রাকসুর ভোট গণনা শুরু, দেখানো হচ্ছে স্ক্রিনে
বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ভোট গণনা কার্যক্রম চলছে। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ | ২১:২৮
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে গণনা করা হচ্ছে মন্নুজান হলের ব্যালট দিয়ে।
বিকেল ৪টায় ভোটগ্রহণ শেষ হলে বিকেল পৌনে ৫টার ভেতর মিলনায়তনে ব্যালট বাক্স নিয়ে আসা হয়। পৌনে ৮টায় হলটির পোলিং কর্মকর্তা ও এজেন্টদের সামনে ব্যালট বাক্স খোলা হয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে রাকসুর ভোট গণনা শুরু করেছি। প্রথমে মন্নুজান হলের ভোট গণনা করা হবে। ধারাবাহিকভাবে আমাদের একটি হলের পরে আরেকটি হলের ফলাফল গণনা করা হবে।
রাকসু নির্বাচনের টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ খন্দকার বলেন, সন্ধ্যায় সব প্রার্থীর এজেন্টদের নিয়ে ওএমআর মেশিন পরীক্ষা করা হয়। কয়েকটি ব্যালটে পরীক্ষামূলক ভোট দিয়ে সেটি মেশিনে গণনা করা হয়। পরে সেটি সবার সামনে প্রকাশ করা হয়। প্রার্থীদের এজেন্টরাও সেটি মিলিয়ে দেখেন।

তিনি আরও বলেন, ফলাফলে যাতে কারও মনে প্রশ্ন না ওঠে এজন্য এটি করা হয়েছে। ফলে ফলাফল নিয়ে প্রার্থীদের মনে কোনো শঙ্কা তৈরি হবে না।
এদিকে ভোট গণনা কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন ও শহীদ মিনারে স্থাপিত ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি দেখানো হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিলনায়তনের মঞ্চে ছয়টি ব্যালটের জন্য আলাদা আলাদা ছয়টি ওএমআর মেশিন বসানো হয়েছে। মঞ্চের সামনে সাজানো হয়েছে বিভিন্ন হলের ভোট বাক্স। এক একটি হলের ব্যালট বাক্স খোলা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট হলের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা, রিটার্নিং কর্মকর্তা, পোলিং কর্মকর্তা ও এজেন্টদের সামনে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি মিলনায়তনে সামনে বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে। সেখানে দাঁড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া মিলনায়তনের আসনে বসে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ, গণমাধ্যমকর্মীরা।
উল্লেখ্য, এবারের রাকসু নির্বাচনে ভোটার ২৮ হাজার ৯০১। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ৯টি একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ১৭টি ভোটকেন্দ্রে। কেন্দ্রীয় রাকসুর ২৩টি পদে মোট ৩০৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদ। সিনেটের ছাত্র প্রতিনিধির পাঁচটি পদে ৫৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে ১৭টি হল সংসদের ২৫৫টি পদে মোট ৫৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটারের ৩৯ দশমিক ১০ শতাংশ নারী, ৬০ দশমিক ৯০ পুরুষ।
