কেরানীগঞ্জ থেকে আমতলীতে ফেরা ৮৯ জন কোয়ারেন্টাইনে
ট্রলারযোগে আমতলীতে আসা আটক ১০৯ জন
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৩:০৭ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
করোনাভাইরাসের সংক্রামণ রোধে সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে বুধবার গভীর রাতে ট্রলারযোগে ১০৯ জন বরগুনার আমতলীর গাজীপুর বন্দরে আসেন। খবর পেয়ে তাদের আটক করে পুলিশ। এদের আমড়াগাছিয়া খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সে সাইক্লোন সেল্টারে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এখবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।
জানা গেছে, আমতলী ও পটুয়াখালী জেলার কয়েক হাজার শ্রমিক কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন। গত সোমবার ইটভাটার মালিকরা আকস্মিক শ্রমিকদের ছুটি বাড়ি যেতে বলে। নিরুপায় হয়ে শ্রমিকরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সারাদেশে অঘোষিত লকডাউন উপক্ষো করে ট্রলারযোগে আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের তাফালবাড়িয়া নদীর মগরার ব্রিজের কাছে এসে পৌঁছে।
খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১০৯ জনকে আটক করে। এর মধ্যে ৩৫ জন নারী ও শিশু রয়েছেন। রাত পৌনে ৩টার দিকে ইউএনও মনিরা পারভীন আটকদের মধ্যে ৮৯ জনকে আমতলী উপজেলার আমড়াগাছিয়া খানকায়ে ছালেহিয়া কমপ্লেক্সের সাইক্লোন সেল্টারে কোয়ারেন্টাইনে রাখেন এবং ২০ জন পটুয়াখালীর বাসিন্দা হওয়ায় তাদের পটুয়াখালী প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা ৮৯ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী, ডা. এমদাদুল হক চৌধুরী ও ডা. এবিএম তানজিরুল ইসলাম চিকিৎসা দেন। চিকিৎসকরা বলেন, আগত ৮৯ জনের মধ্যে করোনা ভাইরাসের কোন লক্ষণ নেই। ট্রলারযোগে আগতরা দুইদিন ধরে অনাহারী ছিল। রাতেই তাদের আমতলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করা হয়।
আমতলী থানার ওসি শাহ আলম হাওলাদার বলেন, তাদের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিার পারভীন বলেন, কোয়ারেন্টাইনে থাকা সবাইকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করা হবে। তারা ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।
