ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

পদকপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি

পদকপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে কমিটি
×

ছবি: গুগল ম্যাপ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৫ | ২১:৩৭ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৫ | ২১:৫৯

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পদকপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর অভিযোগের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগে জানা গেছে, সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান বিগত সরকারের আমলে আক্কেলপুরে কর্মরত থাকাকালে সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন ছিলেন। ২০২৪ সালে তাকে ম্যানেজ করে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাচিত হন তিনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে তিনি পুরস্কার ও সনদ নেন। এর পর থেকে বেপরোয়া কর্মকর্তা হিসেবে এলাকায় পরিচিতি পান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনরোষ থেকে নিজেকে রক্ষায় সুযোগ বুঝে আক্কেলপুর থেকে সদর উপজেলায় বদলি হন। এখানে যোগদানের পর অনিয়ম, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন, ক্ষমতার অপব্যবহার, শিক্ষকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, সময়মতো অফিসে না আসা, স্লিপের নীতিবহির্ভূতভাবে ইচ্ছামতো অর্থ ব্যয় করতে প্রধান শিক্ষকদের চাপ, শিক্ষকদের পাওনা ঠিকমতো না দেওয়া, ২০২৩ সালের পরীক্ষা নীতিমালাবহির্ভূতভাবে প্রশ্নপত্রের জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এসবের প্রতিবাদ করলে শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বিভাগীয় মামলার হুমকি দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সগুনা গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়মের কারণে আমরা স্লিপের টাকার কাজ করতে পারছি না। তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলেই আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিভাগীয় মামলারও ভয় দেখান তিনি।’

একই ধরনের অভিযোগ করে পালী পল্লিমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওয়াহেদ গণি জানান, শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে তারা স্মারকলিপি দিয়েছেন। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পদকপ্রাপ্ত সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুল হাসান বলেন, ‘সব অভিযোগ মিথ্যা। প্রধান শিক্ষকদের বিভিন্ন সময়ে কাজের তাগিদ দেওয়ায় তারা মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’

জেলা প্রশাসক আফরোজা আকতার চৌধুরী বলেন, ‘জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তদন্ত কমিটির প্রধান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। তাকে চিঠিও দিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন

×