হাড্ডিসার ছাগলে দারিদ্র্য বিমোচনের চেষ্টা
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
মাধবপুর উপজেলায় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উদ্যোগে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে ছাগল বিতরণ কর্মসূচি ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, কম দামি ও হাড্ডিসার ছাগল কিনে সেগুলো উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মানের ছাগল পালনে লাভের সম্ভাবনা কম। এতে সরকারি টাকার অপচয় হচ্ছে। প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যাশিত সহায়তা থেকে। অনেকেই একে অসহায়দের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের প্রতারণা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ ছাড়া যারা ছাগল বিতরণের তালিকা প্রস্তুত করেন তাদের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। মূলত মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, বৈকুণ্ঠপুর, জগদীশপুর, সুরমা, তেলিয়াপাড়া চা বাগানের দরিদ্র ও বেকার লোকদের জীবনমান উন্নয়নে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দিন শেষে দায়িত্বশীলদের স্বজনরাই থাকে নামের তালিকায়।
মাধবপুর প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে দরিদ্র মানুষের আর্থিক উন্নয়ন ও আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগ গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি বিতরণ প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল পশুপালনের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করা। তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ইউপি সদস্য সাইমন মুর্মু বলেন, পাঁচটি চা বাগানে ৪০০ ছাগল বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু ছাগলের বাজারদর, কত টাকা বরাদ্দ– এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারে না প্রাণিসম্পদ অফিস। উপকারভোগীরা জানান, তারা বিনামূল্যে ছাগল পাচ্ছেন বলে প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না। অনেকের অভিযোগ, এসব ছাগলের বাজারমূল্য খুবই কম। প্রাণিসম্পদ বিভাগের একজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সব কিছু ওপরের নির্দেশে হয়। তাদের করার কিছুই থাকে না। শুধু বিতরণ করেন। এমনকি কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে বা কোন উৎস থেকে ছাগল কেনা হয়েছে, এ সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট অফিসে কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।
নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক জানান, উপকারভোগী নির্বাচনেও চলছে স্বজনপ্রীতি। প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের বদলে কর্মকর্তাদের আত্মীয়স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম তালিকায় উঠেছে। বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের ইউপি সদস্য বাবুল চৌহান বলেন, গবাদি পশু উৎপাদন, গরু-ছাগলসহ পশুখাদ্য উৎপাদন বাড়িয়ে দরিদ্র চা শ্রমিকদের মাঝে সরকার বিনামূল্যে গরু-ছাগল বিতরণ করে আসছে। এসব পশু লালনপালনের জন্য খাদ্য ও ঘর নির্মাণের সামগ্রীও দেওয়া হচ্ছে। তবে জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা কোনো তথ্য জানতে পারেন না।
ছাগল বিতরণের এক দিনের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানের সুকান্ত চৌহানের একটি ছাগল মারা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিঠুন সরকার বলেন, ঠিকাদারের মাধ্যমে ছাগল পেয়ে আমরা উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করেছি। এর বাইরে আমাদের কাছে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই। কোনো ছাগল মরে গেলে তাকে পুনরায় ছাগল দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে আমরা জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় তালিকা করে এগুলো বিতরণ করি।
- বিষয় :
- ছাগল
