ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

বাগানেই ঝরছে ফুল, লোকসানে চাষী

বাগানেই ঝরছে ফুল, লোকসানে চাষী
×

বাগানেই শুকিয়ে যাচ্ছে ফুল

রংপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৩:৫৬ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

রংপুর নগরীর পূর্ব খাসবাগ এলাকায় ২৫ বছর ধরে ফুল চাষ করছেন আছিয়া বেগম (৪৮) । বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী, স্বাধীনতা দিবস ও পহেলা বৈশাখের বড় বাজার ধরতে এবার ৩ একর জমিতে ফুলের উৎপাদন করেছেন। 

অধিক পরিচর্যার কারণে গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, জারবেরা, রজনীগন্ধাসহ রকমারি ফুলে ভরে গেছে তার বাগান। এক একর জমিতে শুধু গোলাপ উৎপাদন করেছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এখন বড় লোকসানে পড়েছেন তিনি। 

আছিয়া বেগম বলেন, ২৫ বছর ধরে ফুল চাষ করে আসছি। এবার বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী, স্বাধীনতা দিবস ও পহেলা বৈশাখের কারণে অনেক বেশি ফুল চাষ করেছি। বাগান যখন ফুলে ফুলে ভরে গেল ঠিক তখনই  করোনার কারণে ফুল বিক্রি বন্ধ হয়ে গেল। এতে করে গাছের ফুল গাছেই শুকিয়ে যাচ্ছে। 

লোকসানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার ফুল নষ্ট হয়ে গেছে। এর আগে ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছিলাম। এবার একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেলাম। 

শনিবার রংপুর নগরীর খাসবাগ, বালাটারী, বুড়িরহাট, উত্তম এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, গোলাপ, গাঁদা, জারবেরাসহ অন্যান্য ফুলে ছেয়ে আছে বাগানগুলো। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ভ্রমর ছুটে বেড়াচ্ছে। 

গত ২৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত বাগান থেকে ফুল সংগ্রহ না করায় অনেকগুলো ফুল গাছেই মরে গেছে। চাষীরা ফুল গাছ বাঁচাতে গাছ থেকে ফুল কেটে পাশে ফেলে রেখেছে। ফুল ব্যবসা বন্ধ থাকায় অনেক চাষী ফুল গাছ তুলে জমি চাষ করে দিয়েছেন। 

পূর্ব খাসবাগ এলাকার ফুলচাষী নয়ন আহমেদ (২৮) বলেন, দোকানপাট বন্ধ থাকায় বাগান থেকে আর ফুল বাজারে যেতে পারছে না। এতে করে বাগানের ফুল বাগানেই নষ্ট হচ্ছে।  রংপুর জেলায় প্রায় ৩০ একর জমিতে ফুল চাষ হয়। এবার জেলায় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ফুল নষ্ট হয়েছে। যেখানে আমাদের এক টাকাও বিক্রি নেই।

রংপুর নগরীর বুড়িরহাটের ফুল ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ ও রাসেল আহমেদ বলেন, ফুল বিক্রি করতে না পেরে তো আমরা লোকসানে পড়েছি। উপরন্ত ফুল কেটে না ফেললে গাছ মরে যাচ্ছে। টাকার জন্য শ্রমিক দিয়ে গাছ থেকে ফুল কাটতে পারছি না। এক একর গোলাপ বাগানে ৫০ জন শ্রমিক লাগে। ১৫ থেকে ২০ দিন পর ফুলের ঘাস নিড়ানোর জন্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। সরকার যদি এবার আমাদের সার, ওষুধ কিংবা আর্থিক সহযোগিতা দিতো তাহলে আমরা পরবর্তীতে ভালোভাবে ফুল চাষ করতে পারতাম।   

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সরওয়ারুল হক সমকালকে বলেন, রংপুর জেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত চাষীরা এবার ৬ একর জমিতে ফুল চাষ করেছেন। বেশিরভাগই সৌখিন চাষী। করোনা পরিস্থিতির কারণে তারা লোকসানে পড়ছেন। ফুলচাষীরা যেন পরবর্তীতে ফুল চাষ অব্যাহত রাখতে পারেন সে লক্ষ্যে পরবর্তীতে তাদের সরকারি সহায়তার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। 


আরও পড়ুন

×