ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

টাকা দিলে ছাড়ব কিনা ভাবব, হুমকি মাফিয়ার

টাকা দিলে ছাড়ব কিনা ভাবব, হুমকি মাফিয়ার
×

লিবিয়াতে দিপুকে এভাবেই মুখ বেঁধে নির্যাতন চালায় মাফিয়া চক্র ভিডিও থেকে নেওয়া

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ০০:০১

সময়মতো টাকা দিলে ছাড়ব কিনা বিবেচনা করব। টাকা না দিলে চলবে মারধর। এভাবে হুমকি দিয়ে মুক্তিপণ চাইছে লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের সদস্যরা। চোখের পানি ফেলে ছেলেকে নির্যাতনের কথাগুলো বলছিলেন লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের আস্তানায় আটক দিপু মিয়াজীর (২১) বাবা নুরুল আমিন মিয়াজী।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মানিকদী পূর্বকান্দা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আমিন মিয়াজী। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে এক বছর ১০ মাস আগে ছেলে দিপুকে ইতালি পাঠাতে এলাকার দালাল ফজলুল হকের মাধ্যমে লিবিয়ায় পাঠান। ফজলুল নিজেও লিবিয়া থাকেন। তার কাছ থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার কথা থাকলেও দিপু জিম্মি রয়েছেন দালাল ও মাফিয়া চক্রের হাতে। একাধিকবার টাকা দিয়ে ছাড়ানো গেলেও ফের তাকে আটকে রাখা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩১ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
চক্রের সদস্যরা টাকার জন্য দিপুর মুখে গামছা বেঁধে নিয়মিত মারধর করছে। ভিডিও কলে সে নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হয় পরিবারকে। মারধরের এমনই এক ভিডিও সম্প্রতি ভাইরাল হয় ফেসবুকে।
দিপুর স্বজনদের দাবি, চক্রটি এখন নতুন করে আরও ২৫ লাখ টাকা চাইছে। টাকা দিতে দিতে নিঃস্ব পরিবারটির আর সে সামর্থ্য নেই। তারা ছেলেকে ফিরে পেতে সরকারের সহায়তা চাইছেন। ইতালি পাঠাতে ফজলুল প্রথমে নেন সাড়ে ৯ লাখ টাকা। লিবিয়া যাওয়ার পর থেকে দিতে হয়েছে আরও সাড়ে ২১ লাখ টাকা।
একসময় বিত্তশালী ছিলেন নুরুল আমিন মিয়াজী। ছিল পাদুকার ব্যবসা। করোনাকালে ব্যবসায় ধস নামে। বাড়িঘর বিক্রি করতে হয়। 
ফজলুল হক দীর্ঘ বছর ধরে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে ইতালিতে লোক পাঠাচ্ছেন। দুই শতাধিক লোক ইতালিতে গেছে তার মাধ্যমে। তাদের অনেকে বিপদেও পড়েছেন।  
এ বিষয়ে লিবিয়ায় থাকা ফজলুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার ছোট বোন নার্গিস বেগম বলেন, আমার ভাই দিপুকে একাধিকবার উদ্ধার করেছেন। আবারও ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
নুরুল আমিন মিয়াজী জানান, ২০২৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর লিবিয়ায় যান দিপু। কয়েক দিন পরই প্রথমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে এবং পরে মাফিয়া চক্রের হাতে ধরা পড়েন তিনি। দেড় মাস পর ফোন করে নির্যাতনের ভিডিও দেখিয়ে এক দিনের মধ্যে ১১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি। টাকা দিলে দিপু ফিরে যান দালাল ফজলুল হকের কাছে। চার মাস পর ইতালি পাঠাতে ফজলুল ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে নৌকায় ওঠানো হয়। কিছু দূর যাওয়ার পর আবার ফিরিয়ে আনা হয় দিপুকে। কেটে যায় আরও চার মাস।
দ্বিতীয়বার পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন করে টাকা চান ফজলুল। এ দফায় বোটে করে আলবেনিয়ার কাছে যাওয়ার পর অন্য এক চক্রের হাতে আটক হন তিনি। পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার পর দিপুকে নিজের কাছে রাখেন ফজলুল হক। গত ১৫ জুলাই ফজলুল আবারও টাকা চান। পরদিনই একটি চক্র বাসা থেকে দিপুকে ধরে নিয়ে যায়। ২৪ জুলাই থেকে নির্যাতনের ভিডিও দেখানো শুরু হয়।  
এ বিষয়ে ইউএনও শবনম শারমিন বলেন, লিবিয়ায় নির্যাতনের ভিডিওটি নজরে এসেছে। ভুক্তভোগীর পরিবার আমার কাছে এলে আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, প্রায় সময় এমন নির্যাতনের কথা শুনতে পাই। এমন কষ্ট জেনেও মানুষ কেন যায়? 
 

আরও পড়ুন

×