ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্বামী-স্ত্রীকে ফাঁসানোর অভিযোগে ওসির প্রত্যাহার চান এলাকাবাসী

স্বামী-স্ত্রীকে ফাঁসানোর অভিযোগে ওসির প্রত্যাহার চান এলাকাবাসী
×

‘ধারা এলাকাবাসীর’ ব্যানারে মানববন্ধন

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৫ | ০৬:৪৬

হালুয়াঘাটে স্বামী-স্ত্রীকে মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুনকে প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার দুপুরে ধারা ইউনিয়নে মুরগি মহল বাইপাস মোড়ে ‘ধারা এলাকাবাসীর’ ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত সোমবার জমি নিয়ে বিরোধে আদালতে করা একটি মামলার তদন্ত করতে আসেন হালুয়াঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম। এ সময় বাদী-বিবাদীর মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার সামনেই বিবাদী আব্দুর রশিদকে লাথি মারেন বাদী শরীফা বেগম। এ সময় পুলিশ চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু যখন আত্মরক্ষার্থে আব্দুর রশিদ ফেরাতে যান তখন সামনে এসে পড়েন সেই এসআই। এ সময় অসাবধানতাবশত এসআই শহিদুলের চোখের কোণে একটু আঁচড় লাগে। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওসিকে জানালে ওসি তখন এসআই শুভ্র সাহাকে ঘটনাস্থলে পাঠান। পরে ঘটে ভিন্ন ঘটনা। আব্দুর রশিদকে মারধর করে হালুয়াঘাট থানায় নেয় পুলিশ। এর পর মঙ্গলবার সকালে তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম খাবার নিয়ে থানায় গেলে তাঁকেও আটক করা হয়। পুলিশের কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি মামলা করেন ওই এসআই।

মানববন্ধনে ফাতেমা খাতুন অভিযোগ করেন, এসআই শুভ্র সাহা এসে আব্দুর রশিদকে মারতে মারতে গাড়িতে তোলেন এবং ছেড়ে দেওয়ার জন্য এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তারা বলেছেন, উনি সরকারি জায়গায় থাকেন, এত টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই। পরে আব্দুর রশিদকে ধরে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন তাঁর স্ত্রী খাবার নিয়ে গেলে তাঁকেও আটক করে। এ ঘটনায় ওসি, এসআইসহ যারা জড়িত তাদের শাস্তি দাবি জানিয়েছেন তারা।

রইছ উদ্দিন নামে একজন বলেন, ‘রাতে আমরা ওসির কাছে গিয়েছি। আমরা বলেছি, পুলিশকে কেউ মারেনি। কিন্তু ওসি আমাদের কোনো কথা না শুনে উল্টো আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। শুধু তাই নয়, আটক দুজনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি ৮০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমরা বলেছি, উনি গরিব মানুষ। কিন্তু ওসি আমাদের কোনো কথা না শুনে মিথ্যা মামলা নিয়েছেন। আমরা যদি আইনের কাছে গিয়ে সহযোগিতা না পাই, তাহলে আমরা কোথায় বিচার পাব?’

হামেদ আলী জানান, মাদক কারবারি শরীফা খাতুনের কথায় পুলিশ এসেছে। পুলিশের সামনেই আব্দুর রশিদের গায়ে হাত দিয়েছেন শরীফা। আব্দুর রশিদ আত্মরক্ষার্থে ফেরাতে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা শহিদুল সামনে এসে পড়েন এবং তাঁর চোখের কোণে একটু আঘাত লাগে। অসাবধানতাবশত এই আঘাতের জন্য আব্দুর রশিদ পায়ে ধরে ক্ষমা চেয়েছেন। এর পরও তাঁকে নির্যাতন করে থানায় নিয়ে যায়, অর্থ দাবি করে। তাঁর অভিযোগ, শরীফা ও তাঁর ছেলে আমিনুল মাদক কারবারি। তাদের নামে থানায় অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিচার না করে পুলিশ সাধারণ মানুষকে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

জানতে চাইলে হালুয়াঘাট থানার ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ‘মানববন্ধনের ব্যাপারে আমার জানা নেই।’ উপঢৌকনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বানোয়াট ভিত্তিহীন কথা।

আরও পড়ুন

×