১৬ বছর আগে এক পা হারিয়েও পায়নি প্রতিবন্ধী ভাতা
গ্যাংগিন রোগে পা হারানো ফজলু মিয়া- সমকাল
ইন্দুরকানী (পিরোজপুর)
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২০ | ০০:০৩ | আপডেট: ৩০ জুন ২০২০ | ০০:০৬
ষোল বছর আগে গ্যাংগিন রোগে বাঁ পায়ে পচন ধরে ফজলুল হক ওরফে ফজলু মিয়ার। ঠিক মতো চিকিৎসা করাতে না পারায় এক সময় কেটে ফেলতে হয় ওই পা। সেই থেকেই এক পা হারানো এ মানুষটিকে চলতে হচ্ছে ক্রাচে ভর করে।
পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার কলারণ গ্রামের এসবিআই ইট ভাটা সংলগ্ন বলেশ্বর নদীর পাড়ে একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করেন তিনি। স্ত্রী, ৫ মেয়ে আর দুই ছেলে নিয়েই ফজলু মিয়ার জীবন সংসার।
এখন তার দুই ছেলে আলমগীর (২৫) এবং এমদাদুল হক (২৩) নদীতে মাছ ধরে কোনমতে জীবন চালাচ্ছেন। স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে তার দুই ছেলে থাকছেন পুরোনো বাড়িতে। সংসারের টানাপড়েনের কারণে বাবা-মায়ের ভরণ পোষণ করতে পারছেননা তারা। এজন্য জীবিকার টানে নিজের পুরোনো বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী আলেয়া বেগমকে (৪০) নিয়েই বছর তিনেক আগে নদীর পাড়ে কোনমতে থাকছেন ফজলু মিয়া।
এদিকে নিজের ভরণ পোষণ নিয়ে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়ায় কোন উপায় না পেয়ে সংসার চালাতে তিন বছর আগে ফজলু মিয়া নিজেই বেছে নেন নদীতে মাছ ধরার পেশা। তাই কচা আর বলেশ্বর নদের মোহনায় প্রতিদিন জাল ফেলে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। রোদ আর ঝড়-বৃষ্টিতে ভিজে জীবনের ঝূঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরেন তিনি। নৌকা আর জালই তার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। নদীতে সবসময় মাছ না পাওয়ায় খেয়ে না খেয়ে দিন যায় তাদের।
তার বসতির আশপাশে আধা কিলোমিটারের মধ্যে নেই কোন বাড়িঘর। তাই স্বাভাবিক ভাবে কোন জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি কোন সংস্থা কারোই নজর পড়েনি এ অসহায় পরিবারটির দিকে। জীবিকার প্রয়োজনে জনবিচ্ছিন্ন এলাকায় বসতি গড়ায় সরকারি-বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ মানুষটি। দীর্ঘ ষোল বছর আগে পা হারিয়ে এখন পর্যন্ত জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা।
নিজের অসহায় জীবনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মোর একটা পাও নাই। এই অবস্থায় নদীতে মাছ ধইররা জীবন চালাতে আছি। হের উপর একটা ভাঙ্গাচোরা ঝুপড়ি ঘরে থাহি। মাইয়া পোলাগো সোংসারেও টানাটানি। হেরাও ঠিকমত খাইতে পারেনা। সরকার মোরে প্রতিবন্ধী ভাতা আর থাহার পিন্নে যদি একটা ঘর এবং চলাফেরা করার পিন্নে একটা হুইল চেয়ার দেতে হেইলে মুই খুব খুশি হইতাম।
প্রতিবন্ধী ফজলুল হকের স্ত্রী আলেয়া বেগম বলেন, ঘরের চালে তালপাতা আর পলিথিন দিয়া কোনমতে থাহি মোরা। দেওই আইলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। হ্যাছাড়া গাঙ্গে নাই মাছ। যমমের অসুবিধার মধ্যে আছি।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল হাই জোমাদ্দার জানান, প্রতিবন্ধী অসহায় জেলে একটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। তার নামে শুধু জেলে কার্ড রয়েছে। এছাড়া তাকে তালিকা ভুক্ত করে প্রতিবন্ধী ভাতা দেয়ার বিষয়টি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে। কিন্তু সম্প্রতি সরকারিভাবে ঘর দেওয়ার যে তালিকা করা হয়েছে তাতে সম্ভবত তার নাম নেই। তবে তার নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য চেষ্টা করা হবে বলে জানান।
ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মাদ আল মুজাহিদ জানান, অসহায় ওই জেলে আবেদন করলে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া অসহায় ব্যক্তিদের সরকারিভাবে ঘর দেওয়ার যে তালিকা করা হচ্ছে তাতে তার নাম না থাকলে খোঁজ নিয়ে বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানান।
- বিষয় :
- গ্যাংগিন রোগ
- প্রতিবন্ধী ভাতা
