ্কিত হয়ে এসব করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

×