ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বাড়তি কর দিয়েও সেবা না পাওয়ায় বিক্ষোভ

বাড়তি কর দিয়েও সেবা না পাওয়ায় বিক্ষোভ
×

নওগাঁ পৌরসভার নাগরিক সুবিধা না বাড়লেও হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির বিল বাড়ানোর অভিযোগ তুলে রোববার শহরের মুক্তির মোড় পৌর ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা সমকাল

 নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৫ | ২৩:৩৪

নওগাঁ পৌরসভার নাগরিক সুবিধা না বাড়লেও অস্বাভাবিকভাবে হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির বিল বাড়ানোর অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রোববার মুক্তির মোড় পৌর ভবনের সামনে ‘নাগরিক অধিকার আন্দোলন’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বক্তারা বলেন, নগরবাসী ভেঙে পড়া সড়ক, জলাবদ্ধতা, পানির সংকট ও নালা ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এরইমধ্যে হঠাৎ করে কয়েকগুণ বেশি করের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না করে কর বাড়ানো অযৌক্তিক ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন তারা।
৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল বাশির বলেন, ‘আগে কর দিতাম ৯০০ টাকা, এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার। পানির জন্য সাবমারসিবল বসিয়েছি, তাতেই দেড় হাজার টাকা অতিরিক্ত কর চাওয়া হচ্ছে। অথচ নাগরিক সুবিধা কিছুই পাই না।’
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন আকতারুন নামে এক নারী। তাঁর ভাষ্য, ‘আগে কর দিতাম ৩৬০ টাকা। হঠাৎ ৪২ হাজার ১ টাকা কর নির্ধারণ করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এটা দেখে তো মাথার ওপর আকাশ ভেঙে পড়েছে।’
কর্মসূচিতে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পৌরসভা ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হলেও তিন দশকে নাগরিক সেবার মানে তেমন উন্নয়ন হয়নি। শহরের ৭০ শতাংশ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। নালা ব্যবস্থা অকার্যকর। বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে থাকে পাঁচ থেকে সাত দিন। অতিরিক্ত কর আরোপ করে পৌর পরিষদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম আজাদ হোসেন মুরাদের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন শিক্ষক জাহিদ রব্বানি, বাসদের জেলা সমন্বয়ক জয়নাল আবেদিন মুকুলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। তারা জানান, ৭ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত কর প্রত্যাহার না হলে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা আসবে।
পৌর প্রশাসক টি এম এ মমিন বলেন, ‘অযৌক্তিক বললে ভুল হবে, হয়তো অতিরিক্ত মনে হচ্ছে। এটি সরকারের সিদ্ধান্ত। আমাদের মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে। তারা আবেদন পেলে পুনর্বিবেচনা করতে পারে। অল্পদিনেই ৩০টি সড়কের কাজ শুরু হবে। ধাপে ধাপে সব সড়কের উন্নয়ন করা হবে। তিন বছরের মধ্যে কোনোটিই খারাপ থাকবে না।’
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স ও পানির বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে নাগরিকদের মধ্যে।

আরও পড়ুন

×