ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘ভয়ে’ ত্রাণ বিতরণ বন্ধ

দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘ভয়ে’ ত্রাণ বিতরণ বন্ধ
×

বিতরণের জন্য আনা চাল ফেরত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে -সমকাল

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:১৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনারভাইরাস সঙ্কটের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছিল খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা ‘রাইচ মিল মালিক সমিতি’। বৃহস্পতিবার উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের শতাধিক পরিবারকে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের জন্য সকল প্রস্তুতিও সম্পন্ন করে তারা। কিন্তু স্থানীয় দুই আওয়ামী লীগ নেতার ‘ভয়ে’ শেষ পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।

মালিক সমিতির নেতাদের অভিযোগ, সকালে হঠাৎ স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সংঘঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মিল মালিক সমিতি নেতাদের ডেকে বলেন, তার নিজেস্ব তালিকা অনুযায়ী আরো ৫০  ব্যক্তির নামে ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ রাখতে হবে। শুধু সমিতির ইচ্ছে মতো ত্রাণ বিতরণ চলবে না। শরিফুল নেতাদের বলেন, ‘একই কথা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক জি এম ফারুকেরও। তিনি আমাকে এই বার্তা দিয়ে পাঠিয়েছেন।’  

উপজেলা ‘রাইচ মিল মালিক সমিতির’ সাধারণ সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন,  ওই নেতাদের কথা না শুনে, সমিতির করা অসহায় মানুষের তালিকা অনুযায়ী ত্রাণ বিতরণ করলে এখানে বড় ধরণের সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। সংঘাতের ভয়ে ত্রাণ বিতরণের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সংঘত চাই না, চাই শান্তি। ত্রাণ বিতরণ করতে না পারায় যে সকল মিল মালিক চাল ও নগদ অর্থ দিয়েছিলেন এখন তা তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। 

দরিদ্র ভ্যান চালক লিয়াকাত সরদার ও হাসান বিশ্বাস জানান, সকালে এসেছিলাম ত্রাণ পাবার আশায়। না পেয়ে এখন আমাদেরই ভ্যানে করে ওই ত্রাণের চাল মিল মালিকদের কাছে ফেরত দিতে নিয়ে যাচ্ছি। স্থানীয় দুই নেতার কারণে কিছু পেলাম না।       

আটলিয়া ইউপির সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। 

উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম ফারুক বলেন, ‘মিল মলিক সমিতি’র ত্রাণ বিতরণের বিষয় আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ কিছু জানায়নি।  

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট প্রতাপ কুমার রায় বলেন, সীমাবদ্ধতার কারণে এই মুহূর্তে সরকারি বরাদ্দ থেকে সকলকে সহযোগীতা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সরকারের পাশাপাশি উপজেলার  ‘রাইচ মিল মালিক সমিতি’কে আমি অনুরোধ করেছিলাম, যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে যারা এখনো ত্রাণ পায়নি তাদের একটু সহযোগিতা করা যায় কিনা। তারা আমার আহবানে সাড়া দিয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি সুবিধাভোগী মহলের অযৌতিক আবদারে ত্রাণ বিতরণ বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ শাহনাজ বেগম বলেন, ব্যক্তি বা সংগঠনের ব্যানারে দরিদ্র মানুষকে সহযোগিতা করা যেতেই পারে। সেখানে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ উচিত না। তবে বিষয়টি আমি জানি না। 

আরও পড়ুন

×