সেই এসআইকে কালাই থানা থেকে প্রত্যাহার
প্রতীকী ছবি
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৪:৫৭ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৭:৫০
পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) স্বামীর মুঠোফোন ও ল্যাপটপ আটকে রাখাসহ মানসিক হয়রানির অভিযোগে তার স্ত্রী মামলা করেছিলেন গাইবান্ধা আমলি আদালতে। এতে বিবাদী করা হয়েছিল গাইবান্ধার পুলিশ সুপার নিশাত এ্যাঞ্জেলা, গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদারসহ তিনজনকে। এ ঘটনার পর জয়পুরহাটের কালাই থানায় কর্মরত এসআই মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার দাবি, স্ত্রী মামলা করার জের ধরেই তাকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত ২২ অক্টোবর গাইবান্ধা আমলি আদালতে মামলাটি করেন মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কাজলী খাতুন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। এতে বিবাদী করা হয় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও নিকটাত্মীয় তারেকুজ্জামানকে।
মামলার এজাহারে কাজলী খাতুন উল্লেখ করেন, তার স্বামী গাইবান্ধা সদর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় নিকটাত্মীয় তারেকুজ্জামান পারিবারিক শত্রুতার জেরে তার স্বামীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করেন। এরপর গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কাছেও মৌখিক অভিযোগ করেন।
এসব কারণে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার চলতি বছরের ২৫ মার্চ এসআই মনিরুজ্জামানকে তার কার্যালয়ে ডাকেন। তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করা মাত্র তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ কেড়ে নেওয়া হয়। পরে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ যাচাই-বাছাই শেষে সদর থানার ওসির কাছে রাখা হয়। এ বিষয়টি বাইরে প্রকাশ করলে তাঁর চাকরির ক্ষতি হবে বলেও ভয় দেখানো হয় তার স্বামীকে।
এতে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে (এসআই মনিরুজ্জামান) গাইবান্ধা থেকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করা হয়। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। এরপর থেকে তিনি রাজশাহী রেঞ্জের জয়পুরহাটের কালাই থানায় যোগ দেন।
এসআই মনিরুজ্জামানকে তার প্রত্যাহারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন কালাই থানার ওসি জাহিদ হোসেন। তবে এসআই মনিরুজ্জামানের দাবি, তার স্ত্রী আদালতে এসপি-ওসিসহ তিনজনের নামে মামলা করার জেরেই কালাই থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সেখানে যোগ দেন। মামলার কারণে তাকে অযাচিত হয়রানি করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি শাহিনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, মনিরুজ্জামানের এক আত্মীয় ফেসবুকে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালান। বিষয়টি শোনার পর পুলিশ সুপার তাকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। তখন এসআই মনিরুজ্জামান এসব বিষয় অস্বীকার করেন। পরে তার মুঠোফোন ও ল্যাপটপ পরীক্ষার জন্য সিআইডি পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। সিআইডির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহাব বলেন, ‘অন্য কোনো কারণে নয়, প্রশাসনিক কারণেই এসআই মনিরুজ্জামানকে কালাই থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। হয়রানির প্রশ্নই আসে না।’
গাইবান্ধার পুলিশ সুপার নিশাত এ্যাঞ্জেলা সমকালকে বলেন, এসআই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন তার বোনের সাবেক স্বামী ও স্বামীর মামাত ভাই তারেকুজ্জামান তুহিন। মূলত পাথর, রিয়াল এস্টেট ব্যবসা ও পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তুহিনকে ফ্যাসিস্ট তকমা দেন এসআই মনিরুজ্জামান। এ বিষয়ে লালমনিহাটেও মামলা আছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর তাকে অফিসে ডাকা হলেও সঠিক জবাব দিতে পারেননি। তখন তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করে ফরেনসিক টেস্টের জন্য সিআইডি হেড কোয়ার্টারে পাঠানো হয়। প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই তার স্ত্রী আমাদের তিনজনের নামে মামলা করে। বিষয়টি এখন আদালতের কাছে রয়েছে বলে জানান এসপি।
- বিষয় :
- জয়পুরহাট
- এসআই
- পুলিশ
- প্রত্যাহার
