ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

আশ্রয়ণের ঘরে তালা দিয়ে বাসিন্দারা থাকেন অন্যত্র

আশ্রয়ণের ঘরে তালা দিয়ে বাসিন্দারা থাকেন অন্যত্র
×

নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের ভোগাইপাড় আশ্রয়ণ প্রকল্প সমকাল

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৫৭

খাসজমিতে সরকারি টাকায় বানানো সারি সারি ঘর। পাকা দেয়াল আর রঙিন টিনের ছাউনি। ঘরগুলো এলাকার সৌন্দর্য বাড়ালেও; থাকার মানুষ নেই। যারা আছেন তারাও যেন নেহাত ঠেকায় পড়ে বসবাস করছেন। সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তার অভাব ছাড়াও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় বেশ কষ্টেই আছেন এসব ঘরের বাসিন্দারা। 
অধিকাংশ ঘরের বাসিন্দাদের খোঁজ নেই। অনেকেই এসব ঘরে বসবাস করছেন না, তাদের ঘরে ঝুলছে তালা। এমন চিত্র দেখা গেছে নালিতাবাড়ী উপজেলার মরিচপুরান ইউনিয়নের ভোগাই নদীর তীরে নির্মিত ভোগাইপাড় প্রকল্পে।
২০২৩ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় মরিচপুরান ইউনিয়নের ভোগাই নদীর তীরে এলাকার গৃহহীন মানুষের জন্য নির্মাণ করা হয় ৭০টি ঘর। এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর গৃহহীনদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হলেও সবাই বরাদ্দের ঘরে বসবাস করছেন না। ৪০টি ঘরে তালা ঝুলছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব ঘর বরাদ্দ পাওয়ার কিছুদিন পরে তালা দিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন অধিকাংশ উপকারভোগী। ঈদ কিংবা অন্য কোনো উৎসব ছাড়া কখনও এসব ঘরের তালা খুলতে দেখা যায় না। ঘরে যদি কেউ না থাকেন, এ রকম প্রকল্পের ঘরের কী দরকার, এমন প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাছাড়া বরাদ্দপ্রাপ্তরা ঘরে যদি নাই থাকেন, তাহলে নতুন করে অন্যদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
শুধু ভোগাইপাড়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প নয়, একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে উপজেলার একাধিক আশ্রয়ণ প্রকল্পে। তবে স্থানীয়রা জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান না থাকার কারণেই ঘর ফেলে ঢাকা চলে যাচ্ছেন উপকারভোগীরা। কেউ কেউ আবার নামমাত্র ঘর দখল করে ফের আগের বাড়িতেই বসবাস করছেন।
আশ্রয়ণের বাসিন্দা চম্পা বেগম বলেন, ‘সরকার আমাদের ঘর দিছে। কিন্তু কাজকর্মের ব্যবস্থা করে দেয় নাই। এর জন্য অনেকে বাইরে কাজকর্ম করে মাঝেমধ্যে এখানে এসে বসবাস করেন।’
ভোগাইপাড় গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, এখানকার বেশির ভাগ ঘর যাদের নিজস্ব বসতবাড়ি আছে তাদের নামে বরাদ্দ করা। যার ফলে ঘরগুলো সব সময় তালা দিয়ে আগের বাড়িতে থাকেন বাসিন্দারা।
একই গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, এখানে সব ঘরে লোক থাকে না। তালাবদ্ধ ঘরগুলো আগের ব্যক্তির নাম বাতিল করে যাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, সেসব অসহায়দের নামে বরাদ্দ করার দাবি জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল জলিলের ভাষ্য, আশ্রয়ণের কতকগুলো ঘর তালাবদ্ধ রয়েছে তা খোঁজ নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে সমাধান করতে চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার ববি জানান, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েও বসবাস না করে তালা ঝুলিয়ে রাখার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়ে তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×