ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুরে লিচুর গাছে গাছে মৌচাক, পাঁচ কোটি টাকার মধু আহরণের সম্ভাবনা

দিনাজপুরে লিচুর গাছে গাছে মৌচাক, পাঁচ কোটি টাকার মধু আহরণের সম্ভাবনা
×

বিপুল সরকার সানি, দিনাজপুর

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:৩২ | আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:৪০

গাছে গাছে মৌমাছির চাক, কোনোটিতে ৩টি, কোনোটিতে ৫টি। আবার কোনো গাছে ১৯টি পর্যন্ত মৌমাছির চাক। লিচু মুকুলের এই মৌসুমে এখন দিনাজপুরের প্রায় প্রতি গাছেই যেন মৌমাছির চাক। এসব মৌচাক থেকে এবার ৪-৫ কোটি টাকার মধু সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

দিনাজপুর জেলার রসালো লিচু স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়। জেলার ১৩টি উপজেলাতেই লিচু চাষ হলেও সবচেয়ে বেশি লিচু আবাদ হয় এবং সুনাম রয়েছে সদর উপজেলার মাসিমপুর ও বিরল উপজেলার মাধববাটী এলাকা। স্থানীয়রা বলেন, লিচু মুকুল থেকে মৌমাছিরা মধু আহরণ করলে তাদের মাধ্যমে পরাগায়ণ হয়, যাতে করে লিচুর ফলন ভাল হয়। তাই তারাও চায় মৌমাছি আসুক আর মৌমাছিদেরকে কোন রকম সমস্যাও করেন না তারা। 

সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মামুদপুর দিঘীপাড়ায় মসজিদের সামনে রাস্তার উপরে একটি বট গাছে ৯ টি, ঘুঘুডাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজে একটি, পিটালী গাছে ১৩ টি, মাসিমপুর কেবিএম কলেজ বিভিন্ন ভবনে ও গাছে ২৭ টি, সিকদারহাট শাহজালাল শাহ্ কামাল মাজারের বটগাছে ৬ টি মৌমাছিরা চাক লাগিয়েছে। 

এছাড়াও বিরল উপজেলার ১১ নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সারাঙ্গাই দত্ত পাড়া গ্রামে আসাদুজ্জামানের পুকুর পাড়ে একটি বটগাছে ১৯ টিসহ আশে পাশে বিভিন্ন গ্রামে কোথাও ৫ টি কোথাও ৩ টি করে অসংখ্য গাছে মৌমাছির চাক দেখা গেছে। 

৬নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের শরিফুল ইসলাম বলেন, এই এলাকাটা উচু ও পলি মাটি হওয়ায় সবসময় বিভিন্ন সবজি উৎপাদন হয়। যাতে করে সবসময়ই ফুলের সমারোহ থাকে। আর তাই এলাকায় মৌমাছির দেখা পাওয়া যায় বারো মাসেই। তবে লিচুর সময়টাতে মৌমাছি বেশি দেখা যায়। 

তিনি বলেন, হয়তোবা দূর-দূরান্ত থেকে এসব মৌমাছি লিচুর সময়টাতে আসে। এক সময় কম হলেও মৌমাছির আগমন দিন দিন বাড়ছে। 

বিরল উপজেলার মাধববাটি এলাকার সুজন ইসলাম বলেন, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ণ হয়। যাতে লিচুর ফলন ভাল হয়। আমরা নিজেরাও চাই যাতে মৌমাছি আমাদের বাগানে আসুক। অনেক সময় মৌয়ালদেরকে বাগানে থাকার জন্য বলি যাতে করে তারা মৌমাছি দিয়ে মধু আহরণ করতে পারেন। 

মৌমাছি ও পরিবেশ বিষয়ক গবেষক মোসাদ্দেক হোসেন জানান, এই অঞ্চলে যে মৌমাছিগুলো আসে সেগুলো অ্যাপিস সেরোনা ইন্ডিকা প্রজাতির। সাধারণত এসব প্রজাতির মৌমাছি সুন্দরবনে মৌচাক বেঁধে মধু আহরণ করে। তবে গত কয়েক বছর ধরেই এই প্রজাতির মৌমাছি দিনাজপুর অঞ্চলে বেশি দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও অনেকেই এই এলাকায় বাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করেণ। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ পেলে এই এলাকায় মধু পল্লী হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে। কারণ এখনও যে পরিমাণে মধু সংগ্রহ হয় তা মোট এলাকার অর্ধেকও না। 

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন( বিসিক) দিনাজপুরের কারিগরি সহকারী হাফিজুর রহমান জানান, যে এলাকায় বেশি ফুল ফোটে সেখানে মৌমাছি যাবে। তবে তারা বেশি সেই এলাকাতেই যায় যেখানে তারা নিজেদেরকে নিরাপদ মনে করে। সাধারণত ওই এলাকার ভবন কিংবা গাছে মৌমাছির চাক বেশি দেখা যায়। জেলার এই এলাকাতে সবসময়ই ফুল পাওয়া যায় তাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে বেকার যুবকরা স্বাবলম্বী হতে পারে। যারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে আগ্রহী তারা যোগাযোগ করলে আমরা প্রশিক্ষণ দিতে প্রস্তুত আছি। 

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ তৌহিদুল ইকবাল বলেন, এ পর্যন্ত জেলায় প্রাকৃতিকভাবে ৭ হাজার ৩শ’ মৌ-বাক্স স্থাপন করেছে খামারিরা। যা থেকে প্রায় ৮৪ টন মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার এই জেলা থেকে ১০০ টনেরও উপর মধু সংগ্রহ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। স্থানীয় বাজারে যার মূল্য প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। 

আরও পড়ুন

×