ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তিন দিনব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনায় সালিশ, উভয়পক্ষকে ৫০ লাখ জরিমানা

তিন দিনব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনায় সালিশ, উভয়পক্ষকে ৫০ লাখ জরিমানা
×

সংঘর্ষের ঘটনায় সালিশ

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২১:৪০ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২১:৪১

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের আনমনু ও তিমিরপুর গ্রামে তিন দিনব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সংঘর্ষে জড়িত উভয়পক্ষকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদায়কৃত অর্থে সংঘর্ষে নিহত দুই পরিবারকে ২০ লাখ টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ৩০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া উভয়পক্ষের দায়ের করা মামলা নিজ নিজ দায়িত্বে প্রত্যাহার করতে বলা হয়।

শনিবার নবীগঞ্জ সরকারি মডেল জে কে হাইস্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে বেলা ১১টা থেকে রাত পর্যন্ত এ সালিশ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- সালিশ বোর্ডের উপদেষ্টা সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি হবিগঞ্জ-১ আসনের দল মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. শাহাজাহান আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সফিকুর রহমান ফারছু, হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগা মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আসজদ হোসেন, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা, নবীগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির আশরাফ আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সরফরাজ চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শেফু, সাবেক পৌর মেয়র ছাবির আহমেদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান প্রমুখ।

সালিশির রায় ঘোষণার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা শাহাজাহান আলী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শেফু ও সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী। তারা জানান, ভবিষ্যতে নবীগঞ্জকে সুন্দর ও শান্তির শহর গড়ে তুলতে আশপাশ গ্রাম থেকে কমপক্ষে পাঁচজন করে বিশিষ্টজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ওই কমিটি নবীগঞ্জে সার্বিক আইনশৃঙ্খলাসহ এ ধরনের দলবদ্ধভাবে দাঙ্গা-হাঙ্গামা রোধে কাজ করবে। পরে মোনাজাতের মাধ্যমে সালিশ বৈঠকের সমাপ্তি ঘটে।

সালিশি সভার সভাপতি সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া বলেন, ‘আমরা নবীগঞ্জের সর্বসাধারণ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় বিষয়টি আপসে মীমাংসা করতে পেরেছি। আশাবাদী, আগামীতে শান্ত নবীগঞ্জকে এ রকম আর কেউ অশান্ত করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে তিন দিনব্যাপী ভয়াবহ সংঘর্ষে দুজন নিহত ও অসংখ্য মানুষ আহত হন। এছাড়া বহু দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একাধিক মামলা হয়। উভয়পক্ষের গ্রামগুলো পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে। এর মধ্যে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় একটি সালিশ প্রক্রিয়া শুরু হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন

×