ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

খুলনা ওয়াসা

আবারও ২৫৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প, তবু খাবার পানি লবণমুক্ত হবে না

এর আগে ২৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয় করেও দূর হয়নি পানির কষ্ট

আবারও ২৫৯৮ কোটি  টাকার প্রকল্প, তবু খাবার পানি লবণমুক্ত হবে না
×

পরিশোধন কেন্দ্র ও রিজার্ভারের নকশা

 হাসান হিমালয়, খুলনা

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:০০ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৪২

খুলনা নগরীতে সরবরাহের জন্য মধুমতী নদী থেকে আরও বেশি পানি আনার পরিকল্পনা নিয়েছে খুলনা ওয়াসা। এ জন্য পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ নামে নতুন একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। তবে শুরুতেই প্রশ্ন উঠেছে এর কার্যকারিতা নিয়ে। বলা হচ্ছে, মধুমতী নদীর পানি লবণাক্ত থাকায় এ প্রকল্পে শুধু বিপুল অর্থের অপচয়ই হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপের এ প্রকল্পের মাধ্যমে আগের পরিশোধন কেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতিদিন ১৩ কোটি লিটার পানি নগরীতে সরবরাহ করবে ওয়াসা। পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমের সংকট মোকাবিলায় ১১৫ কোটি লিটার পানি পরিশোধন কেন্দ্রের পাশে রিজার্ভারে (সংরক্ষণাগার) মজুত রাখা হবে। এ ছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে উচ্চ ক্ষমতার ৭৫টি পাম্প বসিয়ে দৈনিক ৫ থেকে ১০ কোটি লিটার পানি ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হবে। 

তবে ওয়াসার এই পরিকল্পনাকে আত্মঘাতী বলছেন পানি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, রিজার্ভারে মজুত পানি গরমের সময় মাত্র ৯ দিনের চাহিদা মেটাবে। কিন্তু মধুমতী নদীর পানি বছরে দেড় থেকে দুই মাস অতিমাত্রায় লবণাক্ত থাকে। বৃষ্টিপাত কম হলে ব্যবহারের অনুপযোগী লবণাক্ততা থাকে চার মাস পর্যন্ত। প্রতিবছর লবণাক্ততার পরিমাণ বাড়ছে। তাই বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেও শুষ্ক মৌসুমে ওই পানি মানুষ ব্যবহার করতে পারবে না।

অন্যদিকে খুলনার ভূগর্ভের পানির স্তর সংকটের মধ্যে রয়েছে। নগরবাসী প্রতিদিন ভূগর্ভ থেকে ১৫-১৬ কোটি লিটার পানি উত্তোলন করছে। ভূগর্ভের পানির ওপর এই নির্ভরশীলতা কমাতে নদী বা ভূপৃষ্ঠের পানি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এমন সময় ওয়াসাও যদি প্রতিদিন ৫-১০ কোটি লিটার উত্তোলন শুরু করে, তা দীর্ঘ মেয়াদে সংকট ঘনীভূত করবে।

সাত বছর আগে ২০১৮ সালে ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একই ছকে পানি সরবরাহ প্রকল্পের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করেছিল ওয়াসা। পানি সরবরাহ শুরু করে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে। কিন্তু তাতে শুষ্ক মৌসুমে পানির কষ্ট দূর হয়নি। ওই বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। টাকা খরচ করে ওয়াসার কাছ থেকে লবণপানি কিনতে বাধ্য হন মানুষ।

অনেকে বাড়িতে সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করেন। তবে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, বিকল্প না থাকায় মধুমতী নদী থেকে পানি আনা হচ্ছে। লবণ পরিশোধন কেন্দ্র ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পরিশোধন করা হবে। এ জন্যই পাম্প বসানো হচ্ছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হবে না।

নগরে পানির চিত্র
খুলনা ওয়াসার তথ্য বলছে, নগরীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ২৪ কোটি লিটার। আগে চাহিদার ৯৯ ভাগ পানি ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হতো। শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নেমে গেলে শহরজুড়ে তৈরি হয় হাহাকার। পানির কষ্ট দূর করা এবং ভূগর্ভের পানির ওপর চাপ কমাতে ২০১১ সালে পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে খুলনা ওয়াসা। প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুনে শেষ হয়।

প্রকল্পের আওতায় মধুমতী নদী থেকে পানি এনে নগরীতে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় বিপত্তি। নদীর পানিতে তীব্র লবণাক্ততার কারণে পানি ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। বর্তমানে পরিশোধন কেন্দ্র থেকে ওয়াসা প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় কোটি লিটার পানি নগরীতে সরবরাহ করে। ৩৪টি পাম্পের মাধ্যমে সরবরাহ করে দেড় থেকে দুই কোটি লিটার। ১৫-১৮ কোটি লিটার পানি ব্যক্তিগত সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে উত্তোলন করে নগরবাসী। বর্তমানে নগরীতে ওয়াসার গ্রাহক রয়েছেন প্রায় ৪৪ হাজার। তবে সরবরাহে সংকট থাকায় অনেক গ্রাহক ওয়াসার পানি ব্যবহার করেন না।

প্রথম প্রকল্পে যা হয়েছিল
খুলনা ওয়াসার ‘খুলনা পানি সরবরাহ প্রকল্প’ একনেকে অনুমোদন হয়েছিল ২০১১ সালে। দাতা সংস্থা জাইকা ও এডিবি এই প্রকল্পে অর্থায়ন করে। জমি অধিগ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০১৫ সালে প্রকল্পের ভৌত কাজ শুরু হয়।

প্রকল্পের আওতায় খুলনা থেকে ৩৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মধুমতী নদী থেকে পানি আনতে ৫৬ ইঞ্চি ব্যাসের পাইপলাইন বসানো হয়। রূপসা উপজেলার সামন্তসেনা গ্রামে স্থাপন করা হয় দৈনিক ১১ কোটি লিটার ক্ষমতার পরিশোধন কেন্দ্র এবং ৭৭ দশমিক ৮ কোটি লিটার ধারণক্ষমতার রিজার্ভার।

পরিশোধিত পানি খুলনা শহরে আনতে ৪৪ কিলোমিটার পাইপ বসানো হয়। এই পানি বিতরণের জন্য নগরীর বিভিন্ন স্থানে সাতটি ডিস্ট্রিবিউশন রিজার্ভার ও ১০টি ওভারহেড ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া বাড়ি বাড়ি পানি পৌঁছে দিতে নগরীর ভেতরে সাড়ে ৬৫০ কিলোমিটার বিতরণ লাইন ও ৪৫ হাজার বাড়িতে মিটারসহ পানির সংযোগ দেওয়া হয়।

শুষ্ক মৌসুমে পানিতে লবণ দেখা দিলে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়। তখন নদীর সঙ্গে পাম্পের পানি মিশিয়ে সরবরাহ করে ওয়াসা। জোড়াতালি দিয়ে সংকট উত্তরণের চেষ্টা বেশির ভাগ সময়ই কাজ হয় না। বিপুল ব্যয়ের পরও গরমে পানির কষ্ট কমাতে ভূমিকা রাখতে পারেনি প্রকল্পটি।

নতুন প্রকল্পে ঘুরেফিরে একই জিনিস
সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং নগরীর আরও প্রায় ২৬ হাজার গ্রাহককে পানি দিতে পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় ওয়াসা। এবার ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৫৯৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এক হাজার ৮২১ টাকা ঋণ এবং সরকার ৭৭৬ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন হয়।

এই প্রকল্পে নতুন করে ২৫৮ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন, ২৫ হাজার ৮০০টি বাড়িতে মিটারসহ পানির সংযোগ স্থাপন, চারটি পানির রিজার্ভার এবং চারটি ওভারহেড ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া বর্তমানে রূপসার সামন্তসেনায় অবস্থিত পানি পরিশোধন কেন্দ্রের ধারণ সক্ষমতা দৈনিক ১১ কোটি লিটার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১৩ কোটি লিটারে উন্নীতকরণ, ওই স্থানে সাড়ে ৩৮ কোটি লিটার ধারণক্ষমতার আরেকটি রিজার্ভার স্থাপন, শহরের আফিল গেটে স্থাপিত আরেকটি পরিশোধন প্লান্টের সক্ষমতা দৈনিক ৫৫ লাখ লিটার থেকে বাড়িয়ে দুই কোটি লিটার করা হবে। নদীর পানি আনার জন্য মোল্লাহাটে নতুন পাম্প নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্পের আওতায় পানির লবণ দূর করার পরিকল্পনা নেই; বরং জোড়াতালি দিতে আরও ৭৫টি পাম্প বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা জরিপে শুষ্ক মৌসুমে গড়ে ১৫ দিন লবণ থাকে বলে উল্লেখ ছিল। ওই সময়ের পানি আগাম এনে রিজার্ভারে মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী পরিশোধন কেন্দ্রের পাশে ৯ দিনের পানি মজুত রাখা হবে।

পরিসংখ্যান ও গবেষণা বলছে বাস্তবতা ভিন্ন
মধুমতী নদীর পানি নিয়মিত পরিমাপ করে সরকারের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। সংস্থাটির গত ২০ বছরের তথ্য বলছে– মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে মধুমতী নদীর পানির লবণাক্ততা সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে। গত সাত বছরে প্রথম প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর লবণাক্ততার মাত্রা আরও বেড়েছে।

প্রকল্প শেষ হওয়ার পরের বছর ২০১৯ সালে ফেব্রুয়ারিতে ২ দশমিক ২ ডিএস/মিটার (লবণাক্ততার একক), মার্চে ৩ দশমিক ১, এপ্রিলে ৫ দশমিক ১ এবং মে মাসে ২ দশমিক ৭ ছিল। পরের বছরের মে মাসে ছিল ৪ দশমিক ২ ডিএস/মিটার। ২০২১ সালের এপ্রিলে ৭ দশমিক ২, মে মাসে ৫ দশমিক ১, ২০২২ সালের এপ্রিলে ৩ দশমিক ৯, ২০২৩ সালে এপ্রিলে ২ দশমিক ৩, মে মাসে ২ দশমিক ৭০ ও জুনে ২ দশমিক ৭০, ২০২৪ সালে মে মাসে ৩ দশমিক ২৫ এবং জুনে ৩ দশমিক ৬১ ডিএস/মিটার ছিল।

দেখা গেছে, যে বছরগুলোতে বৃষ্টি কম হয়েছে, সেসব বছরে মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত নদীর পানি ব্যবহার উপযোগী ছিল না। বৃষ্টি বেশি হলে পানির লবণাক্ততা থাকে না। চলতি বছর বৃষ্টি বেশি হওয়ায় পানির লবণাক্ততা নেই।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততা ব্যবস্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, খুলনা অঞ্চলের মানুষ সাধারণত দেড় ডিএস/মিটার লবণাক্ততা পর্যন্ত পানি খাওয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহার করে। এর চেয়ে বেশি হলে খাওয়ার কাজে ব্যবহার করা যায় না।

২০২০ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এম আর হাসান ‘বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় নদীগুলোর লবণাক্ততা প্রবাহ: মধুমতী নদীর ওপর একটি কেস স্টাডি’ শিরোনামে একটি গবেষণা করেন। প্রতিবেদনে ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বছরে লবণাক্ততা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, উজানে বন্যা, ঢল অথবা বৃষ্টিপাত না থাকলে প্রতিবছর লবণের পরিমাণ বাড়ছে। উজানের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক না হলে লবণাক্ততা ক্রমান্বয়ে বাড়তেই থাকবে।

ভূগর্ভের পানির স্তর সংকটে
খুলনার ভূগর্ভের পানির স্তর নিয়ে ২০১৪-১৭ সালে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক দিলীপ কুমার দত্ত ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অ্যাওসেডের নির্বাহী পরিচালক শামীম আরেফিন। এতে দেখা যায়, নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টির পানি ব্যবহারের অনুপযোগী। শুধু ২৪ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় ভূগর্ভের পানির স্তর ভালো রয়েছে। কারণ, এই এলাকায় প্রচুর জলাভূমি ছিল।

শামীম আরেফিন সমকালকে বলেন, বছরে ৯০ থেকে ১০২ দিনের মধ্যে ১৮০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে এর ২৬ ভাগ পানি ভূগর্ভে রিচার্জ হয়। এ জন্য অনেক জলাশয় থাকতে হয়। কিন্তু দেখা গেছে, আমাদের এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমে গেছে এবং জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। এ জন্য ভূগর্ভে পানি রিচার্জ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। কারণ মিষ্টিপানির স্তর শেষ হয়ে গেছে, সেই অংশ ভরাট করবে চারপাশের নোনাপানি।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
পানি বিশেষজ্ঞ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত সমকালকে বলেন, বৃষ্টি, বন্যা ও উজানের চাপ বেশি থাকলে ওই বছরগুলোতে লবণাক্ততা কম এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। বাকি বছরগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে মধুমতীর পানি ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। ভবিষ্যতে আরও বাড়বে। এ জন্য ওয়াসাকে বিকল্প চিন্তা করতে হবে। না হলে এ প্রকল্প একসময় ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের সব বিশেষজ্ঞ ভূগর্ভের পানি উত্তোলন বন্ধের পক্ষে একমত। এ জন্যই হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সেখানে ওয়াসা কীভাবে ভূগর্ভের পানি উত্তোলন বাড়ানোর চিন্তা করছে, আমার ভাবনায় আসছে না।

খুলনা অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী। তিনি বলেন, মধুমতীর পানি নিয়ে অসংখ্য গবেষণা হয়েছে। সবাই লবণাক্ততা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন। ওয়াসা যেভাবে মধুমতীর পানি ও ভূগর্ভের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াচ্ছে, তা দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি বয়ে আনবে।

ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও নাগরিক নেতারা
৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রমেন সাহা বলেন, এ বছর পানি ঠিক ছিল। তবে অন্য বছর গরমের সময় সারাদিনে ঠিকমতো পানি পাওয়া যায়নি, পেলেও পানিতে লবণ থাকে। বাধ্য হয়ে বাড়িতে পাম্প বসিয়েছি।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ওয়াসার প্রথম প্রকল্পের পরও মানুষের পানির কষ্ট যায়নি। অনেক এলাকায় ঠিকমতো পানি যায় না। গরমের সময় লবণ থাকে, নানা সমস্যা। আবার প্রকল্প নেওয়ার পর যদি একই সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে মানুষ কোথায় যাবে।

ওয়াসার সাফাই
পানি সরবরাহ প্রকল্প ফেজ-২ তৈরি ও মনিটরিংয়ের দায়িত্ব ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল্লাহ নিজে দেখাশোনা করতেন। গত বছর তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। প্রকল্প অনুমোদন হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হয়নি।

সম্প্রতি ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু ছায়েদ মোহাম্মদ মনজুরুল আলম। তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা প্রকল্পটি তৈরির পেছনে কাজ করছেন। প্রযুক্তিগত বিষয় তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমার ভেতরও এসব নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। বিভিন্ন সময় প্রশ্নের উত্তরে তারা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলের নদনদীর মধ্যে মধুমতী নদীতে লবণাক্ততা সবচেয়ে কম থাকে। অন্য নদীতে লবণাক্ততা এর থেকেও অনেক বেশি। এ জন্য মধুমতী নদী থেকে পানি আনার বিকল্প নেই। লবণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রকৃতিগত সমাধানের পদ্ধতিতে অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন, অর্থাৎ গরমের সময় নদীর পানির সঙ্গে ভূগর্ভের পানি মিলিয়ে সরবরাহ করা হবে। পাম্পগুলো গরমের সময় বেশি ব্যবহার হবে।

তিনি বলেন, লবণপানি পরিশোধন কেন্দ্র স্থাপন করতে গেলে কয়েক হাজার কোটি টাকা বেশি খরচ হবে। এটি নিয়মিত পরিচালন ও মেরামত করা ব্যয়সাপেক্ষ। বর্তমান পানির উৎপাদন খরচ প্রতি ইউনিট (এক হাজার লিটার) ২০ টাকা। লবণ পরিশোধ কেন্দ্র স্থাপন করলে এই ব্যয় ৮/১০ গুণ বেশি হবে।

 

আরও পড়ুন

×