ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রকৌশলীর গাফিলতিতে বিটুমিন ছাড়াই কার্পেটিং

প্রকৌশলীর গাফিলতিতে বিটুমিন ছাড়াই কার্পেটিং
×

বিটুমিন ছাড়াই চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। ছবিটি গত ৫ জুন নাটোরের সিংড়া উপজেলার জামতলী এলাকা থেকে তোলা সমকাল

সিংড়া (নাটোর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৩ | ১৮:০০

সড়ক সংস্কারে একাধিকবার নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। কয়েক দফা কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে দাবি এলজিইডির। এরপরও ধুলাবালু মিশ্রিত ইটের খোয়ার ওপর বিটুমিন ছাড়াই কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে কাজটি শেষ হয়েছে। এ কারণে অনেক জায়গায় উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং। এ অবস্থা সিংড়া উপজেলার জামতলী-বামিহাল-রানীরহাট ৯ কিলোমিটার সড়কে। ঠিকাদার এখন বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

রাস্তার কাজে খুবই ফাঁকিবাজি হয়েছে। এই রাস্তা বেশিদিন টিকবে না বলে দাবি সিকিচোড়া গ্রামের ভ্যানচালক আবদুল মান্নানের।

কাজ তদারকের দায়িত্বে ছিলেন এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত তিনি। তাই কাজটি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন সহকর্মী মশিউর রহমানকে। এই সুযোগে কাজে ফাঁকিবাজি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে জামতলী-বামিহাল-রানীরহাট সড়ক সংস্কারের কাজ পায় এমসি-জেএসএসি (জেভি) নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুটি প্যাকেজে এই কাজের ব্যয় ধরা হয় সাড়ে সাত কোটি টাকা। তবে কাজটি বাস্তবায়ন করছেন নাটোরের আমহাটি এলাকার ইউসুফ আলী সরকার নামে সাব-ঠিকাদার। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়। এরপরও রাস্তা পরিষ্কার না করে বিটুমিন ছাড়াই কার্পেটিংয়ের কাজ হয়েছে।

ইটালি গ্রামের ব্যবসায়ী আসাদ খাঁ বলেন, খুবই নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে এই সড়ক সংস্কারে। বিটুমিন ছাড়াই অপরিষ্কার সড়কে কার্পেটিং হয়েছে। এভাবে কাজ করা আমার জীবনে দেখিনি। এখনই পাথর উঠে যাচ্ছে।

অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় সাব-ঠিকাদার ইউসুফ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্তমানে মালপত্রের দাম দ্বিগুণ, লাভ তো দূরের কথা অনেক টাকা ক্ষতি হবে। ১০ শতাংশ কমিশনে কাজটি কিনে নিয়েছেন। রাস্তার মাপের থেকে ৩০০ থেকে ৩২০ মিটার বেশি কাজ করতে হচ্ছে। এ জন্য ক্ষতিও বেশি হবে। তবে যেখানে যেখানে সমস্যা হচ্ছে, সেখানে ঠিক করে দেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ রফিক বলেন, এর আগে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের পর চিঠি দিয়ে সেগুলো অপসারণ করা হয়েছে। এখন কার্পেটিং কাজও শেষ। তবে কাজে কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।

কাজ তো শেষ, এখন কী করবেন– এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখেন, আমার তো তেমন কিছু করার নেই। কাজে অনিয়ম সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, যা ব্যবস্থা নেওয়ার তারাই নেবে।’

আরও পড়ুন

×