রেললাইন অবরোধ করে রেলগেট বসানোর দাবি
খোকসা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়ার খোকসায় ঝুঁকিপূর্ণ রেলক্রসিংয়ে গেট বসানোর দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তারা রেললাইন অবরোধ করে রাখেন। উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের ধুসুন্ডা গ্রামে এ কর্মসূচি চলাকালে দুটি আন্তঃনগর ও একটি শাটল ট্রেন আটকা পড়ে। এতে হাজারো যাত্রীকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সোহাগী বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ট্রেনের ধাক্কায় সোনাই মোল্লা নামে একজন মারা যান। এর পর থেকে আশপাশের তিন-চারটি গ্রামের মানুষ আতঙ্কে আছেন। শিশুরা রেললাইন পার হয়ে বিদ্যালয়ে যেতে চায় না। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যেই এই ক্রসিংয়ে গেটের দাবি করেন।
নিহত সোনাই মোল্লার ভাই বাবু মোল্লা জানান, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুতে ৫ বছরের শিশু এতিম হয়েছে। সোনাইয়ের স্ত্রীর গর্ভে আরেকটি সন্তান। সেও বাবাকে দেখতে পেল না। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা এড়াতে এখানে রেলগেট ও গেটম্যান নিয়োগের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ঈশ্বরদী থেকে ভবানীগঞ্জ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার পাকা সড়কটি ধুসুন্ডা গ্রামের মধ্যে পোড়াদহ-রাজবাড়ী রেললাইন ক্রস করেছে। গেট না থাকায় এই ক্রসিং ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রায়ই এখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। এক মাসের ব্যবধানে এখানে ট্রেনের ধাক্কায় দুজন মারা গেছেন। সোনাই মোল্লার আগে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির প্রাণ গেছে।
তারা জানান, গত ৫ বছরে এই রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনা হয়েছে প্রায় ১৫টি। অনেক যাত্রী চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন। বারবার সেখানে গেট বসানোর দাবি জানিয়ে আসলেও কাজ হয়নি। বাধ্য হয়ে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ওই ক্রসিংয়ে হাতে লাল কাপড় নিয়ে সমবেত হন কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা। তারা গাছ ফেলে রেললাইন অবরোধ করেন। ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। এ সময় দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পোড়াদহগামী শাটল ট্রেনটি অবরোধকারীরা আটকে দেয়। একই কারণে রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা টুঙ্গিপাড়াগামী মধুমতি এক্সপ্রেস ও ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসও খোকসা ও পাংশা স্টেশনে আটকে ছিল।
আটকে পড়া শাটল ট্রেনের পরিচালক আবু নাইম ও চালক সুরুজ আলী বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয় লোকজন কর্মসূচি চালিয়ে যান। এক ঘণ্টা ৩৫ মিনিট পর খোকসার স্টেশনমাস্টার সুজন সরকার সেখানে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা শাটল ট্রেনটির রাস্তা থেকে সরে যান। অন্য দুটি ট্রেনও পরে যাত্রা শুরু করে।
খোকসা রেলস্টেশনের মাস্টার সুজন সরকার বলেন, স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক করেছেন। তারা লিখিতভাবে স্মারকলিপি বা আবেদন দিলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাবেন। তারা বিবেচনা করে দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।
পোড়াদহ-রাজবাড়ী রেল রুটের জুনিয়র ট্রাফিক ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলটি দুর্ঘটনাপ্রবণ বলে শুনেছেন। এলাকাবাসীর কাছ থেকে লিখিত আবেদন পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাবেন।
- বিষয় :
- রেললাইন
