এক চোখে দেখতে পাচ্ছেন না রাকিবুল, আরেকটি ঝাপসা
রাকিবুল ইসলাম
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | ১৮:৫৭
বন্ধুদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গিয়েছিলেন রাকিবুল ইসলাম (২৫)। গত ৪ আগস্ট কর্মসূচিতে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৬৫টি ছররা গুলি লাগে তাঁর। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তার পরও তাঁর ডান চোখ ভালো হয়নি। চোখটি দিয়ে এখন কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। বাঁ চোখেও ঝাপসা দেখছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ, বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। তবে অর্থের অভাবে তাঁর পরিবারের পক্ষে বিদেশে নেওয়া সম্ভব নয়।
রাকিবুল জয়পুরহাট পৌর শহরের প্রফেসরপাড়ার মোকলেছুর রহমানের ছেলে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাকিবুল ছয় মাস আগে বিয়ে করেছেন। এর আগে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি টেক্সটাইল মিলে অপারেটর পদে চাকরি করতেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় চাকরি ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন তিনি। এরই মধ্যে গত ৪ আগস্ট বন্ধুদের সঙ্গে গিয়ে শহরের পাঁচুর মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন।
দুপুরের দিকে পুলিশের সঙ্গে ছাত্র-জনতার সংর্ঘষ হয়। এ সময় তাঁর শরীরে ছররা গুলি লাগে। আহত হয়ে সড়কের ওপর পড়ে যান তিনি। এ অবস্থায় তাঁকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে ডান চোখে তিনি কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। এর পর তিনি চিৎকার শুরু করলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০ দিন চিকিৎসা নিয়ে তিনি বাড়ি ফেরেন।
রাকিবুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় চিকিৎসা নেওয়ার পর বাঁ চোখে একটু দেখতে পাচ্ছি। তবে ডান চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো ভালো হবে। কিন্তু অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। এতদিন ধরে ঢাকায় চিকিৎসার যে খরচ হয়েছে, তাতেই অনেক ঋণ হয়েছে। বিদেশে গেলে তো অনেক অর্থের প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। হয়তো এভাবে পুরো জীবন কাটাতে হবে। ফের চোখে দেখতে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
হোটেলে কর্মচারীর কাজ করেন রাকিবুলের বাবা মোকলেছুর রহমান। তিনি বলেন, বিদেশে চিকিৎসা করাতে গেলে অনেক টাকার প্রয়োজন। এত টাকার কোনো বাড়িঘর নেই তাদের। ছেলের টাকায় এতদিন সংসার চলেছে। এখন তার চাকরি নেই। তিনি নিজেও কাজ করতে পারছেন না। ফলে সংসার চলানো দায় হয়ে গেছে। এর পরও ছেলের চোখের আলো ফেরাতে চান তিনি।
প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের ভাষ্য, এমনিতেই নুন আনতে পান্তা ফুরায় পরিবারটির। আগে থেকেই তাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না। মাঝে বাবা-ছেলে মিলে কাজ করতেন। এতে কোনোমতে সংসার চলত। এ সময় তিনি রাকিবুলের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান।
