সংস্কারের চার মাসেই সড়কে ধস
বাকেরগঞ্জ উপজেলার শহীদ খান সড়কে ধস-সমকাল
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০
বাকেরগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের শহীদ খান সড়কটি ১ কোটি ১২ লাখ টাকায় সংস্কারের চার মাস পরই একাংশ ধসে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) ভুল পরিকল্পনায় সড়কটি ভাঙন হুমকির মুখে পড়েছে।
সড়কের পাশে গভীর পুকুর থাকলেও সেখানে পাইলিংয়ের ব্যবস্থা নেয়নি এলজিইডি। এ কারণেই সড়কটিতে ধস নেমেছে বলে স্বীকার করেছে তারা।ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বাকেরগঞ্জ পৌর শহরের চৌমাথা সিনেমা হল থেকে পশ্চিমমুখী সড়কটি শহীদ খান সড়ক। উপজেলা পরিষদ ও তুলাতলী নদীর ওপর সেতু পার হয়ে গারুরিয়া ও কলসকাঠিসহ কয়েকটি ইউনিয়নে যাতায়াতে এই সড়কটি ব্যবহৃত হয়। উপজেলা সদর থেকে কয়েকটি ইউনিয়ন রুটের বাস ও ভারি যানবহন চলাচল করে এই সড়ক দিয়ে। ফলে উপজেলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
জানা গেছে, এলজিইডির অর্থায়নে চৌমাথা থেকে শুরু করে ১ হাজার ২০০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জমাদ্দার কনস্ট্রাকশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি গত ১৭ আগস্ট সংস্কার কাজ শুরু করে ২১ ফেব্রুয়ারি শেষ করেছে।
এর চার মাস পরেই সড়কের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। একাধিক স্থানের কার্পেটিং উঠে গেছে। পল্লী বিদ্যুৎ দপ্তরের পাশে গভীর একটি পুকুর রয়েছে। পুকুর সংলগ্ন সড়কের বড় অংশ ফাটল ধরে দেবে যেতে শুরু করেছে। বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া বলেন, শহীদ খান সড়কটি পৌর এলাকার অন্তর্ভুক্ত। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক থেকে বাকেরগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়নে যেতে তুলাতলী সেতুতে যাতায়াতে ওই সড়কটি ব্যবহৃত হয়। এলজিইডির অর্থায়নে সম্প্রতি সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে। পাশের পুকুর সেচ করায় সড়কের একাংশে ফাটল ধরে দেবে গেছে।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জমাদ্দার কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. কালাম বলেন, উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের ভুল পরিকল্পনার কারণে সড়কটি দেবে গেছে। তারা সড়ক সংস্কারের সঙ্গে পুকুর পাড় ঘেঁষে পাইলিং করার কাজ রাখেনি। সড়কের সঙ্গে পাইলিং করা হলে এমনটি হতো না।
বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া স্বীকার করেন, আগের পাইলিং ধসে পড়ায় সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের সঙ্গে নতুন পাইলিং হলে এমন ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না। ধসে পড়া অংশ সংস্কারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
- বিষয় :
- সড়কে ধস
- সড়ক সংস্কার
