শেষ মুহূর্তে ছাড়ের ছড়াছড়ি হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতা
চট্টগ্রামে ঈদের কেনাকাটা
ফাইল ছবি
শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৪ | ২৩:৫৮
ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় এখন ব্যস্ত সবাই। এতে দম ফেলার ফুরসত নেই বিক্রেতাদেরও। আর শেষ সময়ে ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে বিক্রেতাদের কেউ ছাড় দিচ্ছেন প্রতি পোশাকে ৫০ শতাংশ, কেউ আবার একটি পোশাক কিনলে দিচ্ছেন আরেকটি ফ্রি। অনেকে আবার একসঙ্গে বেশি কাপড় কিনলে দিচ্ছেন বিশেষ আকর্ষণীয় ছাড়ও। শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, জুতা সর্বত্র দেওয়া হচ্ছে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত আকর্ষণীয় নানা অফার। এমন সব অফারে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। এ ছাড়াও ক্রেতা টানতে মার্কেট সমিতির পক্ষ থেকে রাখা হয়েছে আকর্ষণীয় পুরস্কার, র্যাফেল ড্র ও কুপন। নানা ছাড়ে মার্কেট-শপিং সেন্টারে বাড়ছে ক্রেতাসমাগম। ছাড় পেয়ে খুশি ক্রেতারা। আর বিক্রি বাড়ায় খুশি বিক্রেতারাও। এমন ছাড়ে সাধ্যের মধ্যে পছন্দের ঈদের কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানাচ্ছেন অনেকে।
চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেট, ভিআইপি টাওয়ার, আখতারুজ্জামান সেন্টার, নিউমার্কেট, সানমার ওশান সিটি, সেন্ট্রাল প্লাজা, তামাকুমন্ডি লেন, রিয়াজউদ্দিন বাজার, আফমি প্লাজা, ষোলশহর শপিং কমপ্লেক্স, সেন্ট্রাল প্লাজা, আমিন সেন্টার, লাকি প্লাজা, চক সুপার মার্কেট, স্বজন সুপার মার্কেট, টেরিবাজার, বালি আর্কেড, ইলিজি স্কাই পার্কসহ প্রায় সব মার্কেটে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় দেওয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় ছাড়। ভিআইপি টাওয়ারের নিচতলায় মেয়েদের সব ধরনের পোশাকে ছাড় চলছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার সুতির প্রিন্টের থ্রিপিস মিলছে মাত্র ৫০০ টাকায়। ১২শ টাকার থ্রিপিসের দাম রাখা হচ্ছে এখন ৬০০ টাকা। মার্কেটের লেভিস পয়েন্টে প্রতিটি শাড়ি ও থ্রিপিসে ছাড় দেওয়া হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। এস ফ্যাশন হাউসে ছেলেদের শার্ট, টি-শার্ট, মেয়েদের ফ্রক, থ্রিপিস ও শাড়িতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত। একসঙ্গে দুটি শাড়ি কিনলে দেওয়া হচ্ছে একটি ফ্রি। ছেলেদের প্রতিটি শার্ট ও পাঞ্জাবিতে ছাড় দেওয়া হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। এমএন ফ্যাশন অ্যান্ড বুটিক হাউসে প্রতিটি বোরকায় ছাড় মিলছে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। একসঙ্গে তিনটি বোরকা কিনলে মিলছে ৭০ শতাংশ ছাড়। আরএন সন্সে একটি শাড়ি এখন বিক্রি করা হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। তিনটি কিনলে দাম পড়ছে ১৫শ টাকা। ক্যাঙ্গারুতে ছোট-বড় প্রতি জোড়া জুতায় ছাড় দেওয়া হচ্ছে ২০ থেকে ৬০ শতাংশ। আর এম হাফিজ ফ্যাশনে সব পণ্যের ওপর দেওয়া হচ্ছে ৬০ শতাংশ ছাড়। তরুণ-তরুণীদের নজর কাড়তে লুবিং হাউসে শার্ট, প্যান্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, পায়জামা, থ্রিপিস, ওড়নায় ছাড় মিলছে ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ।
মার্কেটে ক্রেতা টানতে পণ্য ক্রয়ের ওপর কুপন ও র্যাফেল ড্রয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যেখানে পুরস্কার হিসেবে রয়েছে ডিপ ফ্রিজ, মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ, মোবাইল, এলইডি টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ফ্যান ইত্যাদি। আকর্ষণীয় পুরস্কার পাওয়ার আশায় অনেক ক্রেতা সেসব মার্কেটে ভিড় করছেন বেশি। চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটে মাত্র ২০০ টাকার পণ্য কিনলে মিলছে একটি কুপন। ১০ হাজার টাকার পণ্য কিনলে কুপনের পাশাপাশি মিলছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়। মার্কেটের প্রতিটি ফ্লোরে রাখা বাক্সে কুপন পূরণ করে ফেলতে দেখা গেছে ‘আকর্ষণীয় পুরস্কার’ প্রত্যাশী অনেক ক্রেতাকেই।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি চট্টগ্রামের সভাপতি সালেহ আহমেদ সমকালকে বলেন, চলছে ঈদের শেষ সময়ের বিকিকিনি। ক্রেতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ও তাদের সুবিধার্থে বেশির ভাগ মার্কেট পোশাকসহ নানা পণ্যের ওপর ছাড়ের ব্যবস্থা রেখেছে। ক্রেতাদের একটি অংশ এই ছাড়ের অপেক্ষায় থাকেন। এর মাধ্যমে অনেকেই কম টাকায় ভালো ও পছন্দের পণ্যটি কিনতে পারছেন। এতে খুশি ব্যবসায়ীরাও। কারণ বিক্রি বেশি হওয়ায় লাভও বেশি হচ্ছে।
সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতা খুরশীদ আলম বলেন, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য না হওয়ায় অনেকে চাইলেও পছন্দের পোশাকটি কিনতে পারেন না। তা ছাড়া এমন কিছু ক্রেতা আছেন, যারা ছাড় পেয়ে একসঙ্গে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের জন্য ঈদের কেনাকাটা করেন। শাড়ি থেকে থ্রিপিস সবকিছুতেই আকর্ষণীয় ছাড় অনেকের জন্য তাই স্বস্তি নিয়ে আসে। ক্রেতার সুবিধার্থে কেনা পণ্যের ওপর র্যাফেল ড্র ও কুপনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেটে আসা রোখসানা আক্তার বলেন, বিভিন্ন শাড়িতে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের ব্যবস্থা রাখায় আত্মীয়স্বজনকে দিতে পাঁচটি শাড়ি কিনতে পেরেছি। এটা স্বাভাবিক সময়ে হলে কেনা সম্ভব হতো না। এমন ছাড় আমার মতো অনেকের জন্য স্বস্তির। আরেক ক্রেতা চাকরিজীবী জুলফিকার হোসেন বলেন, ঈদ কেনাকাটার শেষ সময়ে হলেও ছাড়-অফারের ব্যবস্থা রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। ৪০ শতাংশ ছাড়ের সুযোগে দুই মেয়ের জন্য চারটি থ্রিপিস কিনেছি।
ব্যবসায়ী আজিম উদ্দিন বলেন, ঈদে সবাই যাতে পছন্দের পোশাকটি কম টাকায় কিনতে পারে সে জন্য বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। ছাড়ের কারণে নানা বয়সী ক্রেতা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। ক্রেতাসমাগম বেশি হওয়ায় দোকানে বিকিকিনিও বেড়েছে কয়েক গুণ।
- বিষয় :
- ঈদের বাজার
