৩০ বিঘা বনভূমি উদ্ধার করে ১০ হাজার চারা রোপণ
গাজীপুরের শ্রীপুরের সাতখামাইর বিট এলাকার ৩০ বিঘা বনভূমি উদ্ধার করে সোমবার গাছের চারা রোপণ করে বন বিভাগ -সমকাল
গাজীপুর ও কালিয়াকৈর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:১১
বন বিভাগের ৩০ বিঘা জমি জবরদখলে রেখেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সাহাব উদ্দিন মোড়ল ও তাঁর ছেলে জাকির মোড়ল। বন বিভাগের কর্মকর্তারা বারবার ওই জায়গা উদ্ধারে অভিযানে গিয়েও বাবা-ছেলের ক্ষমতার দাপটে ফিরে এসেছেন। উদ্ধার করতে পারেননি।
অবশেষে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর বিট এলাকার ওই ৩০ বিঘা বনভূমি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা। গতকাল সোমবার দিনভর বন বিভাগ অভিযান চালিয়ে এ জমি উদ্ধার করে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বনের ওই জায়গা দখল করে বিভিন্ন মানুষের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন সাহাব উদ্দিন ও তাঁর ছেলে। এভাবে তারা আদায় করেছেন লাখ লাখ টাকা। গতকাল ওই জমি উদ্ধারের পর সেখানে বহেরা, মেহেগনি, হরতকি, লটকন, চিকরাশি, আতা, পিতরাজ জামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়।
শ্রীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান রিপন বলেন, মাস দুই আগেও একবার উদ্ধারে গিয়েছিলাম। কিন্তু দখলদারদের হুমকি-ধমকি ও বাধার মুখে উদ্ধার করতে পারিনি। গতকাল বনের জায়গা উদ্ধারে গেলে দখলকারীরা তেড়ে আসেন এবং বন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা হয়। তিনি বলেন, ওই জমি জবরদখল করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। সেখানে পোলট্রি খামার ও গরুর খামারও গড়ে উঠেছে। রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, দখলে থাকা জমি উদ্ধারে গেলে গতকালও সাহাব উদ্দিন বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাহাব উদ্দিন মোড়ল জানান, ক্ষমতার দাপটে দখল করে রাখিনি। ওই জমির মালিক আমি। এখন বন বিভাগ দাবি করছে, এটা তাদের জায়গা। আমি আদালতে মামলাও করেছি।
স্থানীয়রা জানান, সাহাব উদ্দিন মোড়ল শ্রীপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বরমী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা। তাঁর ছেলে জাকির মোড়ল বরমী ইউনিয়ন আওয়াম লীগের সদস্য।
কালিয়াকৈরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
বন বিভাগের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে বন বিভাগ। গতকাল কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর এলাকায় দিনব্যাপী এ অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার করা হয় কয়েক একর জমি।
গতকাল বেলা ১১টা থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউসার আহমেদের নেতৃত্বে কালিয়াকৈর রেঞ্জের একটি দল কালামপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে গত বছর শেখ হাসিনা পতনের পর বন বিভাগের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম চালানো হয়। অভিযানে বন বিভাগ ওই এলাকার ১৭টি টিন শেড ও আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে কয়েক একর জমি উদ্ধার করে।
উচ্ছেদ অভিযানে ছিলেন সহকারী বন সংরক্ষক সামছুল আরেফিন, সহকারী বন সংরক্ষক ইকবাল হোসেন চৌধুরী, চন্দ্রা রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল করিম, বিট কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন, শরিফ খান চৌধুরী, রেজাউল বারী প্রমুখ।
কালিয়াকৈর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর ভূমিদস্যুরা বনের গাছ কেটে ঘরবাড়ি, দোকান তৈরি করে জমি দখল করে নিয়েছিল। আমরা বনের জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে গাছের চারা লাগানোর ব্যবস্থা করেছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার আহামেদ বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।
- বিষয় :
- বনভূমি দখল
