অবশেষে মুক্ত বাতাসে ফিরলেন সেই তরুণী
চার বছর পর অবশেষে মুক্ত আলো বাতাসে ফিরেছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার সেই তরুণী। ছবি: সমকাল
মওদুদ আহম্মেদ, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট)
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২৫ | ২০:৫৬ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০২৫ | ২১:০০
চার বছর পর অবশেষে মুক্ত আলো বাতাসে ফিরেছেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌর এলাকার সেই তরুণী। গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশীদের হস্তক্ষেপে তার নির্মমতার অবসান হয়। নিজ বাড়ির কক্ষ থেকে ১৯ বছরের মেয়েটি উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সবার সঙ্গে কথা বলছেন, তবে অসংলগ্ন। দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন ওই তরুণী। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই মেয়েকে আগলে রাখেন বাবা। কিন্তু প্রেম করে বড় মেয়ের পালিয়ে বিয়ে তিনি মেনে নিতে পারেননি। তার মনে সন্দেহ দানা বাঁধে, ছোট মেয়েও একই পথে হাঁটবে। এজন্য ২০২১ সালে এসএসসি পাসের পরই তাকে ঘরবন্দি করেন। ঘুমের ইনজেকশন পুশ করে তালা দিয়ে রাখতেন।
সোমবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, ওই তরুণী এক প্রতিবেশীর বাসায় বসে আছেন। খবর পেয়ে তার মামা ও মামি তাকে দেখতে এসেছেন। তিনি তাদের চিনতেও পেরেছেন।
এক প্রতিবেশী বলেন, ‘শনিবার উদ্ধারের পর দেখি মেয়েটি প্রায় পাগল হয়ে গেছে। তবে সে এখন মুক্ত। বাড়ির সামনে আমার কাপড়ের দোকান আছে। আজ সে আমার দোকানে অনেকক্ষণ বসে ছিল। এখন তার চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা করলেই সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।’
মেয়েটিকে দেখতে আসা মামা বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেও আমার ভাগ্নিকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করতে পারিনি। অবশেষে সে মুক্ত হয়েছে। স্বাভাবিক মানুষের মতোই ঘোরাফেরা করছে। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেললেও আমাদের চিনতে পেরেছে। এখন জরুরি ভত্তিতে তার চিকিৎসা করানো দরকার। আমরা সেই ব্যবস্থাই নিচ্ছি।’
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা আসিফ আদনান বলেন, ‘অস্থিরতা থেকে মুক্ত করতে বেশি পরিমাণ ঘুমের ইনজেকশন দিলে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে। ওই মেয়েটির ক্ষেত্রেও এমনটা হতে পারে।’
ওই তরুণীর বাবা বলেন, ‘বড় মেয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেছে। এতে আমার মানসম্মানের অনেক বড় ক্ষতি হয়। এ কারণেই ছোট মেয়েকে বাসায় আটকে রেখেছিলাম। এটা করা আমার ঠিক হয়নি। আমি ভুল করেছি। আর কখনো তাকে আটকে রাখবো না। সে যেন স্বাধীনভাবে সমাজে চলাফেরা করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করছি। ইউএনও স্যারের মাধ্যমে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মমিনুল ইসলাম জানান, মেয়েটির বাবা তাকে স্বাভাবিক পরিবেশে রাখা ও চিকিৎসা করানোর অঙ্গীকার করেছেন। তিনি যদি এর ব্যত্যয় ঘটান, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রতিবেশীদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুল আলম বলেন, ‘মেয়েটির চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব আমরা নিয়েছি। চিকিৎসার খরচ আমরা সরকারিভাবে বহন করবো। বেসরকারি সংস্থ্যা ব্র্যাক আমাদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। মেয়েটি যেন আবারও সুস্থ স্বভাবিক জীবনে ফিরে আসে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মসূচির কর্মকর্তা লিপি খাতুন বলেন, ‘আমরা তো পরিপূর্ণভাবে দায়িত্ব নিতে পারব না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সহযোগিতা এবং মেয়েটিকে লজিস্টিক সাপোর্ট দেব।'
