ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যা: প্রধান আসামি যুবদল নেতা মুকুল গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যা: প্রধান আসামি যুবদল নেতা মুকুল গ্রেপ্তার
×

প্রতীকী ছবি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৩:৪৬

গাইবান্ধার সাঘাটায় চাঞ্চল্যকর শিবির নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোকলেসুর রহমান মুকুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তাকে কখন বা কোথা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি সাঘাটা থানার ওসি মাহবুব আলম।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাহবুব আলম বলেন, ‘মুকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এতটুকুই জেনে রাখেন। এখনো অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে আগামীকাল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে। 

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোনারপাড়া বাজারের চারমাথা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে যুবদল নেতা মুকুল ও শিবিরকর্মী সালাউদ্দিন ও সাইফুল্লাহ বারীর মধ্যে তর্ক বাধে। এর কিছুসময় পর মুকুল তার ভাই পলাশ, যুবদল নেতা আশরাফসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী ও সালাউদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এতে সাইফুল্লাহ বারীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 

এ সময় গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেও শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ২২ জুন রাতেই তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি একই ইউনিয়নের ফুটানি বাজার এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী।

এ হত্যার ঘটনায় পরদিন ২২ জুন রাতে সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহত সাইফুল্লাহ বারীর বাবা মুয়াজ্জিন হাবিবুর রহমান যুবদল নেতা মুকুলকে প্রধান আসামি করে ৬ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও অজ্ঞাত ১৪ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

গ্রেপ্তার মোকলেসুর রহমান মুকুল সদ্য বহিষ্কৃত বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের বর্তমান আহ্বায়ক ও বাটি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। নিহত সাইফুল্লাহ বারী বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি একই ইউনিয়নের শিমুল তাইর গ্রামের মুয়াজ্জিন হাবিবুর রহমানের ছেলে। 

হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মুকুল ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ফাঁসির দাবিতে নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে টানা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছিল। অবশেষে মামলার প্রধান ঘাতক গ্রেপ্তারের খবরে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে কিছুটা স্বস্তি নেমে এসেছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

×