ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কুশিয়ারায় প্রবল ভাঙনে হুমকির মুখে ১৭ গ্রাম

কুশিয়ারায় প্রবল ভাঙনে হুমকির  মুখে ১৭ গ্রাম
×

কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জগন্নাথপুরের বালিশ্রী এলাকার গ্রামীণ সড়ক সমকাল

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

দিন দিন প্রবল হচ্ছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলাধীন কুশিয়ারা নদী অংশের ভাঙনের তোড়। নদীভাঙনের কারণে অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে উপজেলার অন্তত ১৭টি গ্রাম। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই ভাঙন অব্যাহত থাকলে উপজেলার মানচিত্র থেকে বহু গ্রাম মুছে যাবে। এরই মধ্যে নদীর ভাঙনে বসতবাড়ি, গ্রামীণ জনপদ, ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, রাস্তাঘাটসহ অসংখ্য গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে।

এদিকে কুশিয়ারার ভাঙন বাড়ায় একে একে বিলীন হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। অনেকে ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। নতুন করে আবারও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয়দের।
জানা যায়, জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ, আশারকান্দি ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে অনেক প্রাচীন জনপদ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। ভাঙন রোধে মাঝে মাঝে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেলেও কাজ হয়েছে কম। এ ক্ষেত্রে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি রানীগঞ্জের বালিশ্রী গ্রামের যাতায়াতের প্রধান গ্রামীণ সড়কটি ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে অন্যান্য এলাকার সঙ্গে এই গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসী। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একের পর এক গ্রাম কুশিয়ারার ভাঙনে বিপর্যস্ত। এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের দিক থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা জানা যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরেই এই ভাঙন চলমান। গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে তারা সৌজন্যতার বুলি শোনান। স্থানীয়রা সমস্যা জানাতে গেলে দেখিয়ে দেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। যেটুকু কাজ করা হয়েছে সেখান এ পরিকল্পনার অভাব থাকলেও অনিয়মের অভাব নেই।

বালিশ্রী গ্রামের আশরাফুল হক বলেন, ইউনিয়নের ১৭টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে বালিশ্রী সড়ক। বর্তমানে সড়কটি নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা। 
গ্রামের ইয়াবর মিয়া বলেন, কুশিয়ারার তাণ্ডবে এরই মধ্যে ১২ বিঘা জমি হারিয়েছি। এখন নতুন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছি। রানীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছদরুল ইসলাম জানান, কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে রানীগঞ্জ, আশারকান্দি ও পাইলগাঁও ইউনিয়নের অসংখ্য রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, মসজিদ, মন্দির, রাস্তাঘাট, ফসলি জমিসহ বহু প্রাচীন নিদর্শন বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা আক্ষেপের সুরে বলেন, নদীভাঙনের সঙ্গে তাদের পরিচয় অনেক দিনের। বছরের পর বছর ধরে নদীর পার ভাঙে, বিলীন হয় ঘরবাড়ি। ঘরবাড়ি হারানো এই মানুষগুলোর অনেকে বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে দূরে কোথাও চলে গেছেন। কেউ নদীপারের কাছাকাছি কোথাও নতুন করে আবাস গড়েছেন। নদী ভাঙে আর ভাঙনে বিপন্ন মানুষ নতুন করে ঠিকানার খোঁজ করেন। অন্য কোথাও গিয়ে ঘরবাড়ি তৈরির সামর্থ্য যাদের নেই, তারা ঝুঁকি নিয়ে ভাঙনের কাছেই নতুন করে মাথা গোঁজার চেষ্টা করেন। তাদের এই অবস্থার কথা যেন কানেই যায় না দায়িত্বশীলদের।
উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে দায়িত্বরত উপসহকারী প্রকৌশলী সবুজ কুমার শীল জানান, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে ব্লক ফেলা হবে। পাউবো সিলেট ও মৌলভীবাজার যৌথভাবে প্রকল্প তৈরি করে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবে।

আরও পড়ুন

×